Indian Film History: ভারতের প্রথম নিষিদ্ধ সিনেমা কোনটা জানেন? কেন হয়েছিল নিষিদ্ধ?
Banned Indian Movies: হিন্দি সাহিত্যের প্রখ্যাত লেখিকা ও কবি মহাদেবী বর্মার লেখা বিখ্যাত ছোটগল্প ‘চিনি ফেরিওয়ালা’ (The Chinese Hawker) অবলম্বনে তৈরি হয়েছিল সিনেমাটির মূল কাহিনি। পরাধীন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের উত্তাল পটভূমিতে তৈরি এই ছবিতে দেখানো হয় ‘ওয়াং লু’ নামের এক দরিদ্র চিনা ফেরিওয়ালাকে, যে কলকাতার অলিতে-গলিতে ঘুরে ঘুরে চিনা সিল্ক বিক্রি করত।

ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে রয়েছে এমন কিছু অধ্য়ায়, যা নিয়ে আজও কথা হয় সিনে মহলে। বার বারই প্রশ্ন ওঠে, কেন এমনটা ঘটেছিল। ঠিক যেমন মৃণাল সেনের ছবি নীল আকাশের নিচে। কিংবদন্তি পরিচালক মৃণাল সেনের ১৯৫৯ সালের বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘নীল আকাশের নিচে’ তেমনই এক অনন্য সৃষ্টি। তবে খুব কম মানুষই জানেন, ১৯৩০-এর দশকের প্রেক্ষাপটে তৈরি এই সাদাকালো ছবিটিই ছিল স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে সেন্সর বোর্ড কর্তৃক প্রথম নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনও সিনেমা।
ছবিটিতে মূলতঃ ফুটে উঠেছিল তৎকালীন ভারতের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের এক নির্মম ছবি। একই সমাজে, এমনকি একই ছাদের নিচে বসবাস করেও সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র মানুষের প্রতি ধনকুবের বা তথাকথিত শিক্ষিত উচ্চবিত্তদের যে বিন্দুমাত্র সহানুভূতি ছিল না— তা সোজা ভাষায় পর্দায় তুলে ধরেছিলেন মৃণাল সেন।
হিন্দি সাহিত্যের প্রখ্যাত লেখিকা ও কবি মহাদেবী বর্মার লেখা বিখ্যাত ছোটগল্প ‘চিনি ফেরিওয়ালা’ (The Chinese Hawker) অবলম্বনে তৈরি হয়েছিল সিনেমাটির মূল কাহিনি। পরাধীন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের উত্তাল পটভূমিতে তৈরি এই ছবিতে দেখানো হয় ‘ওয়াং লু’ নামের এক দরিদ্র চিনা ফেরিওয়ালাকে, যে কলকাতার অলিতে-গলিতে ঘুরে ঘুরে চিনা সিল্ক বিক্রি করত।
সেই সময়টা ভারত এবং চিন— দুটি দেশের জন্যই ছিল চরম অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটকাল। একদিকে ভারতে ব্রিটিশ শাসন, অন্যদিকে চিনে জাপানি সাম্রাজ্যবাদের বর্বর আক্রমণ। ক্ষুধা ও দারিদ্র্য থেকে বাঁচতে বহু চিনা নাগরিক তখন কলকাতায় এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেই বাস্তবতায় কলকাতার এক মধ্যবিত্ত গৃহবধূ (মঞ্জু) এবং ওই প্রবাসী চিনা ফেরিওয়ালার (ওয়াং লু) মধ্যকার এক নির্মল ও আবেগঘন সম্পর্কের অসামান্য চিত্রায়ন ফুটে উঠেছিল এই সিনেমায়।
কী ছিল বিতর্ক?
ছবিটির প্রখর রাজনৈতিক বার্তা এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের তৎকালীন পরিবেশকে তুলে ধরার কারণেই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল তৎকালীন ভারতীয় সেন্সর বোর্ড। রাষ্ট্রীয় রাজনৈতিক স্পর্শকাতরতার অজুহাত দেখিয়ে ছবিটির প্রদর্শনের ওপর রাতারাতি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
তবে সিনেমাটি নিষিদ্ধ হওয়ার পর দমে যাননি এর প্রযোজক তথা প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। তিনি সরাসরি হাজির হন স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর দরবারে। পুরো ঘটনাটি শুনে এবং বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রধানমন্ত্রী নেহরু বিলম্ব না করে সিনেমাটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেন। শুধু তাই নয়, পরবর্তীতে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের পাশে বসে স্বয়ং নেহরু ছবিটি উপভোগও করেছিলেন। সামাজিক ভেদাভেদ ও মানবিক সম্পর্কের এই অমর দলিল আজও ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক মাইলফলক হয়ে রয়েছে।
