Supreme Court: ‘একমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই…’, সমস্যার কথা মনে করিয়ে দিলেন প্রধান বিচারপতি, ‘লিস্ট দেখা যাচ্ছে না’ পাল্টা প্রশ্ন কল্যাণের
SIR Case: এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয় তৃণমূল। এই মামলায় সওয়াল করতে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরই মধ্য ভোট ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। এমন কয়েকজন প্রার্থী রয়েছেন, যাঁদের নাম বিচারাধীন তালিকায় রয়ে গিয়েছে। এই নিয়ে বেড়েছে বিড়ম্বনা। মঙ্গলবার সে কথাও উল্লেখ করা হয়েছে শীর্ষ আদালতে।

নয়া দিল্লি: এসআইআর পর্ব প্রায় শেষের পথে। এখনও জট কাটছে না। সোমবার রাতে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ হলেও জটিলতা কাটেনি। কতজনের নাম বাদ পড়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানো হল, যাতে বিচারাধীন তালিকায় থাকা ভোটারদের আগের তালিকার নিরিখে ভোট দেওয়ার অধিকার দেওয়া হয়। কমিশনের দাবি, প্রয়োজন হলে প্রত্যেকদিন সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশ করতে পারে তারা।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চে হয় মামলার শুনানি।
‘ভোট দেওয়ার অধিকার দেওয়া হোক’
মঙ্গলবার শুনানির শুরুতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের পক্ষে আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান আগের অর্ডারের অংশ পড়েন। কমিশনকে কী কী নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তা উল্লেখ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রথম দফার ভোটের ক্ষেত্রে ৬ এপ্রিল মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিন শেষ হয়ে যাচ্ছে। ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট। নিয়ম অনুযায়ী মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ভোটার তালিকা অন্তর্ভুক্তি বন্ধ হয়ে যাবে। আইনজীবী আর্জি জানা, যে বা যাঁরা বিচারাধীন তালিকায় আছে, তাদের আগের ভোটার তালিকায় নাম থাকলে, ভোট দেওয়ার অধিকার দেওয়া হোক।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “গতকাল সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বের হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি আমাদের তথ্য পাঠাতে থাকেন।”
বিচারাধীন তালিকায় ১৪ জন প্রার্থী
এরপর শ্যাম দিওয়ান বলেন, “আমাদের কয়েকটি সাজেশন আছে। প্রথম এবং দ্বিতীয় দফায় পর্যায়ক্রমে ১৬ এবং ২২ এপ্রিল ভোটার তালিকা ফ্রিজ হয়ে যাবে। ১৪ জন এমন প্রার্থী আছেন যাঁরা, বিচারাধীন তালিকায় আছেন। তাঁরা ৬ এপ্রিল মনোনয়ন জমা দিতে পারবেন না।” প্রধান বিচারপতি বলেন, এই প্রত্যেকটাই প্রশাসনিক ইস্যু কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি দেখতে পারেন।
আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “গতকাল সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বেরিয়েছে। কিন্তু এখনও মানুষ দেখতে পাচ্ছেন না। প্রত্যেকটা রাজনৈতিক দলকে সফট কপি দেওয়া হোক।”
প্রধান বিচারপতি পরামর্শ দেন, যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের নাম নিষ্পত্তি হয়নি, তারা অ্যাজুডিকেটিং অফিসারের কাছে গিয়ে এই বিষয়ে আবেদন করতে পারেন।
কমিশনের তরফে আইনজীবী ডি এস নাইডু বলেন, “আমরা কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা করেছি। মামলা নিষ্পত্তি হয়ে গেলে আমরা প্রত্যেকদিন সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করতে পারি।”
‘একমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই সমস্যা হয়েছে’
প্রধান বিচারপতি এরপর বলেন, “একমাত্র পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে সমস্যা হয়েছে। অন্য সব রাজ্যে এই এসআইআর প্রক্রিয়া মসৃণ ভাবে হয়েছে।” এ কথা শুনে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ একমাত্র রাজ্য যেখানে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি সংক্রান্ত সমস্যা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ একমাত্র রাজ্য যেখানে রাত তিনটের সময় নোটিফিকেশন জারি করে চিফ সেক্রেটারিকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
ইলেকটোরাল রোল ফ্রিজ করার তারিখ বর্ধিত করার আর্জি
প্রধান বিচারপতি উল্লেখ করেন, কোথাও কোথাও এসআইআরের পরে ভোটারের সংখ্যা বেড়েছে। কমিশনের আইনজীবী উল্লেখ করেন, গুজরাত, উত্তর প্রদেশ, তামিলনাড়ুতে অনেক বেশি ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী দাবি করেন, ইলেকটোরাল রোল ফ্রিজ করার তারিখ বর্ধিত করা হোক।
মেনকা গুরুস্বামীর এই আর্জি পরবর্তী ক্ষেত্রে বিচার করা হবে বলে জানালেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। বিচারপতি বাগচী কমিশনের উদ্দেশে বলেন, “যে কেন্দ্রগুলিতে আগে ভোট রয়েছে, যদি সম্ভব হয়, সেখানকার বিষয়গুলি আগে নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করুন।”
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করিয়ে দেন, “আগের শুনানির দিন বলা হয়েছিল কেন নাম বাদ যাচ্ছে সেই কারণ উল্লেখ করতে হবে।” বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “আপনারা বুঝতে পারছেন, আমরা জুডিশিয়াল অফিসারদের ওপর কতটা চাপ দিয়েছি। কমিশনের তরফে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে প্রতি মুহূর্তে সহযোগিতা করুন। আমরা আশা করছি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্ত বিষয় নিষ্পত্তি হবে।” আগামী ১ এপ্রিল ফের এই মামলার শুনানি রয়েছে।
