Student Union Elections: কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ভোট কবে? মন্ত্রী জগন্নাথ বললেন…
West Bengal Student Union Elections: কলেজে ছাত্র ছাত্রী ফেরানো নিয়ে মন্ত্রীর বক্তব্যে সহমত পোষণ করে এসএফআই-র রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে বলেন, "ছাত্র ভোট এই জন্য জরুরি, কারণ ক্যাম্পাসের ভেতরে যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ গত ১৫ বছর ধরে ধ্বংস হয়েছে, সেটা পুনরুজ্জীবিত করা দরকার। এর সঙ্গে ক্যাম্পাস ফাঁকা হয়ে যাওয়াটাকে জুড়ে দিলে চলবে না।"

কলকাতা: বারবার দাবি উঠেছে। কিন্তু, বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ভোট বছরের পর বছর হয়নি। রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। এবার কি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ভোট হবে? ছাত্র ভোট নিয়ে এবার স্পষ্ট বার্তা দিলেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানিয়ে দিলেন, রাজ্যে সরকার পরিচালিত এবং সরকারি পোষিত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ছাত্র-ছাত্রী ফেরানোই সরকারের প্রথম কাজ।
কী বললেন মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়?
কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ছাত্র ভোট নিয়ে উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “রাজ্য সরকারের অগ্রাধিকারে রয়েছে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা ফেরানো। ছাত্রভোট তখনই হবে, যখন কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্র-ছাত্রী থাকবে। গত ১৫ বছরের প্রবণতা বলছে, কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্র-ছাত্রী থাকছে না। তারা বেসরকারি ক্ষেত্রে ভিন রাজ্যে চলে যাচ্ছে। আমাদের প্রথম কাজ, পশ্চিমবঙ্গ সরকার পরিচালিত, সরকার পোষিত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ছাত্র-ছাত্রী ফেরানো। ছাত্র-ছাত্রী ফিরলেই তবে না ছাত্র ভোট হবে।”
কী বলছেন ছাত্র সংগঠনগুলির নেতারা?
কলেজে ছাত্র ছাত্রী ফেরানো নিয়ে মন্ত্রীর বক্তব্যে সহমত পোষণ করে এসএফআই-র রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে বলেন, “এটা স্পষ্ট, গত ১৫ বছর ধরে রাজ্যের সরকারি স্কুলশিক্ষা, কলেজশিক্ষা, উচ্চশিক্ষা উচ্ছন্নে পাঠানো হয়েছে। যার ফলে ক্যাম্পাসে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ক্রমশ কমছে। কলকাতার বুকে এই শিক্ষাবর্ষে স্নাতকস্তরে ৯৩ হাজার আসন সংখ্যা। তার মধ্যে এখনও পর্যন্ত ৩৩ হাজার ভর্তি হয়েছে। অর্থাৎ ৬০ হাজার আসন ফাঁকা শুধু কলকাতাতে। তবে ছাত্র ভোট এই জন্য জরুরি, কারণ ক্যাম্পাসের ভেতরে যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ গত ১৫ বছর ধরে ধ্বংস হয়েছে, সেটা পুনরুজ্জীবিত করা দরকার। এর সঙ্গে ক্যাম্পাস ফাঁকা হয়ে যাওয়াটাকে জুড়ে দিলে চলবে না।”
ছাত্র ভোট তাঁরাও চান জানিয়ে এবিভিপি নেতা শুভব্রত অধিকারী বলেন, “শিক্ষাক্ষেত্রে যে বেহাল অবস্থা, সেটা ফেরানো সরকারের কাছে চ্যালেঞ্জ। শিক্ষাব্যবস্থা আগের জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করা পশ্চিমবঙ্গ মানুষের কাছেও বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা ছাত্র ভোটের পক্ষে। আমরা চাই, লিংডো কমিশনের সুপারিশ মেনে ছাত্র ভোট হোক। এর আগে একাধিকবার সরকার ছাত্র ভোট নিয়ে সদর্থক বার্তা দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী একবার বলেছেন, ছাত্র ভোট হওয়া জরুরি। কিন্তু, শিক্ষা ব্যবস্থার যে বেহাল দশা, সেটা পুনরুদ্ধার করাও একইভাবে জরুরি।”
এই নিয়ে তৃণমূলের প্রাক্তন ছাত্র নেতা তথা ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের মুখপাত্র কোহিনুর মজুমদার বলেন, “কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা হবে, সেটাই তো কাম্য। আমরা তৃণমূল ছাত্র পরিষদে থাকাকালীন বারবার চেয়েছিলাম, ভোট হোক। এবং আমাদের নেত্রী প্রতি ২৮ অগস্ট বলতেন, ভোট হবে। কিন্তু, হত না। এই সরকার ভোটের সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারা ছাত্র ভোট করাবে। আমার ধারণা, এই সরকার তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে। তারপর স্বচ্ছ ভোট হলে দেখা যাবে, আমার সংগঠন জিতবে না অন্যের সংগঠন।”
