
বলিউডে বিচ্ছেদের খবর বর্তমানে প্রায়ই শোনা যায়। কিন্তু প্রচারের আলোয় থাকতে নিজের সংসার ভাঙার মিথ্যে খবর ছড়ানো কি মেনে নেওয়া যায়? সম্প্রতি এক প্রবীণ সাংবাদিকের দাবিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে বি-টাউনে। ২০১৭ সালে আরবাজ খান ও মালাইকা অরোরা দীর্ঘ ১৯ বছরের দাম্পত্যে ইতি টেনেছেন ঠিকই, কিন্তু তারও এক দশক আগে নাকি স্রেফ একটি ব্র্যান্ডের প্রচারের জন্য বিচ্ছেদের ‘মিথ্যে’ নাটক করেছিলেন এই জুটি।
মুম্বইয়ের প্রবীণ বিনোদন সাংবাদিক ভিকি লালওয়ানি সম্প্রতি এক আড্ডায় ২০০৮ সালের একটি ঘটনার কথা ফাঁস করেছেন। তিনি জানান, সেই সময় এক পরিচালক তাঁকে খবর দেন যে মালাইকা ও আরবাজের বিবাহবিচ্ছেদ হতে চলেছে। খবরের সত্যতা যাচাই করতে ভিকি সরাসরি ফোন করেছিলেন খোদ মালাইকাকে। অভিনেত্রী তখন অস্বীকার তো করেনইনি, বরং নিশ্চিত করেছিলেন যে তাঁদের সংসারে ‘সমস্যা’ চলছে।
পরদিন বড় করে সেই খবর ছাপা হতেই শোরগোল পড়ে যায়। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই জানা যায়, গোটাটাই ছিল একটি ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনী কৌশল! অর্থাৎ, সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়ে নিজেদের প্রচার বাড়াতে বিচ্ছেদের গুজব ছড়িয়েছিলেন তাঁরা।
এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ সাংবাদিক সরাসরি পৌঁছে গিয়েছিলেন সেই ব্র্যান্ডের এক অনুষ্ঠানে। সেখানে বাউন্সারদের নজর এড়িয়ে স্টেজে উঠে মালাইকাকে সেই ফোনের লিস্টে রেকর্ডিং শোনান ভিকি। প্রশ্ন করেন, “কেন আমাদের কাছে মিথ্যে বললেন?” মালাইকার উত্তর ছিল আরও বিস্ফোরক। তিনি সটান বলেছিলেন, “কেন আমি তোমাকে সত্যি কথা বলতে যাব?” অর্থাৎ, পেশাদার সাংবাদিকের কাছে ভুল তথ্য দিয়েও বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত ছিলেন না তিনি।
কাকতালীয়ভাবে, সেই ঘটনার ঠিক ৯ বছর পর ২০১৭ সালে সত্যিই আলাদা হয়ে যান এই তারকা দম্পতি। তাঁদের একমাত্র সন্তান আরহান খান বর্তমানে কো-প্যারেন্টিংয়ের মাধ্যমে বেড়ে উঠছে। আরবাজ খান ইতিমধ্যেই সুরা খানকে বিয়ে করে নতুন সংসার পেতেছেন এবং ২০২৫ সালে তাঁদের কোল আলো করে এসেছে কন্যা সিপারা। অন্যদিকে, মালাইকা এখনও বিয়ের পিঁড়িতে বসেননি।
মালাইকা ইদানীং নারী স্বাধীনতা ও নিজের খুশির কথা বারবার বললেও, অতীতের এই ‘পাবলিসিটি স্টান্ট’ তাঁর নৈতিকতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। রোজকারের স্বার্থে কি তবে ব্যক্তিগত জীবনের আবেগ নিয়ে খেলা করা যায়? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে নেটপাড়ায়।