ডিভোর্সের পর হৃত্বিক কত কোটি টাকা দিয়েছিলেন সুজানকে?
হৃত্বিক রোশন ও সুজান খান ২০০০ সালের ডিসেম্বরে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। তাদের ঘরে রেহান ও রিদান নামে দুই সন্তান রয়েছে। ২০১৩ সালে আলাদা হওয়ার পর ২০১৪ সালে তাদের আইনি বিচ্ছেদ সম্পূর্ণ হয়। তবে বিচ্ছেদের পরও সন্তানদের স্বার্থে এবং বন্ধুত্বের খাতিরে হৃত্বিক ও সুজানকে প্রায়শই একসঙ্গে সময় কাটাতে দেখা যায়। ফারহার এই মন্তব্যের পর দীর্ঘদিনের ‘৪০০ কোটি টাকার খোরপোশ’-এর গুঞ্জনে অবশেষে ইতি পড়ল।

বলিউড অভিনেতা হৃত্বিক রোশন এবং সুজান খানের বিবাহবিচ্ছেদ একসময় বলিউডের খবরে শিরোনামে জায়গা করে নিয়েছিল। সেই সময় দীর্ঘ গুঞ্জন ছিল যে, বিচ্ছেদের পর হৃত্বিকের থেকে ৪০০ কোটি টাকা খোরপোশ (Alimony) দাবি করেছিলেন সুজান। তবে দীর্ঘদিনের এই জল্পনা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিলেন সুজানের দিদি তথা জুয়েলারি ডিজাইনার ফারহা খান আলি।
সম্প্রতি সাংবাদিক ভিকি লালওয়ানির ইউটিউব চ্যানেলে এক সাক্ষাৎকারে ফারহা স্পষ্ট জানান, খোরপোশের ওই খবরগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ছিল এবং তাদের বিবাহবিচ্ছেদটি অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে হয়েছিল। চারপাশের তুমুল চর্চা ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কাটাছেঁড়ার মধ্যেও হৃত্বিক ও সুজান অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে জীবনের সেই কঠিন পরিস্থিতি সামলেছিলেন।
সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে ফারহা বলেন, “সেদিন সবাই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। চারপাশে তুমুল শোরগোল ও নানা মতামত তৈরি হয়েছিল তাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে। কিন্তু আমার মনে হয়, ওরা দুজনেই গোটা বিষয়টা খুব সুন্দরভাবে সামলেছে। বিচ্ছেদটা তিক্ত ছিল না। তবে একটা কথা আমি রেকর্ড অন করে বলতে চাই— ৪০০ কোটি টাকার খোরপোশের খবরটা সম্পূর্ণ ভুয়ো। যখনই অনলাইনে দেখি মানুষ বলছে ৪০০ কোটি টাকা পেয়ে সুজান নাকি ধনী হয়ে গেছেন, তখন আমার খুব খারাপ লাগে। এটা একদম মিথ্যা কথা।”
ফারহা আরও দাবি করেন যে, বিচ্ছেদের অংশ হিসেবে সুজান হৃত্বিকের কাছ থেকে কোনও টাকাপয়সাই নেননি। এই গুজবকে ‘সম্পূর্ণ অসত্য’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তাদের মা ছোটবেলা থেকেই শিক্ষা দিয়েছেন যে— বস্তুগত সম্পদের চেয়ে সম্পর্কের মূল্য অনেক বেশি। আর এই কারণেই আজ সুজানের সঙ্গে হৃত্বিক এবং তাঁর বাবা-মা (রাকেশ রোশন ও পিঙ্কি রোশন)-এর সম্পর্ক এতটাই মধুর।
বিবাহবিচ্ছেদ থেকে সুজান আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন— এই ধারণাকে খারিজ করে ফারহা জানান, সুজান একটি অত্যন্ত সম্মানিত পরিবারের মেয়ে এবং সবসময় তিনি নিজের আত্মমর্যাদা বজায় রেখে চলেছেন। হৃত্বিক ও সুজান দুজনেই মার্জিত ব্যক্তিত্বের মানুষ, তাই বৈবাহিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে না পারলেও তারা নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনকে কখনও পাবলিক তামাশায় পরিণত করেননি।
ফারহা আরও জানান, ২০১৪ সালে আইনি বিচ্ছেদ চূড়ান্ত হওয়ার পর তিনি সুজানকে বারবার অনুরোধ করেছিলেন এই ৪০০ কোটি টাকার মিথ্যা খবরের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে। কিন্তু সুজান নীরব থাকাই পছন্দ করেছিলেন। ফারহার কথায়, “আমি যখন সুজানকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘তুমি কেন এসব অস্বীকার করছ না?’ ও জবাবে বলেছিল, ‘লোকে আমার সম্পর্কে কী ভাবল, তাতে আমার কিচ্ছু যায় আসে না ফারহা।'”
হৃত্বিক রোশন ও সুজান খান ২০০০ সালের ডিসেম্বরে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। তাদের ঘরে রেহান ও রিদান নামে দুই সন্তান রয়েছে। ২০১৩ সালে আলাদা হওয়ার পর ২০১৪ সালে তাদের আইনি বিচ্ছেদ সম্পূর্ণ হয়। তবে বিচ্ছেদের পরও সন্তানদের স্বার্থে এবং বন্ধুত্বের খাতিরে হৃত্বিক ও সুজানকে প্রায়শই একসঙ্গে সময় কাটাতে দেখা যায়। ফারহার এই মন্তব্যের পর দীর্ঘদিনের ‘৪০০ কোটি টাকার খোরপোশ’-এর গুঞ্জনে অবশেষে ইতি পড়ল।
