
ছবিতে তিনি থাকা মানেই অট্টহাসি। ছোটখাটো চেহারা, অদ্ভুত এক্সপ্রেশন আর নিখুঁত কৌতুকাভিনয়, বছরের পর বছর দর্শককে হাসিয়ে গিয়েছেন রাজপাল যাদব। কিন্তু পর্দার সেই হাসির আড়ালে নাকি লুকিয়ে রয়েছে টাকার টানাপোড়েন, ঋণের চাপ আর আইনি ঝামেলার কাহিনি। ঋণ মুক্ত হতে না পেরে, চেক বাউন্স মামলায় জড়িয়ে পড়েন রাজপাল। এই মুহূর্তে তিহার জেলেই রয়েছেন। ২০২৬ সালে তাঁর মোট সম্পত্তি নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হতেই সামনে এসেছে সেই আর্থিক যাত্রার উত্থান-পতনের গল্প।
সুত্রের খবর, রাজপাল যাদবের মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ কোটি টাকার মধ্যে। সিনেমার পারিশ্রমিক, মঞ্চ শো, বিজ্ঞাপন এবং বিনিয়োগ সব মিলিয়েই এই অঙ্ক দাঁড়িয়েছে। বড় বাজেটের ছবিতে তিনি নাকি প্রতি ছবিতে ১ থেকে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত নেন। চরিত্রের গুরুত্ব অনুযায়ী এই অঙ্ক বেড়েও যায় কোনও সময়। মঞ্চ অনুষ্ঠানে উপস্থিতির জন্যও তাঁর পারিশ্রমিক কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্ত পৌঁছয় বলে শোনা গিয়েছে।
কিন্তু এত আয় থাকা সত্ত্বেও কেন বারবার বিতর্কে জড়িয়েছেন রাজপাল? এখানেই গল্পে আসে টাকার জটিল হিসেব। নিজের প্রযোজনায় ছবি তৈরির সময় তিনি বড় অঙ্কের ঋণ নিয়েছিলেন। সেই ঋণ শোধ না হওয়া নিয়ে ঘটনার জল গড়ায় আইনি মামলা পর্যন্ত। চেক বাউন্স মামলায় জেলও খাটছেন। একসময় যাঁকে কমেডির রাজা বলা হত, তাঁকেই আদালতে দাঁড়াতে হয়েছিল হিসেব মেলাতে না পারার জন্য।
এই ঘটনাতে অনেকের মনেই প্রশ্ন এসেছে, বড় অঙ্কের সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এই ঘটনা ঘটল?
তবে ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর চাহিদা এখনও কমেনি। ছবিতে তিনি থাকলেই দর্শক নিশ্চিন্ত পর্দায় মজাদার কিছু হবেই। নতুন প্রজন্মের নায়ক-নায়িকাদের মাঝেও তিনি নিজের জায়গা ধরে রেখেছেন। আর্থিক ধাক্কা সত্ত্বেও তাঁর ভক্তরা, তাঁর বহু সহকর্মী যে তাঁর হাত ছাড়েনি তা সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখ রাখলেই বোঝা যায়। অনেকেই এখন সব সমস্যা মিটিয়ে পর্দায় অভিনেতার ম্যাজিকের অপেক্ষায় রয়েছেন।