শুটিংয়ে গিয়ে মৃত্যু, রাহুল-রাজনীতিতে টলিপাড়া ভাগ শিবিরে, কোন শিবিরে কে?
২৯ মার্চ মৃত্যু হয়েছে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। শুটিং করতে গিয়ে প্রাণ চলে গেল রাহুলের। সমুদ্রের জল আর বালি ঢুকে গিয়েছিল অভিনেতার শরীরে। ৩০ মার্চ শহরে আসে রাহুলের নিথর দেহ। শুটিংয়ে ব্যবস্থাপনা কেমন ছিল, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

২৯ মার্চ মৃত্যু হয়েছে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। শুটিং করতে গিয়ে প্রাণ চলে গেল রাহুলের। সমুদ্রের জল আর বালি ঢুকে গিয়েছিল অভিনেতার শরীরে। ৩০ মার্চ শহরে আসে রাহুলের নিথর দেহ। শুটিংয়ে ব্যবস্থাপনা কেমন ছিল, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
রাহুলের জন্য জাস্টিস চেয়ে ৪ এপ্রিল পথে নামছেন অভিনেতার সহকর্মী-বন্ধুরা। কে-কে আছেন সেই বন্ধু-শিবিরে? অপর্ণা সেন, ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত, শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, রানা সরকার, সৌরভ দাস, অরিন্দম শীল, বাদশা মৈত্র, অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়, সৌরভ পালোধী, রূপাঞ্জনা মিত্র, ঋদ্ধিমা ঘোষ, শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, গৌরব চক্রবর্তী, জিনিয়া সেন, অঙ্কুশ হাজরা, সোহিনী সরকার, তথাগত মুখোপাধ্যায়, কৌশিক সেন, রেশমী সেন, জয়ব্রত দাস, রাজা চন্দ, অঞ্জন দত্ত নীল দত্ত, ইন্দ্রাশিস রায়, ইশা সাহা, পায়েল সরকার, কিউ, রঞ্জন ঘোষ, জয়রাজ ভট্টাচার্য, ইন্দ্রাশিস আচার্য, সুরঙ্গনা বন্দ্যোপাধ্যায়, ঋদ্ধি সেন, অনির্বাণ ভট্টাচার্য, জীতু কমল, অনন্যা চট্টোপাধ্যায়, ঋত্বিক চক্রবর্তী, অপরাজিতা ঘোষ, সুদীপ্তা চক্রবর্তী, সুদীপা চট্টোপাধ্যায়, স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় থেকে অনির্বাণ চক্রবর্তী, রুদ্রনীল ঘোষের নাম রয়েছে আবেদনপত্রে। এখানে রাজনীতির গেরুয়া-সবুজ-লাল শিবির মিশে গিয়েছে অনায়াসে। রাজনীতির সবুজ শিবিরের কাঞ্চনের পাশেই হাঁটতে প্রস্তুত গেরুয়া শিবিরের রুদ্রনীল। পরিচালক রাজ চক্রবর্তী আর শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ও এই মিছিলের আহ্বায়ক হিসাবে বাকি ৪০ জনের সঙ্গে। যদিও অতীতে কাজের নিরিখে রাজ আর রাহুলের সখ্যে চিড় ধরেছিল।
টলিপাড়ার এই মিছিলের আহ্বায়করা চারটি সংগঠনের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল, শনিবার বিকেলে তিন ঘণ্টার জন্য শুটিং বন্ধের নির্দেশ দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য। কিন্তু সে ব্যাপারে সাড়া দেয়নি আর্টিস্টস ফোরাম। যে আর্টিস্টস ফোরামের একেবারে মাথায় রঞ্জিত মল্লিক আর প্রসেনজিত্ চট্টোপাধ্যায়, সেই ফোরাম এই মিছিলেরও ডাক দেয়নি। ফোরামের তরফে সংবাদমাধ্যমকে এক বিবৃতিতে জানানো হল, ”আগামী শনিবার, ৪ তারিখ বিকেল চারটে থেকে সদ্য ঘটে যাওয়া রাহুলের মর্মান্তিক পরিণতির প্রতিবাদে, একটা মিছিল করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে আর্টিস্টস ফোরামকে এই মিছিলে অংশগ্রহণ করার জন্য অফিশিয়ালি কোনও আহ্বান জানানো হয়নি। আমরা সংগঠন হিসাবে এর আহ্বায়কও নই, এতে অংশগ্রহণকারীও নই। তবে যদি কোনও শিল্পী ব্যক্তিগতভাবে এই মিছিলে অংশগ্রহণ করতে চান, তবে তা নিশ্চয়ই করতে পারেন। তাতে আমাদের সংগঠনের কোনও আপত্তি নেই।”
