Kriti Sanon: ‘সীমা থাকা খুব জরুরি’, কৃতিকে নিয়ে বিস্ফোরক প্রিয়াঙ্কার মা মধু
একটি বিজ্ঞাপনে কৃতি শ্যাননের সাজপোশাক নিয়ে নেটপাড়ায় তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। অভিনেত্রীর পোশাক ভারতীয় উৎসবের সঙ্গে মানানসই নয় বলে দাবি তুলেছেন নেটিজেনদের একাংশ। এবার এই তপ্ত বিতর্কের মাঝেই পোশাকের শালীনতা ও সীমার প্রসঙ্গ টেনে সরাসরি মুখ খুললেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার মা মধু চোপড়া। তিনি স্পষ্ট জানান, পোশাক পছন্দের স্বাধীনতা থাকলেও পরিবেশ বুঝে শালীনতা বজায় রাখা খুব জরুরি।

বলিউড অভিনেত্রী কৃতি শ্যানন (Kriti Sanon)-এর এক বিজ্ঞাপনের সাজপোশাক নিয়ে নেটদুনিয়ায় এখন জোর চর্চা চলছে। রাখি উৎসব উপলক্ষে একটি নামী গয়না প্রস্তুতকারী সংস্থার হয়ে প্রচার করেছিলেন অভিনেত্রী। কিন্তু সেই বিজ্ঞাপনে তাঁর পরা পোশাক ঘিরেই সমাজমাধ্যমে শুরু হয়ে যায় জোর বিতর্ক ও ট্রোলিং। এবার এই তপ্ত বিতর্কের মাঝেই বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট মতামত জানালেন অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার মা মধু চোপড়া (Madhu Chopra)।
বৃহস্পতিবার একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন মধু চোপড়া। সেখানেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই পোশাক বিতর্ক নিয়ে সরাসরি নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট জানান, একজন মানুষের নিজের পছন্দের পোশাক পরার পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই স্বাধীনতারও একটি নির্দিষ্ট গণ্ডি বা সীমা থাকা দরকার। তাঁর কথায়, ‘নিজের শরীর, নিজের ইচ্ছা’ বা ‘মাই বডি, মাই চয়েস’—এই ধারণাটিও একটি শালীন সীমার মধ্যে কাজ করে এবং সেটাই হওয়া উচিত। নিজের আত্মসম্মান রক্ষা করার পাশাপাশি অন্যের অনুভূতি ও মূল্যবোধকে সম্মান জানানো অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয়।
মধু চোপড়া আরও ব্যাখ্যা করে বলেন, কোন পোশাক কোথায় পরা হচ্ছে, সেই স্থানটি বোঝা খুব প্রয়োজন। এমন অনেক জায়গা রয়েছে যেখানে আধুনিক ও খোলামেলা পোশাক পরা অত্যন্ত স্বাভাবিক। তাঁর নিজের সন্তানেরাও পেশাগত কাজের জন্য বা শখের খাতিরে এই ধরনের পোশাক পরে থাকে। কিন্তু সেই পরিবেশগুলোর জন্য তা গ্রহণযোগ্য হলেও, সব জায়গার ক্ষেত্রে একই নিয়ম খাটে না। বিশেষ করে যেখানে ঐতিহ্য এবং পারিবারিক উৎসবের সম্পর্ক জড়িয়ে থাকে, সেখানে সেই জায়গার গুরুত্ব বুঝে চলাই আসল।
বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল রাখির ওই বিজ্ঞাপনে কৃতির সাজসজ্জাকে কেন্দ্র করে। সেখানে অফ-হোয়াইট রঙের একটি আধুনিক ব্রালেট ধাঁচের ব্লাউজ, সঙ্গে কেপ ও বিশেষ ধরনের ড্রেপড স্কার্ট পরেছিলেন তিনি। এই সাজ দেখেই নেটিজেনদের একাংশ দাবি করেন, রাখির মতো একটি পবিত্র এবং পারিবারিক ভারতীয় উৎসবের আমেজের সঙ্গে এই ধরনের সাজ একেবারেই মানানসই নয়।
সমালোচনার ঝড় উঠতেই প্রথমে চুপ থাকেননি কৃতি শ্যানন। গত ২৫ অগস্ট তিনি নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলে একটি দীর্ঘ বার্তা শেয়ার করে ট্রোলের জবাব দেন। অভিনেত্রী স্পষ্টভাবে জানান যে, যে কোনও ভারতীয় উৎসবের আসল মর্ম লুকিয়ে থাকে মানুষের মন, ভালোবাসা ও আন্তরিক আবেগের মধ্যে; কে কী পোশাক পরল তার ওপর কখনও উৎসবের গুরুত্ব নির্ভর করে না।
তবে কৃতির এই যুক্তি সত্ত্বেও সমাজমাধ্যমে বিতর্ক থামার বদলে দিন দিন আরও বাড়তে থাকে। ফলে প্রবল চাপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয় ওই গয়না প্রস্তুতকারী সংস্থা। বুধবার ইনস্টাগ্রামে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করে সংস্থাটির তরফে জানানো হয়, ভারতীয় সংস্কৃতি, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও সব ধর্মীয় উৎসবের প্রতি তাদের অগাধ শ্রদ্ধা ও সম্মান রয়েছে। তাদের এই বিজ্ঞাপনের ভাবনা ছিল গোটা পরিবারের পাশাপাশি ঘরের পোষ্যদের সঙ্গেও রাখির উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়া। কিন্তু সেই বিজ্ঞাপন যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে সমাজের কোনও অংশের মানুষের ভাবাবেগে আঘাত করে থাকে, তবে তার জন্য তারা অত্যন্ত দুঃখিত। সেই কারণেই ভারতীয় মূল্যবোধের প্রতি পূর্ণ সম্মান জানিয়ে সমস্ত ধরনের প্রচারমাধ্যম থেকে কৃতি শ্যাননের ওই বিতর্কিত বিজ্ঞাপনটি পুরোপুরি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
