প্রবাহ চাইলে দেবলীনাকে মহা বিপদে ফেলতে পারেন, জানালেন আইনজীবী
সম্প্রতি ফেসবুকে এক লম্বা পোস্ট করলেও, সরাসরি এই মামলার বলেননি। ঠিক এরই মাঝে সোশাল মিডিয়ায় আইনজীবী মুকুল বিশ্বাস, তাঁর ফেসবুক পেজ ভয়েস অফ ভয়েসলেসে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেন। যেখানে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শুধু দেবলীনা নয়, প্রবাহও মামলা করতে পারেন দেবলীনার বিরুদ্ধে। আর প্রবাহ তা করলে, দেবলীনা যে বিপাকে পড়তে পারেন, তাও স্পষ্ট করে দেন আইনজীবী মুকুল বিশ্বাস।

সোশ্যাল মিডিয়াতেও তাঁর জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। কিন্তু সেই গায়িকা দেবলীনা নন্দীর ব্যক্তিগত জীবনে এখন বইছে ঝোড়ো হাওয়া। ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর জাঁকজমক করে প্রবাহ নন্দীর সঙ্গে সাতপাকে বাঁধা পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু বিয়ের এক বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সেই রূপকথা যেন বিষাদে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ, দীর্ঘদিনের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যারও পথ বেছে নিয়েছিলেন গায়িকা। খেয়েছিলেন ৭৮ টা ঘুমের ওষুধ! সেই ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছিল সোশাল মিডিয়া। দেবলীনার অভিযোগ, তাঁর স্বামী প্রবাহ নন্দী নাকি তাঁকে মা ও স্বামীর মধ্যে যে কোনও একজনকে বেছে নিতে বলেছিলেন। সেই টানাপোড়েনের মাঝে পড়েই নিজের জীবনকে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন দেবলীনা। তবে এখন অনেকটাই শারীরিক দিক থেকে সুস্থ তিনি। ফের মঞ্চেও ফিরেছেন। আর এবার স্বামী প্রবাহ নন্দীর বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ করলেন দেবলীনা। অন্তত, সূত্রের খবর অনুযায়ী, দেবলীনা নাকি তাঁর পাইলট স্বামীর বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতনের মামলা দায়ের করেছেন। তবে এই খবর রটে গেলেও, দেবলীনা পুরো বিষয়টা নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। সম্প্রতি ফেসবুকে এক লম্বা পোস্ট করলেও, সরাসরি এই মামলার বলেননি। ঠিক এরই মাঝে সোশাল মিডিয়ায় আইনজীবী মুকুল বিশ্বাস, তাঁর ফেসবুক পেজ ভয়েস অফ ভয়েসলেসে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেন। যেখানে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শুধু দেবলীনা নয়, প্রবাহও মামলা করতে পারেন দেবলীনার বিরুদ্ধে। আর প্রবাহ তা করলে, দেবলীনা যে বিপাকে পড়তে পারেন, তাও স্পষ্ট করে দেন আইনজীবী মুকুল বিশ্বাস।
অভিযোগে দেবলীনা জানিয়েছেন, বিয়ের পর থেকেই তাঁর উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চলছিল। পারিবারিক অশান্তি ক্রমশ বাড়তে থাকে এবং পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে ওঠে। জানুয়ারি মাসে আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনার পর বিষয়টি সামনে আসে। এরপর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নোটিস পাওয়ার পরই প্রবাহ নন্দী তাঁর মা-বাবাকে নিয়ে থানায় হাজিরা দেন। তাঁরা তদন্তে সহযোগিতা করছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। এই মুহূর্তে কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। বধূ নির্যাতনের মামলাটি এখনও আদালতে ওঠেনি, তবে পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে এবং সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই প্রসঙ্গেই ফেসবুকে আইনজীবী মুকুল বিশ্বাস জানালেন, ”সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর পেলাম বা জানতে পারলাম। যে গায়িকা দেবলীনা নন্দী, এতদিন পর তাঁর স্বামী পাইলট প্রবাহ নন্দীর বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতনের ধারায় মামলা করেছেন। সংবাদমাধ্যমের একথা যদি সত্য হয়, দেবলীনা নন্দীর এই আইনি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। কারণ, তাঁর ভিডিয়ো থেকে যতটা দেখা গিয়েছে, সেটা অন্তত স্পষ্ট যে প্রবাহ, দেবলীনা নন্দীর উপর যে কতটা অত্যাচার করেছেন, বা কতটা করেছেন, সেটা হয়তো বিচার সাপেক্ষ। কিন্তু কথায় কথায় একজন গৃহবধূ হিসেবে ভিডিয়ো করা, রাত-বিরেতে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুলে অত্যাচার করা, এর পাশাপাশি পরবর্তীকালে তিনি ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিলেন, তারপর সোশাল মিডিয়াতে, সোশাইটির কাছে, প্রবাহর যেভাবে ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করা হল সেটা নিন্দনীয়। একজন সফল পুরুষ মানুষের জীবন কীভাবে ধ্বংস করা যেতে পারে, দেবলীনা নন্দী তাঁর একটি জ্বলন্ত উদাহরণ । ”
আইনজীবী মুকুল বিশ্বাস আরও বলেন, দেবলীনা নন্দীর মতো আরও অনেকে এই বধূ নির্যাতনের মামলা অপব্য়বহার করছে। তাই প্রবাহ নন্দীর, দেবলীনা নন্দীর বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। আইনজীবী মুকুল জানান, ”প্রবাহ হয়তো তাঁর ভদ্রতা বা শিক্ষাগত যোগ্যতার কারণে আইনি পদক্ষেপ নেয়নি। কিন্তু দেবলীনা নন্দী যদি বধূ নির্যাতনের মামলা করে থাকেন, তাহলে একজন আইনজীবী হিসেবে বলব, প্রবাহর কিন্তু দেবলীনার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। ”
আইনজীবী মুকুল বিশ্বাস মনে করেন, এরপর দেবলীনা একটি মোটা অঙ্ক চেয়ে খোরপোষে মামলা করবেন, এবং প্রবাহ কাছ থেকে সেই টাকা নেবেন। এই অবস্থায় প্রবাহ কী কী আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন আইনজীবী মুকুল বিশ্বাস।
আইনজীবীর কথায়, ”সংসার করার জন্য restitution of conjugal rights- মামলা করতে পারেন। এছাড়া বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করতে পারেন। এমনকী, তাঁর স্ত্রী, যেভাবে তাঁকে সোশাল মিডিয়ায় ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে, তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করতে পারেন। পাশাপাশি প্রবাহ ও প্রবাহর পরিবারের উপর দেবলীনা যে অত্যাচার করে এসেছেন। সেটার ভিত্তিতে পুরনো ভারতীয় দণ্ডবিধি আইপিসি, এখন যেটা বিএনএস হয়েছে, সেখানে কিন্তু প্রবাহ চাইলে, দেবলীনা নন্দীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতেই পারেন। যেটা একতরফা এতদিন হয়ে এসেছে, যে স্বামীদের বিরুদ্ধে লাগাতার এই বধূ নির্যাতন ৪৯৮ (এ) এবং পাশাপাশি খোরপোষের দাবি নিয়ে যে হেনস্থা করা হয় এই ধারাকে ব্যবহার করে, সেটার দিন কিন্তু শেষ। পালটা কিন্তু একই ধারায়, প্রবাহ বা তাঁর মাকে মারধর করার জন্য প্রবাহ বা তাঁর মাকে মানসিক অত্যাচার করার জন্য চাইলে স্ত্রী দেবলীনা নন্দীর বিরুদ্ধেও প্রবাহ আইনত ব্যবস্থা নিতে পারে। ”
