AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

দেবলীনার কান্না নিয়ে ট্রোলিং, বক্তব্য শুনেই, বিস্ফোরক অভিনেত্রী

'ছবিওয়ালা'-র প্রচারপর্ব বা 'নেভারমাইন্ড' ছবির প্রিমিয়ারে, দেবলীনা দত্তর চোখে জল দেখা গিয়েছে। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন তাঁর বন্ধু। সেই বন্ধুর অকালমৃত্যুতে বা ছবির প্রচারে অনুপস্থিতিতে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন দেবলীনা। আবার চৈতী ঘোষালের ছবি দেখেও আবেগ শুধু নিজের করে রাখেননি অভিনেত্রী।

দেবলীনার কান্না নিয়ে ট্রোলিং, বক্তব্য শুনেই, বিস্ফোরক অভিনেত্রী
| Updated on: Jul 04, 2026 | 4:12 PM
Share

‘ছবিওয়ালা’-র প্রচারপর্ব বা ‘নেভারমাইন্ড’ ছবির প্রিমিয়ারে, দেবলীনা দত্তর চোখে জল দেখা গিয়েছে। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন তাঁর বন্ধু। সেই বন্ধুর অকালমৃত্যুতে বা ছবির প্রচারে অনুপস্থিতিতে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন দেবলীনা। আবার চৈতী ঘোষালের ছবি দেখেও আবেগ শুধু নিজের করে রাখেননি অভিনেত্রী। এই নিয়ে সমাজ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড়। একজন লিখেছেন, ”একজন অভিনেত্রীকে আজকাল বিভিন্ন জায়গায় কাঁদতে দেখা যাচ্ছে!” আর একজন লিখেছেন, ”কান্না দিয়েই ভিউ বাড়াতে চাইছেন দেবলীনা”। সমাজ মাধ্যমে দেবলীনার কিছু সহকর্মী এমন মন্তব্যের বিরোধিতা করেছেন।

টিভি নাইন বাংলাকে এই প্রসঙ্গে দেবলীনা বললেন, ”শুরু এটা দিয়ে করি, কারও জুতোয় পা না রেখে কথা বলা খুব সহজ। কিন্তু জুতোয় পা রাখলে, জুতোর মাপ, জুতোর উচ্চতা সবটা বোঝা গেলে, একটা কমেন্ট করে ফেলার পর আফসোস হতে পারে। নয় বছর বয়সে যখন আমার পিতৃবিয়োগ হয়, আমি বহু মাস অবধি মেনেই নিতে পারিনি, এই ঘটনা ঘটেছে। খুব আকস্মিক ছিল ঘটনাটা। তখন আমার একটা মানসিক ব্যাধি হয়, যেটাকে বলা হয় নিহিলিজম। আমি অত্যন্ত বাস্তববাদী মানুষ হওয়া সত্ত্বেও, একটি বিষয়ে প্র্যাক্তিকাল হতে পারিনি। সেটা হচ্ছে আকস্মিক মৃত্যু। সেটা হলেই আমার নিহিলিজম অ্যাটাক হয়। এই অ্যাটাক প্রথম বুঝতে পারি ক্লাস ফাইভে, তারপর ক্লাস ইলেভেনে, তারপর আবার অ্যাটাক হয় ফার্স্ট ইয়ারে। বিভিন্নবার কোনও মৃত্যু তার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল। প্রথমবার যখন সাইকিয়াট্রিস্ট দেখাই, তখন নিহিলিজম অ্যাটাকে বিছানাবন্দি হয়ে গিয়েছিলাম। মাথা তুলে মা খাইয়ে দিতেন। বমি করে ফেলতাম পাঁচ মিনিট পর। ‘এক আকাশের নীচে’ চলাকালীন আমার দাদু মারা যান। তখন দু’ থেকে আড়াই মাস, এমন অ্যাটাকে ভুগেছিলাম। সেই সময়ে সারাদিন কাঁদতাম। এখন যে কোথায়-কোথায় গিয়ে কেঁদে ফেলছি বলে কথা হচ্ছে, সেই সময়ে দাশগুপ্ত পরিবার মানে ওই ধারাবাহিকের পরিবার, ওঁরা জানেন, কত কাঁদতাম আমি”

দেবলীনা যোগ করলেন, ”ফলে যে মানুষটার সঙ্গে একটা ছবি শুটিং করেছি খুব বেশিদিন আগে নয়, ছবির মূল চরিত্রে বাবিন (রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়) আর আমি, সেটা যখন বাধা কাটিয়ে মুক্তি পাচ্ছে, এদিকে বাবিন আর নেই, এটা আমার জায়গায় যেই থাকত, তার মানসিক অবস্থা আমার মতোই হওয়ার কথা। বাবিন তো অনেক বছরের বন্ধু। ওঁর পরিবারের সঙ্গে আমার পারিবারিক সম্পর্ক। মাসি, দাদাভাই, প্রিয়াঙ্কা, সহজ, কুট্টুস, এদের প্রত্যেকের সঙ্গে আমার পরিবারিক সম্পর্ক। তাই আমার যে আবেগ বাইরে সকলের চোখের সামনে আসছে, সেটা না হওয়াটাই অস্বাভাবিক নয় কি? ‘ছবিওয়ালা’-র প্রচারে আমাকে বারবার যেতে হচ্ছে আর আমার চোখে জল এসেছে। সেটা যদি না হয়, তা হলে আমি তো মানুষই নয়। যাদের এটা অস্বাভাবিক লাগছে, তাদের জন্য মায়া হচ্ছে। তা হলে তাঁদের জীবনে এমন বন্ধু, এরকম আবেগ, কাছের মানুষদের থেকে পান না, বা তাঁদেরও এমন অনুভূতি কাছের মানুষদের জন্য হয় না। তাই তাঁরা বুঝতে পারছেন না। আর নিহিলিজম অসুখে কান্না শুরু হলে, কান্না থামে না। সেই কান্না থামানোর জন্য এসওএস ওষুধ খেতে হয়।

বাবিনের বিষয়টা নিয়ে যখন ডাক্তারকে ফোন করি, উনি বলেন, ”দেবলীনা, সকলেরই তো বয়স বাড়ছে। কান্না চাপাটা শারীরিক ক্ষতি করে দিতে পারে। তাই যখন কান্না পাবে, চাপবে না। গুলি মারো, লোকে কী বলছে।” এরপর এল ‘নেভারমাইন্ড’, যেখানে লোকে আমাকে কাঁদতে দেখলেন। চৈতীদি (ঘোষাল) আর বাবি (অমর্ত্য) আমার পরিবারের মতো। ‘এক আকাশের নীচে’ শেষ হয়ে গিয়েছে, কিন্তু আমাদের পরিবার থেকে গিয়েছে। বাবি যতটা চৈতীদির ছেলে, ততটা আমার ছেলে। উনি নিজেও সেটা মনে করেন। আমার সন্তামসম কেউ, এরকম অসাধারণ অভিনয় করেছে, এবং আমার দিদি অসম্ভব ভালো একটা ছবি তৈরি করেছে, সেটা দেখে একজন শিল্পী হিসাবে আমার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়াটাই স্বাভাবিক। কারণ এই ছবি দেখে বের হওয়ার সময়ে আমার মুখের উপর ক্যামেরা ছিল বলে, আমাকে কাঁদতে দেখা গিয়েছে। আসলে প্রতিটা লোক কাঁদছিল। ‘দ্য কিংস স্পিচ’ ছবি দেখে আমি সারারাত কেঁদেছিলাম। কোনও কাজ দেখে যদি আমি আবেগপ্রবণ না হয়ে পড়ি, তা হলে আমি কেন শিল্পী? আমার শৈল্পিক মন এতটাই নরম, আমি জীবনের সম্পর্ক নিয়ে এতটাই যত্নশীল। সম্পর্কগুলো এতটাই গভীর যে আমি আমার কাছের মানুষকে হারালে কাঁদি। আমার তাঁদের কথা বারবার মনে পড়ে। আমার কাছের মানুষ ভালো কাজ করলে চোখে জল আসে। বাবিনের ঘটনা, ‘ছবিওয়ালা’-র মুক্তি আর ‘নেভারমাইন্ড’ ছবির মুক্তি সবই পরপর ঘটেছে। তা না হলে মানুষ আমাকে অনেকদিন পরপর কাঁদতে দেখতেন! কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো, যাঁকে ভালোবাসি, তাঁর ভালো কাজ দেখে, আমার চোখে জল আসবে, এটাই কি স্বাভাবিক নয়?”

Follow Us