
হাসির আড়ালে কত গল্প লুকিয়ে থাকে, সামনে না এলে বোঝাই যায় না। ‘ভুলভুলাইয়া’, ‘হাঙ্গামা’, ‘ভাগম ভাগ’-এর মতো ছবিতে যিনি আমাদের হাসিয়ে মন জয় করে নিয়েছেন, সেই রাজপাল যাদব এখন জীবনের এক কঠিন মোড়ে দাঁড়িয়ে। ২০১০ সালে নিজের পরিচালনায় বানানো ছবি ‘আতা পতা লাপাতা’র জন্য রাজপাল ও তাঁর স্ত্রী প্রায় ৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ছবিটি বাণিজ্যিকভাবে সফল না হওয়ায় ঋণ শোধে সমস্যা শুরু হয়। ধার শোধ করতে গিয়ে যে চেকগুলি দেওয়া হয়েছিল, তার কিছু বাউন্স করে। পরে নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট-এর আওতায় মামলা হয়। সুদ ও জরিমানা মিলিয়ে সেই অঙ্ক এখন প্রায় ৯ কোটি টাকায় পৌঁছেছে বলে খবর। বর্তমানে তিহার জেলে আছেন অভিনেতা।
আর ঠিক এই সময়েই ভাইরাল হয়েছে নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকির একটি পুরনো সাক্ষাৎকার যেখানে তিনি রাজপালের অন্য এক রূপের কথা বলছেন। একজন সহ-অভিনেতা নয়, একজন মানুষ হিসেবে রাজপাল কেমন, সেই গল্পই ভাগ করে নিয়েছেন নওয়াজ।
নওয়াজউদ্দিন বলেন, “রাজপাল যখন ভালো কাজ পেতে শুরু করেছিল, তখন ওর বাড়িতে অনেকেই খেতে যেত। ও কখনও অভিযোগ করত না।” তাঁর কথায়, রাজপালের বাড়ি যেন একেবারে ‘লঙ্গর’—যেখানে সংগ্রামী অভিনেতারা নির্দ্বিধায় গিয়ে খেতে পারতেন। নওয়াজ আরও বলেন, “ও অনেক মজা করে, কিন্তু ভেতরে ভীষণ সংবেদনশীল মানুষ।”
দুই অভিনেতার বন্ধুত্ব আজকের নয়। প্রথমে লখনউয়ের ভারতেন্দু নাট্য একাডেমি এবং পরে দিল্লির ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামায় একসঙ্গে পড়াশোনা করেন দুজনে। থিয়েটারের দিনগুলোতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছেন। সেই সময়ে ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকার লড়াইটা কত কঠিন, তা তাঁরা নিজেরাই বুঝতে পেরেছেন। রাজপালের বর্তমান সঙ্কটে পাশে দাঁড়িয়েছেন বলিউডের একাংশ । সলমন খান, সোনু সুদ, গুরমিত চৌধুরী-সহ কয়েকজন সহকর্মী আর্থিক ও নৈতিক সমর্থন জানিয়েছেন। ফেডারেশন অফ ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজও সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে। তাঁর ম্যানেজার গোল্ডি জানিয়েছেন, পরিবার আশাবাদী—শিগগিরই জেলের বাইরে আসবেন অভিনেতা।
নওয়াজউদ্দিনের কথায় রাজপালের জীবনের অন্য ছবি জানা গিয়েছে। একদিন নিজের বাড়ির দরজা খুলে রেখেছিলেন অন্যদের জন্য। তাই হয়ত আজ পাশে পেয়েছেন বহু মানুষকে।