Namit Malhotra: একঝটকায় খোয়া গিয়েছিল ৯০ শতাংশ সম্পত্তি! কীভাবে ঘুরে দাঁড়ালেন ‘রামায়ণ’ প্রযোজক নমিত মালহোত্রা?
Namit Malhotra Ramayana producer net worth: পাঁচ দশকের জীবন পেরিয়ে ৫০ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে তিনি স্মৃতির সরণি বেয়ে ফিরে গেলেন ২০০৮ সালের সেই কঠিন দিনগুলোতে, যখন বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার থাবায় নিজের অর্জিত সম্পত্তির প্রায় ৯০ শতাংশ একঝটকায় খুইয়ে বসেছিলেন তিনি।

হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্ট ২০২৬ (Hurun India Rich List 2026) অনুযায়ী যে পরিবারের মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১৬,০০০ কোটি টাকা, সেই ‘রামায়ণ’ ছবির প্রযোজক নমিত মলহোত্রার (Namit Malhotra) শোনালেন এক জীবনের রোমাঞ্চকর গল্প। পাঁচ দশকের জীবন পেরিয়ে ৫০ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে তিনি স্মৃতির সরণি বেয়ে ফিরে গেলেন ২০০৮ সালের সেই কঠিন দিনগুলোতে, যখন বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার থাবায় নিজের অর্জিত সম্পত্তির প্রায় ৯০ শতাংশ একঝটকায় খুইয়ে বসেছিলেন তিনি।
২০০৭ সালে সিনেমা স্বপ্ন নিয়ে আমেরিকায় পাড়ি দিয়েছিলেন নামিত। উদ্দেশ্য ছিল একটি আন্তর্জাতিকমানের সংস্থা গড়ে তোলা। কিন্তু লস অ্যাঞ্জেলেসে পৌঁছানোর ঠিক এক বছরের মাথায়, ২০০৮ সালের বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা (Global Financial Crisis) তাঁর সমস্ত পরিকল্পনাকে এক অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেয়। তবে সমস্ত প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে দীর্ঘ দুই দশকের কঠোর লড়াইয়ের পর ফের ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তিনি।
আগামী ৫ নভেম্বর বিশ্বজুড়ে মুক্তি পেতে চলেছে নামিত মলহোত্রর স্বপ্নের দুই পর্বের মেগাবাজেট ছবি ‘রামায়ণ’। মুক্তির আগেই লস অ্যাঞ্জেলেসের ঐতিহ্যবাহী অ্যাকাডেমি থিয়েটারে (Academy Theater) চলচ্চিত্রটির একটি বিশেষ প্রিভিউ প্রদর্শনীর আয়োজন করেন তিনি। এই গৌরবময় মুহূর্তে নিজের মনের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে নামিত জানান, মাত্র ১৯ বছর বয়সে গ্যারেজ থেকে শুরু করা এক স্বপ্নদর্শীর জন্য এই মুহূর্তটি তাঁর জীবনের ‘অস্কার জয়ের’ শামিল।
দর্শকদের উদ্দেশে নামিত আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমি এই সন্ধ্যাটি অ্যাকাডেমি থিয়েটারে আয়োজন করতে চেয়েছিলাম কারণ এটি আমার ব্যক্তিগত অস্কারের মুহূর্ত। আমার ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস (VFX) সংস্থা ‘DNEG’ এবং আমার টিম এ পর্যন্ত মোট ৮টি অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড জিতেছে। যার মধ্যে বিগত ১১ বছরেই আমরা ৭টি অস্কার পেয়েছি। ক্রিস্টোফার নোলান, ডেনি ভিলেনোভের মতো বিশ্বখ্যাত পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি।”
তিনি আরও যোগ করেন, “চলচ্চিত্র পরিবারের তৃতীয় প্রজন্ম হিসেবে মাত্র ১৯ বছর বয়সে একটা অ্যাপল কম্পিউটার আর ২১ বছর বয়সী তিনজন শিক্ষককে নিয়ে গ্যারেজে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজকের এই মুহূর্তটি সেই স্বপ্নেরই বাস্তবতা। আর এই স্বপ্নপূরণের কথা শেয়ার করার জন্য স্বপ্নের শহর লস অ্যাঞ্জেলেসের চেয়ে ভালো জায়গা আর কী হতে পারে!”
২০০৮ সালের আর্থিক ক্ষতির কথা স্মরণ করে নামিত বলেন, “পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের উদ্দেশ্যে ২০০৭ সালে আমি লস অ্যাঞ্জেলেসে আসি। তারপর আর পেছনে ফিরে তাকাইনি। ২০০৮ সালের মহামন্দায় নিজের ৯০ শতাংশ সম্পত্তি হারানোর পর একজন অভিবাসী হিসেবে আজ আবার ঘুরে দাঁড়ানো এবং বিশ্বের সর্ববৃহৎ স্বাধীন প্রযোজনা তৈরি করতে পারা— আজ এখানে দাঁড়িয়ে কী অনুভূতি হচ্ছে তা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। আমরা ভারতের সেরা প্রতিভাদের সঙ্গে হলিউডের শীর্ষস্থানীয় কলাকুশলীদের এক ছাদের নিচে আনতে পেরেছি।”
নিজের এই অভাবনীয় সাফল্যের পথচলায় পাশে থাকার জন্য বাবা নরেশ মলহোত্র, মা নীতাজি এবং স্ত্রী-র প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানান নামিত। বিশেষ করে প্রযোজনা জগতে নিজের কেরিয়ার শুরু করার পেছনে তাঁর পরিচালক বাবার অনুপ্রেরণাকেই সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হিসেবে স্বীকার করে নিয়েছেন এই বিশিষ্ট প্রযোজক।
