
লেক পিচোলা, আরাবল্লীর শান্ত ছায়া আর ইতিহাসের গন্ধ মাখা শ্বেতপাথরের প্রাসাদ। রাজস্থানের উদয়পুর এখন আর কেবল পর্যটন কেন্দ্র নয় বেশিরভাগ তারকাই তাঁদের বিয়ের জন্য বেছে নিচ্ছেন উদয়পুরকেই। পর্দার ‘রাউডি’ হিরো বিজয় দেবেরাকোন্ডা আর ন্যাশনাল ক্রাশ রশ্মিকা মান্দানার বিয়ে নিয়ে ভক্তদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে। সকাল থেকেই সকলের নজর তাঁদের বিয়ের দিকেই। কিন্তু এই প্রথম নয়, গত দুই দশক ধরে বলিউডের ডাকসাইটে তারকা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অনেকেরই প্রথম পছন্দ এই হ্রদনগরী। কেন সবাই এই শহরের প্রেমে পড়েন আর কারা কারা এখানে রূপকথার মতো বিয়ে সেরেছেন,জানেন?
উদয়পুরের বিলাসিতার কথা বলতে গেলে প্রথমেই আসে এখানকার হোটেল বা প্যালেসগুলোর ভাড়ার কথা। বিজয়-রশ্মিকার বিয়ের ভেন্যু ‘মোমেন্টোস বাই আইটিসি হোটেলস’-এর এক এক রাতের ঘর ভাড়া শুরুই হয় ১.৫২ লক্ষ টাকা থেকে! এর আগে পরিণীতি চোপড়া বা রাঘব চাড্ডার বিয়ের সময় ‘দ্য লীলা প্যালেস’-এর ভাড়াও ছিল আকাশচুম্বী। বিলাসিতার এই দাম দিতে পিছপা হন না তারকারা, কারণ বিয়ের দিন রাজকীয় অভিজ্ঞতাই এখন চাইছেন বেশিরভাগ তারকা।
উদয়পুরের রাজকীয়ভাবে কারা কারা সাতপাক ঘুরেছেন?
উদয়পুরকে ডেস্টিনেশন ওয়েডিং করতে প্রথম দেখা যায় রবীনা ট্যান্ডনকে। ২০০৪ সালে জগ মন্দির প্যালেসে অনিল থাদানির সঙ্গে তাঁর বিয়ে ছিল সেই সময়ের সবথেকে আলোচিত বিষয়। ১০০ বছরের পুরনো ডোলিতে চড়ে রবীনার সেই এন্ট্রি আজও এক মাইলফলক।
এরপর একে একে এই তালিকায় নাম লিখিয়েছেন অনেকে:
পরিণীতি চোপড়া ও রাঘব চাড্ডা: ২০২৪ সালে আম আদমি পার্টির নেতা রাঘব আর বলিউড অভিনেত্রী পরিণীতির বিয়ে হয় লেক পিচোলার ধারের ‘দ্য লীলা প্যালেস’-এ। নৌকায় চড়ে বরযাত্রী আসার সেই দৃশ্য ছিল পুরো সিনেমার মতো।
নীল নীতিন মুকেশ ও রুক্মিণী সহায়: ২০১৭ সালে রাডিসন ব্লু প্যালেস রিসোর্টে বসেছিল তাঁদের তিন দিনের রাজকীয় আসর।
ইশা আম্বানি ও আনন্দ পিরামল: আম্বানি পরিবারের মেয়ের প্রাক-বিবাহ অনুষ্ঠান (Pre-wedding) হয়েছিল উদয়পুরের সিটি প্যালেসে। যেখানে পারফর্ম করতে এসেছিলেন স্বয়ং পপ কুইন বিয়ন্সে।
অন্যান্য হেভিওয়েট: এছাড়াও সঞ্জয় হিন্দুজা, শ্রিয়া সরণ এবং রজত টোকাসের মতো তারকারাও তাঁদের জীবনের নতুন ইনিংস শুরু করতে বেছে নিয়েছিলেন এই মায়াবী শহরকেই।
কেন বার বার উদয়পুরকেই বেছে নিচ্ছেন তারকারা?
উদয়পুরের প্রাসাদগুলো শহরের মূল ভিড় থেকে বিচ্ছিন্ন। লেকের মাঝখানে বা পাহাড়ের খাঁজে অবস্থিত হওয়ার কারণে বাইরের মানুষের প্রবেশ প্রায় অসম্ভব। এই নিরাপত্তাই চাইছেন বহু তারকা।
এখানকার মার্বেল প্যালেসগুলোতে আলাদা করে কোনো সেট বানানোর প্রয়োজন পড়ে না। রাজস্থানি আতিথেয়তা, লোকগীতি আর মশাল জ্বালানো রাতের পরিবেশ এমনিতেই এক রূপকথার জগত তৈরি করে।
মেহেন্দি থেকে শুরু করে সঙ্গীত আর মূল বিয়ে এখানের বড় বড় হোটেলগুলোতে সব অনুষ্ঠানের জন্য আলাদা আলাদা ঐতিহ্যবাহী কর্নার রয়েছে। ফলে অতিথিদের যাতায়াতের ঝামেলা পোহাতে হয় না।
তথ্য বলছে, উদয়পুরের এই ‘ওয়েডিং ইন্ডাস্ট্রি’ এখন বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ব্যবসা ছাড়িয়ে গিয়েছে। বিজয় আর রশ্মিকা সেই দীর্ঘ তালিকায় নতুন নাম। আজ সবার নজর তাঁদের বিয়ের দিকেই।