
বলিউডের আকাশে ইরফান খান এমন এক নক্ষত্র, যার অভাব আজও প্রতি মুহূর্তে অনুভব করে সিনেদুনিয়া। তাঁর সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করা যেকোনও নবাগত শিল্পীর কাছেই ছিল স্বপ্নের মতো। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই সোনালি দিনগুলোর কথা মনে করালেন অভিনেত্রী রাধিকা মদান। তাঁর কথায়, ‘আংরেজি মিডিয়াম’ ছবিতে ইরফানের সঙ্গে কাজ করাটা কেবল অভিনয় শেখা ছিল না, তা ছিল এক জন মানুষ হিসেবে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার লড়াই।
বর্তমানে অনিল কাপুরের সঙ্গে ‘সুবেদার’ ছবিতে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়োচ্ছেন রাধিকা। কিন্তু কেরিয়ারের শুরুর দিকে ইরফানের সঙ্গে কাজ যে তাঁকে কতটা বদলে দিয়েছিল, তা অকপটে স্বীকার করলেন অভিনেত্রী। রাধিকা জানান, যখন তিনি ‘আংরেজি মিডিয়াম’-এ সুযোগ পান, তখন তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে একেবারেই নতুন। অথচ সেটে সেই মহাতারকা তাঁকে কখনও ‘বাচ্চা’ বা ‘অনভিজ্ঞ’ বলে সরিয়ে দেননি। বরং প্রতিটি দৃশ্যে রাধিকার মতামত জানতে চাইতেন ইরফান। তাঁর সহজাত প্রতিভাকে সম্মান করতেন এবং তাঁকে একজন সমান মাপের শিল্পী হিসেবে গণ্য করতেন।
রাধিকা স্মৃতিচারণ করে বলেন, “ইরফান স্যার হয়তো জানতেনও না তিনি আমার জন্য কী করছেন। একজন নবাগতা অল্পবয়সী মেয়েকে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে শিখিয়েছিলেন তিনি। তাঁর সেই ব্যবহার আমাকে সাহস জুগিয়েছিল নিজের জন্য রুখে দাঁড়াতে এবং সামনে এগিয়ে যেতে। তিনি আমাকে শিখিয়েছিলেন যে, আমিও গুরুত্বপূর্ণ এবং আমারও কিছু বলার আছে।” অভিনেত্রীর মতে, ইরফানের সেই সহমর্মিতা তাঁর জীবনের মানদণ্ড বদলে দিয়েছিল। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, বড় শিল্পী হওয়ার আগে এক জন ভালো মানুষ হওয়া কতটা জরুরি।
২০২০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘আংরেজি মিডিয়াম’ ছিল ইরফান খানের শেষ অভিনীত ছবি। বাবা ও মেয়ের সম্পর্কের এক অসাধারণ গল্প ফুটে উঠেছিল বড় পর্দায়। হোমি আদাজানিয়া পরিচালিত এই ছবিতে ছিলেন ডিম্পল কাপাডিয়া, পঙ্কজ ত্রিপাঠি ও দীপক ডোব্রিয়ালও। পর্দার বাইরের সেই স্নেহের কথা বলতে গিয়ে রাধিকা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমি ওঁর কাছে আজীবন ঋণী হয়ে থাকব।” ইরফানের সেই অকাল প্রয়াণ বলিউডে এক শূন্যতা তৈরি করলেও, রাধিকার মতো তরুণ তুর্কিদের মনে তিনি আজও বেঁচে আছেন একজন পথপ্রদর্শক হিসেবে।