
বলিউডের দাপুটে অভিনেত্রী কুনিকা সদানন্দ বরাবরই ঠোঁটকাটা স্বভাবের জন্য পরিচিত। গুঞ্জনকে সিলমোহর দিয়ে কুমার শানুর সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কের কথা ‘বিগ বস ১৯’-এর মঞ্চে স্বীকার করে খবরের শিরোনামে এসেছিলেন তিনি। কুনিকার দাবি ছিল, বিয়ে না করলেও শানুর সঙ্গে তিনি স্বামী-স্ত্রীর মতোই সংসার করেছেন। তবে সেই বসন্ত এখন অতীত। জীবনের ৬২তম বসন্তে দাঁড়িয়ে এবার নতুন করে জীবনসঙ্গী খোঁজার বার্তা দিলেন কুনিকা। কাগজে-কলমে কুনিকা এখন ‘সিনিয়র সিটিজেন’ হলেও, মনের দিক থেকে তিনি এখনও চিরতরুণী। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কুনিকা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, জীবনের এই পড়ন্ত বিকেলে দাঁড়িয়েও তিনি ভালোবাসার কাঙাল। মনের মতো মানুষ পেলে এই বয়সেও কনে সাজতে তাঁর কোনও আপত্তি নেই।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সমাজের দ্বিচারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কুনিকা বলেন, “আমাদের সমাজে পুরুষদের একাধিক সম্পর্কের স্বাধীনতা থাকলেও নারীদের ক্ষেত্রে সবসময় বাঁকা চোখে দেখা হয়। কিন্তু একজন নারীরও অধিকার আছে নিজের মতো করে বাঁচার এবং জীবনের যেকোনও পর্যায়ে নতুন করে শুরু করার।” তিনি মনে করেন, একাকীত্ব কাটানোর জন্য একজন সঠিক সঙ্গীর প্রয়োজন অনস্বীকার্য। দীর্ঘদিন অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও কোনও অভিনেতার সঙ্গে কখনও ঘর বাঁধেননি কুনিকা। এর নেপথ্যে এক অদ্ভুত কারণ দর্শিয়েছেন তিনি। কুনিকার মতে, “অভিনেতারা সবসময় নিজেদের নিয়েই মগ্ন থাকেন। তাঁরা সারাক্ষণ আয়নায় নিজেদের দেখতে ব্যস্ত— কেমন দেখাচ্ছে, চুলে পাক ধরল কি না, এসব নিয়েই তাঁদের চিন্তা। যাঁরা নিজেদের প্রেমে মশগুল, তাঁরা অন্য কাউকে ভালোবাসবেন কীভাবে?”
৬২ বছরের জীবনে কুনিকার ব্যক্তিগত জীবন ছিল বেশ বৈচিত্র্যময়। এ পর্যন্ত তিনি দু’বার বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন, চারটি গভীর প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন এবং দু’বার লিভ-ইন পার্টনার হিসেবে সংসার করেছেন। তবে অতীতের সব তিক্ততা ধুয়ে ফেলে তিনি এখন অপেক্ষায় আছেন এমন একজনের, যে অভিনয়ের গ্ল্যামার নয়, বরং মানুষ কুনিকাকে ভালোবাসবে।