Calcutta High Court: ‘অভিষেকের আইনজীবী কে?’ বিচারপতির প্রশ্ন শুনেই ভরা এজলাসে ইতস্তত কল্যাণের, অস্বস্তি বাড়ছে?
Kalyan Banerjee at High Court: বিতর্ক যখন তুঙ্গে, তখন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অভিষেক বলেছিলেন, “কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের অধিকার রয়েছে আমাকে নিয়ে কথা বলার। অধিকার রয়েছে চারটে কটু কথা বলার। ছোট থেকে মানুষ করেছেন। বড় হতে দেখেছেন।” ব্যাস, এতেই রাগ পড়ে যায়। অন্তত সেটাই মনে হয়েছিল কল্যাণের কথায়।

কলকাতা: রাগারাগি হয়েছিল, আবার সব মিটেও গিয়েছিল। প্রকাশ্য়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ পরও, অভিষেক ‘পিতৃতুল্য’ বলায় কার্যত গলে গিয়েছিলেন কল্যাণ। কিন্তু, শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) এজলাসে যা ঘটল, তাতে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, আদৌ কি সব মিটেছে? নাকি মুখে বললেও নিজের অবস্থানে অনড় আছেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্য়ায়?
২০২৫-এর ২১ জুলাই পালন নিয়ে একটি আদালত অবমাননার মামলার শুনানি ছিল শুক্রবার। হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে ধর্মতলায় রাস্তা আটকে সভা করার অভিযোগে এই আদালত অবমাননার মামলা হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। নিয়ম অনুযায়ী, এই ধরনের আদালত অবমাননার মামলায় দুই পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শোনা হয়।
অভিষেকের আইনজীবী কে?
বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি ওঠে। সেখানে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে সওয়াল করতে চান। বিচারপতি প্রশ্ন করেন, তাহলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে কে বলবেন? এই প্রশ্ন শুনে কল্যাণ একটু ইতস্তত করলে, আদালতের বক্তব্য, তাহলে তো তাঁর বিরুদ্ধে রুল জারি করতে হয় (যদি কোনও আইনজীবী না থাকে)। এদিকে, মামলাটিতে অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড হিসেবে মমতা ও অভিষেক দুজনের হয়েই ওকালতনামা দিয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
১১ জুন, কল্যাণ বলেছিলেন, ‘মমতাকে বাছতে হবে হয় আমি, নয় অভিষেক’
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্য়ায় অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর যেদিন অভিষেকের হয়ে আদালতে সওয়াল করার কথা, তার আগের রাতে আচমকা আইনজীবী বদল করার কথা জানিয়ে দেন অভিষেক। মেসেজ করে জানিয়ে দেওয়া হয় সিদ্ধান্তের কথা। সেই ঘটনায় যারপরনাই ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন কল্যাণ। তিনি বলেছিলেন, “এত ঔদ্ধত্যের কী আছে! সময় থাকতে শিক্ষা পেল না। আমি তো ক্যামাক স্ট্রিটের কর্মী নই। আজকে বুঝতে হবে, ওর জন্য দলটার সর্বনাশ হয়েছে। এখনও যদি ওটা না বোঝে, তাহলে কিছু করার নেই।” সরাসরি কল্যাণ বলেছিলেন, ‘মমতাকে বাছতে হবে হয় আমি, নয় অভিষেক।’
২ দিনের মধ্যেই রাগ পড়ে যায়
বিতর্ক যখন তুঙ্গে, তখন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অভিষেক বলেছিলেন, “কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের অধিকার রয়েছে আমাকে নিয়ে কথা বলার। অধিকার রয়েছে চারটে কটু কথা বলার। ছোট থেকে মানুষ করেছেন। বড় হতে দেখেছেন।” ব্যাস, এতেই রাগ পড়ে যায়। অন্তত সেটাই মনে হয়েছিল কল্যাণের কথায়। বলেছিলেন, ‘অভিষেক সন্তানের মতো, ভুল স্বীকার করলে সব মাফ’। তবে শুক্রবারের ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, আদৌ কি মাফ করে দিতে পেরেছেন অভিষেককে? নাকি সত্যিই অভিষেকের মামলা থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন কল্যাণ?
হলফনামা দেওয়ার নির্দেশ
শুক্রবারের শুনানিতে আদালত জানিয়ে দেয়, চার সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা দিতে হবে। পরের দু’সপ্তাহে মামলাকারী হলফনামা দিলে, ১৭ আগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
