নিজের কমেডি ছবিতে অক্ষয়ই প্রথম পছন্দ! বন্ধুত্বের খাতিরেই এই সিদ্ধান্ত?
পুরোনো স্মৃতি হাতড়ে প্রিয়দর্শন এক চমকপ্রদ তথ্য শেয়ার করেছেন। ২০০৭ সালের ব্লকবাস্টার ছবি ‘ভুল ভুলাইয়া’ নিয়ে তিনি বলেন, সেই সময় তাঁরা ছবিটিকে মোটেও হরর-কমেডি হিসেবে বানাননি। এটি ছিল আদতে একটি ‘সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার’। কিন্তু প্রিয়দর্শনের সিগনেচার স্টাইল হল সিচুয়েশনাল হিউমার বা পরিস্থিতির ফেরে তৈরি হওয়া হাস্যরসকে ফুটিয়ে তোলা।

দীর্ঘ ১৪ বছর পর আবারও পর্দায় ফিরছে সেই আইকনিক জুটি। একদিকে বলিউডের খিলাড়ি অক্ষয় কুমার, অন্যদিকে কমেডি ছবির জাদুকর পরিচালক প্রিয়দর্শন। ‘হেরা ফেরি’, ‘গরম মশালা’ কিংবা ‘ভুল ভুলাইয়া’র মতো কাল্ট ক্লাসিক উপহার দেওয়া এই জুটি এবার নিয়ে আসছে তাঁদের নতুন ধামাকা ‘ভূত বাংলো’। তবে দর্শকদের মনে একটা প্রশ্ন বরাবরই ছিল, বলিউডে এত অভিনেতা থাকতে কমেডি ছবির জন্য প্রিয়দর্শনের প্রথম পছন্দ কেন সবসময়ই অক্ষয়? সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই রহস্যের পর্দা ফাঁস করলেন পরিচালক নিজেই।
পছন্দের নেপথ্যে কি কেবল বন্ধুত্ব?
প্রিয়দর্শন জানান, তিনি যখনই কোনও কমেডির চিত্রনাট্য লেখেন, অবচেতনেই অক্ষয়ের মুখটা তাঁর সামনে ভেসে ওঠে। তবে এর পেছনে কেবল দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব নয়, বরং কাজ করার এক অদ্ভুত স্বাচ্ছন্দ্য বা ‘কমফর্ট জোন’ কাজ করে। পরিচালকের মতে, “আমি প্রথমে স্ক্রিপ্ট নিয়ে ভাবি। তারপর ঠিক করি চরিত্রের জন্য কে জুতসই হবে। কিন্তু যখনই কমেডির কথা আসে, আমার প্রথম পছন্দ হয় অক্ষয়। আসলে ওর সঙ্গে কাজ করার যে কমফর্ট লেভেল, তা অন্য কারও সঙ্গে পাওয়া কঠিন।”
পুরোনো স্মৃতি হাতড়ে প্রিয়দর্শন এক চমকপ্রদ তথ্য শেয়ার করেছেন। ২০০৭ সালের ব্লকবাস্টার ছবি ‘ভুল ভুলাইয়া’ নিয়ে তিনি বলেন, সেই সময় তাঁরা ছবিটিকে মোটেও হরর-কমেডি হিসেবে বানাননি। এটি ছিল আদতে একটি ‘সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার’। কিন্তু প্রিয়দর্শনের সিগনেচার স্টাইল হল সিচুয়েশনাল হিউমার বা পরিস্থিতির ফেরে তৈরি হওয়া হাস্যরসকে ফুটিয়ে তোলা। সেই ফর্মুলা মেনেই থ্রিলারের ভাঁজে ভাঁজে কমেডি ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। আর দর্শক সেটা এতটাই ভালোবেসে ফেলেছিলেন যে, তা হরর-কমেডির এক নতুন ঘরানা তৈরি হয়ে যায়।
আসন্ন এই ছবি নিয়ে দর্শকের মধ্যে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। অক্ষয় ছাড়াও এই ছবিতে থাকছেন পরেশ রাওয়াল, রাজপাল যাদব, তাবু এবং যীশু সেনগুপ্তর মতো হেভিওয়েট তারকারা। প্রিয়দর্শন জানিয়েছেন, ‘ভূত বাংলো’তে একদিকে যেমন থাকবে হাড়হিম করা টেনশন, অন্যদিকে থাকবে পেটে খিল ধরা হাসির দৃশ্য। মূলত ভারতীয় পুরাণ এবং ব্ল্যাক ম্যাজিকের আধারে তৈরি হয়েছে এই ছবির গল্প। পরিচালকের দাবি, হরর ছবিতে দর্শক যখন খুব ভয়ে কুঁকড়ে থাকেন, তখনই তাঁদের হাসির একটু সুযোগ করে দেওয়া প্রয়োজন। আর এই ‘কম্বিনেশন’ অক্ষয় কুমারের চেয়ে ভালো কেউ ফুটিয়ে তুলতে পারেন না।
সব মিলিয়ে বোঝা যাচ্ছে, বড় পর্দায় ভিন্টেজ অক্ষয় কুমারকে ফিরিয়ে আনতেই কোমর বেঁধে নেমেছেন প্রিয়দর্শন। আগামী ১০ এপ্রিল প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে এই ছবি। অক্ষয়-প্রিয়দর্শন ম্যাজিক কি পারবে বক্স অফিসে আবার ঝড় তুলতে? উত্তর দেবে সময়।
