
বলিউডের ‘হিম্যান’ তিনি। কয়েক দশক ধরে যাঁর অভিনয়ে মজে রয়েছে গোটা দেশ। যিনি চলে যাওয়ার পরেও তাঁর অভিনয়ের জন্য ছবি প্রেমীদের মননে রয়েছেন। অথচ সেই কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণে বিন্দুমাত্র সৌজন্য দেখাল না অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস বা অস্কারের মঞ্চ। ২০২৬-এর অস্কারের মঞ্চে ‘ইন মেমোরিয়াম’ বিভাগে ব্রাত্যই থেকে গেলেন ধরমজি। এই ঘটনায় কার্যত ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তাঁর স্ত্রী তথা অভিনেত্রী হেমা মালিনী। সোজা জানিয়ে দিলেন, অস্কারের এই উপেক্ষা আসলে তাদেরই লজ্জা!
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে হেমা মালিনী নিজের মনের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এটা অত্যন্ত লজ্জার বিষয়। যাঁরা বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের আবেগ, তাঁদের এমনভাবে উপেক্ষা করাটা অস্কার কর্তৃপক্ষেরই খামতি প্রমাণ করে। ধরমজিকে সারা বিশ্বের মানুষ চেনে।” তবে শুধু অভিযোগ নয়, কিছুটা অভিমানের সুরে হেমা মনে করিয়ে দেন যে, ধর্মেন্দ্র তাঁর সারা জীবনে সেভাবে কোনও পুরস্কারের তোয়াক্কা করেননি। তাঁর কথায়, “পুরস্কার বরাবরই ওকে এড়িয়ে গিয়েছে। এমনকি আমার সেরা কাজ ‘লাল পাথর’ বা ‘মীরা’র জন্যও আমি কোনও পুরস্কার পাইনি। আমরা দুজনেই এ দেশের মানুষের ভালোবাসাতে খুশি, অস্কার নিয়ে আমরা ভাবি না।”
শুধু হেমা মালিনী নন, ধর্মেন্দ্র-কন্যা এষা দেওলও এই নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এষা জানান, তাঁর বাবা কোনওদিনই এই ধরণের স্বীকৃতি নিয়ে মাথা ঘামাননি। তাঁর মন অনেক বড়, তাই অস্কারের মঞ্চে নাম থাকল কি না, তাতে তাঁর কিছু যায় আসে না।
অবাক করার মত বিষয় হল, এবারের অস্কারের ‘ইন মেমোরিয়াম’ বিভাগটি অন্যবারের তুলনায় ১৫ মিনিট বেশি দীর্ঘ ছিল। রব রেইনার বা ডায়ান কিটনের মতো হলিউড তারকাদের জন্য বিশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি থাকলেও ভারতের এই মহাতারকার নাম মূল ভিডিয়োতে জায়গা পায়নি। যদিও অ্যাকাডেমির অফিসিয়াল অনলাইন তালিকায় ধর্মেন্দ্রর নাম রাখা হয়েছে। সেই তালিকায় মনোজ কুমার, সরোজা দেবী এবং কোটা শ্রীনিবাস রাওয়ের মতো আরও পাঁচজন ভারতীয় ব্যক্তিত্বের নাম রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, মূল সম্প্রচারে কেন এই ভারতীয় কিংবদন্তিদের রাখা হল না?
২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর মুম্বইয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ধর্মেন্দ্র। বার্ধক্যজনিত কারণে বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছিল গোটা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে। মৃত্যুর পর এ বছর ১ জানুয়ারি মুক্তি পায় তাঁর শেষ ছবি ‘ইক্কিস’। শ্রীরাম রাঘবনের পরিচালনায় এই ছবিতে ধর্মেন্দ্রর অভিনয় সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ালেও বক্স অফিসে ছবিটি তেমন সাফল্য পায়নি। তবে ভক্তদের কাছে ধরমজি সবসময়ই ছিলেন ‘অজেয়’, আর অস্কারের মঞ্চের এই অবহেলা সেই আবেগে বিন্দুমাত্র আঁচ কাটতে পারেনি।