Kunal Ghosh: ‘নাবালক পুত্রও হাফমন্ত্রীর লাটসাহেবিতে’, কাকে নিশানা কুণালের? বললেন ‘এক মাঘে শীত যাবে না’
TMC Crisis: বৃহস্পতিবার যাঁরা বিরোধী দলনেতা ঋতব্রতর সঙ্গে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দফতরে গিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন জাভেদ খান, আখরুজ্জামান, গোলাম রব্বানীর মতো প্রাক্তন মন্ত্রীরা। সেই সঙ্গে ছিলেন আরও এক প্রাক্তন মন্ত্রী, স্নেহাশিস চক্রবর্তী, যিনি এবার বিধায়ক হননি।

কলকাতা: দলের অন্দরে চরম ভাঙন। তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) যে এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির মধ্য়ে দিয়ে যাচ্ছে, তা দৃশ্যত স্পষ্ট। ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্য়ায় জাতীয় নির্বাচন কমিশনে উপস্থিত হওয়ার পর টানাপোড়েন আরও বাড়ছে। দল কার, প্রতীক কার, দলের টাকাই বা কার! এসব টানাপোড়েন তো আছেই, তারই মধ্যে কোনও এক প্রাক্তন মন্ত্রীকে নিশানা করলেন তৃণমূলের মুখপাত্র তথা দলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ।
সোশ্যাল মিডিয়ায় নাম না করে কোনও এক প্রাক্তন মন্ত্রীকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন কুণাল ঘোষ। নাম না করলেও পোস্টটি পড়লেই বোঝা যাচ্ছে, এমন কারও কথা বলা হচ্ছে, যিনি তৃণমূল সরকারের মন্ত্রী ছিলেন, বর্তমানে ঋত-শিবিরে নাম লিখিয়েছেন।
কুণাল ঘোষ লিখেছেন, “মানুষ কতটা নোংরা হতে পারে। মমতাদি ক্ষমতায় থাকলে মন্ত্রী। নাবালক পুত্রও হাফমন্ত্রীর লাটসাহেবিতে। সরকার চলে গেলে সঙ্গে সঙ্গে কর্মীদের পাশে না থেকে অবসর ঘোষণা। তারপর আবার রাতারাতি মমতাদির সঙ্গে বেইমানি করা গ্যাং-এ ‘আসল’ তৃণমূল দাবি করে। এরা মানুষ?” এক মাঘে শীত যায় না বলে ওই নেতাকে বার্তাও দিয়েছেন কুণাল ঘোষ।

প্রশ্ন হল, কে এই নেতা, যিনি তৃণমূল জমানায় মন্ত্রী ছিলেন, আর এখন বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীতে নাম লিখিয়েছেন? বৃহস্পতিবার যাঁরা বিরোধী দলনেতা ঋতব্রতর সঙ্গে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দফতরে গিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন জাভেদ খান, আখরুজ্জামান, গোলাম রব্বানীর মতো প্রাক্তন মন্ত্রীরা। সেই সঙ্গে ছিলেন আরও এক প্রাক্তন মন্ত্রী, স্নেহাশিস চক্রবর্তী, যিনি এবার বিধায়ক হননি। ইঙ্গিত কি সেই প্রাক্তন পরিবহনমন্ত্রী স্নেহাশিসের দিকেই?
উল্লেখ্য, বিধানসভা ভোটে পরাজয়ের পর স্নেহাশিস জানিয়েছিলেন, তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে আর থাকবেন না। দলের কর্মী বা সমর্থক হিসেবে থাকার কথা বলেছিলেন তিনি। আবার তাঁকেই দেখা গেল ঋতব্রত-শিবিরের সঙ্গে। সাংবাদিক বৈঠক করার সময় ঋতব্রত নিজেই জানিয়েছিলেন স্নেহাশিসের উপস্থিতির কথা। তবে এই বিষয়ে স্নেহাশিসের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলটিও ‘লক’ করা আছে।
বিজেপি অবশ্য এ ব্যাপারে মাথা ঘামাতে রাজি নয়। মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “এটা ওদের আভ্যন্তরীণ বিষয়। আমরা কিছু বলতে পারব না। তৃণমূলে কে নতুন সর্দারের সঙ্গে থাকবে, কে পুরনো সর্দারের সঙ্গে যাবে, এটা তাদের ব্যাপার।”
