
বাংলায় উত্সবের মরসুমে অনেক সময়েই হিন্দি ছবির কাছে কোণঠাসা হয়ে পড়ে বাংলা ছবি। অতীতে এমন ঘটনা বহুবার ঘটেছে। রাজ্য সরকারের তরফে এই ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। ২০২৫-এ ফিরে যাওয়া যাক। ‘ধূমকেতু’ মুক্তির সময়ে হৃতিক রোশন-কিয়ারা আডবানি অভিনীত ‘ওয়ার টু’ ছবির মুক্তি ছিল। সেই ছবি বাংলা ছবির সঙ্গে শো ভাগ করে নেবে না সিঙ্গল স্ক্রিনে, এমন শর্ত আসায় বাংলা ছবির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জোট বেঁধে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছিলেন। এরপর রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপে ঠিক হয়, বিকেল তিনটে থেকে ন’ টার মধ্যে প্রাইম টাইমে বাংলা ছবিকে প্রাধান্য দিতে হবে।
এরপর বাংলা ছবির স্ক্রিনিং কমিটিও তৈরি হয়। কারণ উত্সবের মরসুমে একাধিক বাংলা ছবি মুক্তি পাওয়ায়, তীব্র প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছিল। অবাক করার মতো ঘটনা হলো, ২০২৬-এর প্রথম উত্সবের মরসুমে, বাংলা ছবিই নাকি কোণঠাসা হয়ে যাচ্ছে সিঙ্গল স্ক্রিনে, এত কিছুর পর! অশোকা এবং মেনকা সিনেমা হলের তরফে TV9-কে জানানো হলো, ”মেনকা-তে তিনটে শো পাবে ‘বর্ডার টু’। সেই সঙ্গে একটা শো পাচ্ছে ‘হোক কলরব’। অশোকা-তে ‘প্রজাপতি টু’ চলবে। সঙ্গে আর কী ছবি চলবে, তা ঠিক হয়নি।” দক্ষিণ কলকাতার আর একটা নামী হলে, হিন্দি ছবি প্রাধান্য পাচ্ছে বলে জানা গেল।
এই প্রসঙ্গে প্রযোজক রানা সরকারের বক্তব্য, ”মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছিলেন বাংলা সিনেমাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, কাদের এত সাহস সেই নিৰ্দেশ অগ্রাহ্য করে হিন্দি সিনেমাকে বেশি শো দেবে ? একটা সিনেমা হলে চারটে শো থাকলে, তিনটে শো হিন্দি ছবি পাবে আর একটা ছবি বাংলা শো পাবে, এটা কাম্য নয়। এই নিয়ে স্ক্রিনিং কমিটির শেষ বৈঠকে আলোচনাও হয়েছে। সেখানে বাংলা ছবিকে প্রাধান্য দেওয়ার দাবি পেশ করেছি আমরা।”
তা হলে বারংবার একই আলোচনা হওয়ার পর এই সরস্বতী পুজোয় খাতায়-কলমে কী করে হিন্দি ছবি প্রাধান্য পায়? ইমপা-র সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত TV9 বাংলাকে জানালেন, ”মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী বলে দেওয়া হয়েছিল বাংলা ছবিকে প্রাধান্য দিতে হবে। গত দিন স্ক্রিনিং কমিটির মিটিংয়ে এই বিষয়টা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। দেব এই কথা বলেছেন যে, কোন সিনেমা হল মালিক কোন ছবি দর্শককে দেখাবেন, সেই ব্যাপারে তাঁদের সিদ্ধান্ত নিতে দেওয়া হোক। সিনেমা হল মালিকরাও সেই দাবি করেছেন। তাতে সমস্যা নেই। কিন্তু তিনটে হিন্দি ছবির সঙ্গে একটা বাংলা ছবি কেন চলবে? যেখানে তিনটে বাংলা ছবি মুক্তি পাচ্ছে, অন্তত দু’টো বাংলা ছবি সিঙ্গল স্ক্রিনে চলতেই পারে। হল মালিকদের কাছে বাংলা ছবিকে প্রাধান্য দেওয়ার অনুরোধ করব। না হলে ইন্ডাস্ট্রির উন্নতি আটকে যাবে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রযোজকের বক্তব্য, ”এবার তিনটে বাংলা ছবি মুক্তি পাচ্ছে। শোয়ের সংখ্যা পর্যাপ্ত না হলে, তিনটে ছবি ভালো ব্যবসা করবে কী করে? তা হলে হিন্দি ছবি বাংলা ছবির চেয়ে এগিয়ে যাবে। আর বাংলা ছবির নামী তারকাদের সেটা বসে-বসেই দেখতে হবে!” হাতে আর ৭২ ঘণ্টা। এই সমস্যার কোনও সমাধান বের হবে কিনা, সেটা দেখার অপেক্ষা।