Nana Patekar: নানা পাটেকরের ভাই খুন করেছিলেন দাউদের দাদাকে! মুম্বইয়ের অপরাধ জগতের সঙ্গে যোগ ছিল অভিনেতার?
Nana Patekar connection with Underworld: বড়পর্দায় গ্যাংস্টার বা খলনায়কের চরিত্র ফুটিয়ে তোলার সময় নানা পাটেকরের চোখে-মুখে যে ভয়ঙ্কর আগ্রাসন ও নিখুঁত বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ফুটে উঠত, তা দেখে অনেকেই অবাক হতেন। কিন্তু এই ধরনের চরিত্রগুলোর ভেতরের ম্যানারিজম বা হাবভাব ঠিক কেমন হয়, তা নানার চেনা ছিল হাতের তালুর মতো।

বড়পর্দায় গ্যাংস্টার বা খলনায়কের চরিত্র ফুটিয়ে তোলার সময় নানা পাটেকরের চোখে-মুখে যে ভয়ঙ্কর আগ্রাসন ও নিখুঁত বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ফুটে উঠত, তা দেখে অনেকেই অবাক হতেন। কিন্তু এই ধরনের চরিত্রগুলোর ভেতরের ম্যানারিজম বা হাবভাব ঠিক কেমন হয়, তা নানার চেনা ছিল হাতের তালুর মতো। গোয়ায় গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ৭৫ বছর বয়সে জীবনাবসান হয়েছে এই বহুমুখী প্রতিভাধর অভিনেতার। তাঁর প্রয়াণের পর এবার প্রকাশ্যে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য—মুম্বইয়ের আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এক নিবিড় যোগসূত্র ছিল নানা পাটেকরের! কুখ্যাত গ্যাংস্টার মনোহর ওরফে ‘মান্য সুরভে (Manya Surve)-র ছিলেন নানা পাটেকরের মামাতো ভাই!
মুম্বইয়ের আন্ডারওয়ার্ল্ডের ইতিহাসে অন্যতম ভীতিপ্রদ এবং আলোচিত নাম ছিল মান্যা সুরভে। নানা পাটেকরের মায়ের দিকের আত্মীয়দের সঙ্গে এই গ্যাংস্টারের সরাসরি যোগ ছিল। নানা পাটেকরের নিজের কথায়, মান্যা সুরভে ছিলেন তাঁর মায়ের মামার ছেলে। অভিনেতা নিজেই অতীতে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছিলেন যে, তাঁর মায়ের দিকের পরিবারে অপরাধপ্রবণতার কিছুটা টান ছিল এবং সেই সূত্রে মান্যা সুরভে ছিলেন তাঁর আত্মীয়।
পরিবারের মধ্যে এমন অপরাধমূলক পরিবেশের প্রভাব যাতে তাঁর সন্তানদের ওপর না পড়ে, সে বিষয়ে দারুণ সতর্ক ছিলেন নানার মা। অভিনেতা একসময় জানিয়েছিলেন, তাঁদের ওই অন্ধকার জগতের প্রভাব থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে মা তাঁকে এবং তাঁর ভাইবোনদের নিয়ে মুম্বই ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়েছিলেন। জনপ্রিয় রিয়ালিটি শো ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি ১৬’ (Kaun Benaega Crorepati 16)-এর মঞ্চে এসে নানা অকপটে স্বীকার করেছিলেন যে, জীবনের সেই সিদ্ধান্তটি তাঁর কেরিয়ার ও জীবন বাঁচাতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। তিনি এও বলেন, যদি তিনি অভিনয়ের পথ বেছে না নিতেন, তবে হয়তো পরিস্থিতির চাপে তাঁকেও এই অপরাধজগৎ বা আন্ডারওয়ার্ল্ডের পথেই পা বাড়াতে হতো! ছোটবেলায় অপরাধী প্রকৃতির মানুষদের খুব কাছ থেকে দেখার সুবাদেই গ্যাংস্টারদের মানসিকতা ও আচার-আচরণ সম্পর্কে নিখুঁত ধারণা তৈরি হয়ে গিয়েছিল তাঁর।
কে ছিলেন এই মান্যা সুরভে?
মান্যা সুরভে সাধারণ কোনও গ্যাংস্টার ছিলেন না; তিনি ছিলেন কীর্তি কলেজ (Kirti College)-এর এক শিক্ষিত গ্র্যাজুয়েট। সত্তরের দশকের শেষের দিকে এবং আশির দশকের শুরুতে মুম্বইয়ের গ্যাংওয়ারে তিনি একচ্ছত্র ত্রাস হয়ে ওঠেন। একটি খুনের মামলায় তাঁকে ইয়েরওয়াড়া জেলে (Yerwada Jail) পাঠানো হলেও তিনি সেখান থেকে পালিয়ে আসেন এবং মুম্বইয়ে ফিরে নিজের গ্যাং তৈরি করেন। পরবর্তীতে কুখ্যাত পাঠাণ গ্যাংয়ের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ গড়ে ওঠে।
শোনা যায়, দাউদ ইব্রাহিমের বড় ভাই সাবির ইব্রাহিম কাস্কারকে ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হত্যার নেপথ্যেও হাত ছিল এই মান্যা সুরভের, যা মুম্বইয়ের ডনদের মধ্যে আড়াআড়ি বিভাজন তৈরি করেছিল। এরপর আর তাঁকে দমানো যায়নি। অবশেষে ১৯৮২ সালের ১১ জানুয়ারি মুম্বই পুলিশ ক্রাইম ব্রাঞ্চের অফিসার ইসাক বাগওয়ান এবং রাজা তাম্বাত ওয়াডালার আম্বেদকর কলেজের কাছে এক এনকাউন্টারে মান্যা সুরভেকে গুলি করে হত্যা করেন। মুম্বই পুলিশের ইতিহাসে এটিকে প্রথম সরকারি এনকাউন্টার কিলিং বলে মনে করা হয়, যার ওপর ভিত্তি করে ২০১৩ সালে জন আব্রাহাম অভিনীত ব্লকবাস্টার ছবি ‘শুটআউট অ্যাট ওয়াডালা’ (Shootout at Wadala) নির্মিত হয়েছিল।
