
নীরজ পান্ডে পরিচালিত আসন্ন নেটফ্লিক্স ছবি ‘ঘুষখোর পন্ডত’– এর শিরোনাম ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্কে অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন অভিনেতা মনোজ বাজপেয়ী। ছবির নাম প্রকাশের পর একাংশের দাবি, ‘পন্ডত’ শব্দটি একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করছে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে মামলা, এফআইআর এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে অবশেষে মুখ খুললেন অভিনেতা। মনোজ বাজপেয়ী বলেন, তিনি মানুষের আবেগ ও উদ্বেগকে সম্পূর্ণ সম্মান করেন।
তাঁর কথায় “মানুষ যে অনুভূতি ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, আমি তা সম্মান করি এবং বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখি। আপনি যখন বুঝতে পারেন যে আপনার কোনও কাজ কারও মনে আঘাত দিচ্ছে, তখন বিষয়টি শোনা এবং বোঝা অত্যন্ত জরুরি।”
তিনি স্পষ্ট জানান, ছবিতে তাঁর অভিনীত চরিত্রটি কোনও সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে তৈরি নয়, বরং একজন ত্রুটিপূর্ণ মানুষের আত্মোপলব্ধির গল্পকে কেন্দ্র করেই এই চরিত্র। মনোজ বলেন, “একজন অভিনেতা হিসেবে আমি চরিত্র ও গল্প ভালোভাবে বুঝেই একটি ছবিতে যুক্ত হই। আমার কাছে এটি ছিল একজন অসম্পূর্ণ মানুষের চরিত্র এবং তার নিজের ভুল বোঝা ও আত্ম-উপলব্ধির যাত্রা। এই সিরিজে কোনও সম্প্রদায়কে অসম্মান করা হয়নি।”
পরিচালক নীরজ পান্ডের কাজের প্রশংসা করে মনোজ বাজপেয়ী বলেন, “নীরজ পান্ডের সঙ্গে কাজ করে আমি সবসময় দেখেছি, তিনি গল্প বলার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল, সংবেদনশীল এবং গভীরভাবে চিন্তাশীল।” বিতর্কের কারণে নির্মাতারা ছবির প্রচারমূলক কনটেন্ট আপাতত সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও জানান তিনি। তাঁর কথায়, “জনমতের প্রতি সম্মান জানিয়ে নির্মাতারা ছবির প্রচারসংক্রান্ত তথ্য আপাতত সরিয়ে নিয়েছেন। এতে বোঝা যায়, মানুষের উদ্বেগকে তারা কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন।”
এর আগে পরিচালক নীরজ পান্ডেও এই বিষয়টি নিয়ে নিজের বক্তব্য রাখেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে ছবিটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক এবং এর গল্প কোনো ধর্ম, জাতি বা সম্প্রদায়কে উপস্থাপন করার উদ্দেশ্যে নয়। তাঁর ভাষায়, “আমাদের ছবিটি একটি কাল্পনিক পুলিশি গল্প, এবং এখানে ‘পন্ডত’ শব্দটি শুধুমাত্র একটি কল্পিত চরিত্রের জন্যই ব্যবহার করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “এই গল্পটি একজন ব্যক্তির কাজ,তাঁর নেওয়া সিদ্ধান্ত এবং তার পরিণতিকে কেন্দ্র করে তৈরি এটি কোনও জাতি, ধর্ম বা সম্প্রদায়কে প্রতিনিধিত্ব করে না।”
নীরজ পান্ডে স্বীকার করেন যে ছবির শিরোনামে কিছু মানুষের মনে আঘাত লেগেছে,তিনি বলেছেন “আমরা বুঝতে পারছি যে শিরোনামটি কিছু দর্শকের অনুভূতিতে আঘাত করেছে, আমরা আন্তরিকভাবে সেই অনুভূতিকে সম্মান করি।”