Bigg Boss Bangla: রাজবীরের বিছানায় রঙিন সফট টয়, কোন স্মৃতি আঁকড়ে রয়েছে জানেন?
Rajveer dey siliguri home: রাজবীরের ভাই যখন খুব ছোট , তখনই তাঁদের বাবা মারা যান। সেই বাবার অমূল্য স্মৃতি আঁকড়ে ধরেই দিন কাটছে পরিবারের। শুধু তাই নয়, মায়ের গভীর ইচ্ছে, রাজবীরের ঘরে একদিন তাঁর নিজের সন্তানরাও খেলবে এই পুতুলগুলো নিয়েই। বাবার দেওয়া সেই স্মৃতিগুলিকে তাই আজও অত্যন্ত যত্নে আগলে রেখেছেন তাঁরা।

শিলিগুড়ির মাটি থেকে উঠে আসা সাধারণ ঘরের ছেলে রাজবীর দে আজ রিয়েলিটি শোয়ের সুবাদে পরিচিত মুখ। লাইমলাইটে আসার পরেও নিজের শেকড় ভোলেননি তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রাজবীরের শিলিগুড়ির সাধারণ বাড়ির অন্দরের ছবি সামনে এসেছে। আর সেখানেই দেখা মিলেছে তাঁর বিছানায় সযত্নে রাখা রয়েছে কয়েকটি রঙিন সফট টয়! কার এই সফট টয়? কোন স্মৃতি রয়েছে এই সফট টয়ে?
এই পুতুলগুলির পেছনের আসল গল্প ফাঁস করেছেন তাঁর মা। রাজবীরের ছোটবেলায় এই খেলনাগুলি তাঁর বাবা কিনে দিয়েছিলেন। আজ তাঁর বাবা আর পৃথিবীতে নেই, ফলে এই রঙিন পুতুলগুলিই হয়ে উঠেছে তাঁর জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান স্মারক। রাজবীরের ভাই যখন খুব ছোট , তখনই তাঁদের বাবা মারা যান। সেই বাবার অমূল্য স্মৃতি আঁকড়ে ধরেই দিন কাটছে পরিবারের। শুধু তাই নয়, মায়ের গভীর ইচ্ছে, রাজবীরের ঘরে একদিন তাঁর নিজের সন্তানরাও খেলবে এই পুতুলগুলো নিয়েই। বাবার দেওয়া সেই স্মৃতিগুলিকে তাই আজও অত্যন্ত যত্নে আগলে রেখেছেন তাঁরা।
গ্ল্যামার ও প্রতিযোগিতার দুনিয়ায় পা রাখলেও রাজবীরের মাটির কাছাকাছি থাকা স্বভাবই তাঁকে দর্শকদের অন্তরে আলাদা জায়গা করে দিয়েছে। রিয়েলিটি শো বা বিগ বসের মঞ্চে তাঁর পারফরম্যান্স বরাবরই চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেছে। শিলিগুড়ির সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসে যেভাবে তিনি নিজের প্রতিভার জোরে জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় লড়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
জীবনের শুরুতেই পিতৃহীন হওয়ার কারণে যে লড়াই তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে লড়তে হয়েছে, তার ছায়া স্পষ্ট দেখা যায় তাঁর মানসিকতায়। শোয়ের তীব্র চাপ ও স্ট্র্যাটেজির মাঝেও তিনি নিজের নীতি ও পারিবারিক মূল্যবোধকে বিসর্জন দেননি। শোয়ের অন্দরে বিভিন্ন টাস্ক, কূটকাচালি এবং আবেগপ্রবণ মুহূর্তগুলিতে রাজবীরের সংযত আচরণ দর্শকদের নজর কেড়েছে। যেখানে অনেকে লাইমলাইটে থাকার জন্য অতিরিক্ত নাটকীয়তা বেছে নেন, সেখানে রাজবীর নিজের স্বভাবসুলভ সরলতা বজায় রেখেই এগিয়েছেন।
ক্যামেরার সামনে কৃত্রিমতা নয়, বরং তাঁর এই সরল ও আবেগঘন জীবনদর্শনই তাঁকে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি পৌঁছে দিয়েছে। ঘরের কোণে বাবার দেওয়া সেই ছোটবেলার পুতুলগুলোকে আগলে রাখার যে ছবি সামনে এসেছে, তা প্রমাণ করে লাইমলাইটের আড়ালেও তিনি আজও সেই শিলিগুড়ির সাধারণ বাড়ির শেকড়েকেই আঁকড়ে রয়েছেন।
তথ্য এবং পুতুলের ছবি সৌজন্যে- সিটি সিনেমা
