২২ বছর পর প্রাক্তন অক্ষয়ের সঙ্গে কেন জুটি বাঁধতে রাজি হন রবিনা? আসল কারণ ফাঁস করলেন পরিচালক
Iconic Bollywood couple: দীর্ঘ ২২ বছর পর ফের একসঙ্গে রুপোলি পর্দায় ফিরলেন অক্ষয় কুমার এবং রবিনা ট্যান্ডন। 'ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল' ছবির মাধ্যমে এই আইকনিক জুটির কামব্যাকের নেপথ্য গল্প এবার ফাঁস করলেন পরিচালক আহমেদ খান। তিনি জানান, বহু বছর পর এই দুই তারকাকে এক ফ্রেমে আনতে খুব বেশি কসরত করতে হয়নি। কীভাবে রাজি হন দুজনে?

নব্বইয়ের দশকের বলিউড কাঁপানো জুটি অক্ষয় কুমার (Akshay Kumar) এবং রবিনা ট্যান্ডনকে রূপোলি পর্দায় একসঙ্গে দেখার জন্য মুখিয়ে ছিলেন কোটি কোটি দর্শক। বহু বছর পর সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখিয়েছে ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ ছবিটি। বক্স অফিসে ছবিটির তুমুল সাফল্যের পর, এবার এই আইকনিক জুটিকে ক্যামেরার সামনে ফেরানোর নেপথ্য গল্প ও কাস্টিংয়ের আসল রহস্য ফাঁস করলেন পরিচালক আহমেদ খান।
দীর্ঘদিন পর দুই প্রাক্তন তারকার এই পুনর্মিলন ডিজিটাল দুনিয়ায় রীতিমতো ঝড় তুলেছে। কিন্তু ঠিক কীভাবে বলিউডের এই অন্যতম চর্চিত জুটিকে এক ফ্রেমে রাজি করালেন পরিচালক? এক সাক্ষাৎকারে আহমেদ খান জানান, ছবির শুরু থেকেই অক্ষয় কুমারের থাকাটা নিশ্চিত ছিল। এরপর চিত্রনাট্য লেখার সময় একটি বিশেষ চরিত্রের প্রয়োজন হয়। পরিচালক বলেন, “ছবির গল্পে একজন ভীষণ কড়া ধাঁচের গ্রাম্য মহিলার চরিত্র ছিল। স্ক্রিপ্টটা দেখার পরেই আমার মাথায় শুধু রবিনা ট্যান্ডনের নাম আসছিল। যেহেতু ওরা দুজনেই আমার খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু, তাই আমি সোজাসুজি রবিনার সঙ্গে কথা বলি।”
বহু বছর পর একসঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব পেয়ে কেমন ছিল দুই তারকার প্রতিক্রিয়া? আহমেদ খান জানান, তাঁদের মধ্যে কোনও জড়তা ছিল না। উল্টে তাঁরাও এই সুযোগ লুফে নেন। পরিচালকের কথায়, “ওদের যখন প্রস্তাবটা দিই, ওরা খুব সহজভাবে বিষয়টা নেয়। ওরা ভাবল যে জীবনে তো সবাই এখন অনেক এগিয়ে গিয়েছে, তাই দর্শকদের জন্য কখনও না কখনও তো আবার একসঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করতেই হত! দর্শকরা যাতে হলে এসে আনন্দ পান, সেই ভাবনা থেকেই দুজনে রাজি হয়ে যান।” তবে ছবিতে তাঁদের রসায়ন নিয়ে দর্শকদের মধ্যে হাজারো চর্চা হলেও, আহমেদ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তাঁরা যা কিছু করেছেন তা সম্পূর্ণ চিত্রনাট্য মেনেই করেছেন।
ইদানীংকালে যেখানে হিন্দি সিনেমায় কমেডি ঘরানার ছবি দর্শক টানতে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে এই ছবি কীভাবে বাজিমাত করল? আহমেদ জানান, তাঁরা সস্তা বা কুরুচিকর রসিকতা থেকে পুরোপুরি দূরে ছিলেন। ৫ বছর থেকে ৯৫ বছরের প্রত্যেকে যাতে একসঙ্গে বসে হাসতে পারেন, সেই পারিবারিক বিনোদনের ফর্মুলাই কাজ করে গিয়েছে। পাশাপাশি, এই ছবিতে ৩০ জনেরও বেশি হেভিওয়েট তারকা একসঙ্গে অভিনয় করেছেন। পরিচালক পুরো কাস্টকে কয়েকটি আলাদা আলাদা ‘মণ্ডলী’ বা গ্রুপে ভাগ করে কাজটা সহজ করে তোলেন, যাতে স্ক্রিন টাইমে কেউ ব্রাত্য না হয়ে যান।
অক্ষয়- রবিনার এই দুর্দান্ত রসায়নের পেছনে অবশ্য জড়িয়ে রয়েছে এক অতীত। নব্বইয়ের দশকে ‘মোহরা’ ছবির সেট থেকে শুরু হওয়া তাঁদের প্রেম ১৯৯৫ সালে গোপনে এনগেজমেন্ট পর্যন্ত গড়িয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে অক্ষয়ের সম্পর্কের টানাপোড়েন ও ব্যক্তিগত কিছু কারণে ১৯৯৮ সাল নাগাদ সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে একে অপরের থেকে দূরত্ব বজায় রাখার পর, সময়ের নিয়মেই সেই তিক্ততা আজ অতীত। দুজনেই এখন নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনে প্রতিষ্ঠিত ও সুখী। আর সেই কারণেই কোনও রেষারেষি না রেখে, স্রেফ পেশাদারিত্বের খাতিরে ও দর্শকদের বিনোদন দিতে ফের একবার পর্দায় ম্যাজিক তৈরি করতে একমত হয়েছেন এই দুই মেগাস্টার।
