
বলিউডে এনার্জি, উন্মাদনা ও পর্দা কাঁপানো পারফরম্যান্স মানেই উঠে আসে রণবীর সিংয়ের নাম। শুধু অভিনয়ের জন্যই নয়, কাজের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা ও পেশাদার মনোভাবের জন্যও বারবার চর্চায় এসেছেন তিনি। সম্প্রতি এমনই এক ঘটনার কথা প্রকাশ্যে এসেছে, যা আবারও প্রমাণ করে দিয়েছে বলিউডের অন্যতম পরিশ্রমী অভিনেতা রণবীর সিং।
জানা গিয়েছে, কলকাতার ঐতিহ্যবাহী হাওড়া ব্রিজে একটি নাচের দৃশ্যের শুটিং চলাকালীন রণবীর সিংয়ের পায়ে গুরুতর চোট লাগে। সেই আঘাত এতটাই গভীর হয় যে চিকিৎসকদের তাঁর পায়ে ৬ থেকে ৭টি সেলাই দিতে হয়। সাধারণত এই ধরনের আঘাতের পর বিশ্রাম নিতে বলেন চিকিৎসকরা। কিন্তু সেক্ষেত্রে শুটিং স্থগিত রাখার পথে হাঁটেননি রণবীর।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই ঘটনার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন জনপ্রিয় কোরিওগ্রাফার বসকো মার্টিস। তিনি জানান, চোট পাওয়ার পরও রণবীর শুটিং বন্ধ করতে চাননি। চিকিৎসার পর প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনেই তিনি নাচের দৃশ্যে অংশ নেন। বসকোর কথায়, “পায়ে সেলাই থাকা সত্ত্বেও রণবীরের এনার্জি এক মুহূর্তের জন্যও কমেনি। যেভাবে তিনি নেচেছেন, দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে তিনি তীব্র ব্যথার মধ্যে রয়েছেন।”
হাওড়া ব্রিজে শুটিং মানেই বাড়তি চাপ। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত, কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সময়ের সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করতে হয়। তার উপর শারীরিক যন্ত্রণা সব মিলিয়ে মোটেই সহজ ছিল না পরিস্থিতি। কিন্তু সেই সব বাধা সত্ত্বেও রণবীর নিজের পারফরম্যান্সে কোনও আপস করেননি।
শুটিং ইউনিট সূত্রের খবর অনুযায়ী, নাচের প্রতিটি স্টেপে রণবীর সমানভাবে মনোযোগী ছিলেন। একাধিক টেক নেওয়ার প্রয়োজন হলেও তিনি ক্লান্তি বা ব্যথার একবারও জানাননি। বরং পুরো টিমকে উৎসাহ দিয়েছেন এবং কাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করেছেন।
এর আগেও বিভিন্ন ছবির শুটিংয়ে শারীরিক কষ্ট উপেক্ষা করে কাজ করেছেন অভিনেতা। ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই এই কারণে তাঁকে অনেক শিল্পীর থেকে আলাদা মনে করেন।