ইমপা অবশ্য ডাক দিয়েছে এই মিছিলে অংশ হওয়ার জন্য। ইমপার সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত লিখলেন, ”তীব্র শোক নিয়ে সকলকে জানাচ্ছি, আমাদের সকলের প্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় একটি শুটিং করতে গিয়ে ২৯ মার্চ প্রয়াত হয়েছেন। তাঁর মৃত্যুর ন্যায় বিচার চেয়ে নাগরিক সমাজ একটি মিছিলে অংশগ্রহণ করার জন্য ডাক দিয়েছে। আগামী শনিবার, বিকেল চারটের সময়ে, টেকনিশিয়ান্স স্টুডিয়ো থেকে মিছিল হবে। ইমপা-র সদস্যরা বহু বছর ধরে রাহুলের সঙ্গে বিভিন্ন কাজে সঙ্গী ছিলেন। সেই কারণেই আমরা এই মিছিলের অংশ হয়ে রাহুলের মৃত্যুর ন্যায়্যু বিচার চাইতে প্রস্তুত। ইমপা-র তরফে রাহুলের অনুরাগীদের কাছেও আমাদের আবেদন রইল, এই মিছিলে যোগ দেওয়ার জন্য।”
টেকনিশিয়ানদের ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসকে এই নাগরিক মিছিলে দেখা যাবে, সেটা ঘোষণা করে দিয়েছেন তিনি। স্বরূপের বক্তব্য, ”আমাদের সকলের প্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমরা শোকস্তব্ধ এবং শিহরিত। এই ঘটনা আবারও আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির শিল্পী এবং কলাকুশলীদের সুরক্ষা ব্যবস্থাকে এক বিশাল প্রশ্নচিহ্নের মুখোমুখি এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আমরা চাই এই ঘটনার পিছনের আসল সত্যি সকলের সামনে আসুক। তাই আগামীকালের প্রতিবাদে আমি অবশ্যই থাকব। আপনাদের কাছে আমার বিনীত আবেদন আপনারাও এগিয়ে আসুন এবং আমাদের সাথে পা মেলান।”
সেক্ষেত্রে যা স্পষ্ট, শিল্পী রাহুলের প্রাণ যাওয়ার পর শিল্পীদের ফোরাম এক পথে এগোতে চাইছে। প্রযোজনা সংস্থাকে জবাবদিহি করার জন্য সময় বেঁধে দিয়েছে ফোরাম। তবে তাঁরা ন্যায় বিচার চেয়ে মিছিলে যাওয়ার পক্ষে সরব নয়। আবেদন গিয়েছিল ধারাবাহিকের প্রযোজকদের ফোরামের কাছেও। সেখানে কী সিদ্ধান্ত হল, তা নিয়ে কোনও বিবৃতি আসেনি। ম্যাজিক মোমেন্টস প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগের তির। তাই কি সেই ফোরাম বিবৃতি প্রকাশ করল না?
প্রশ্ন হল, রাহুলের পরিবারের মানুষরা কোন পক্ষে? অভিনেতার মৃত্যুর পর তাঁর দাদা এসে পৌঁছেছেন শহরে। অভিনেতার মা এবং দাদার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন টলিপাড়ার বিভিন্ন মুখ। রাহুলের স্ত্রী, অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার ৩ তারিখ পর্যন্ত কোনও এফআইআর করেছেন কি? সেই ব্যাপারে কোনও বিবৃতি নেই। তিনি কি আইনি পদক্ষেপ করবেন? তিনি কি রাহুলের ন্যায় বিচার চেয়ে পথে হাঁটবেন? উত্তর জানার অপেক্ষা।
