
বক্স অফিসে আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়েছে আদিত্য ধরের নতুন ছবি ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’। রণবীরের ‘হামজা আলি মাজারি’ অবতার দেখতে যখন প্রেক্ষাগৃহগুলো জমজমাট, ঠিক তখনই সুদূর কানাডা থেকে এল এক হাড়হিম করা খবর। ছবি দেখতে গিয়ে উত্তেজনার পারদ এতটাই চড়ল যে, দর্শকরা হলের পর্দা ছিঁড়ে কার্যত তাণ্ডব শুরু করলেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছে?
মন্ট্রিয়ালের সিনেপ্লেক্স অ্যাটওয়াটার এবং অ্যাংরিগনন—এই দুই নামী প্রেক্ষাগৃহেই ঘটেছে নজিরবিহীন এই ঘটনা। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, স্ক্রিনিং চলাকালীন হঠাৎই বিশৃঙ্খলা শুরু হয়। উন্মত্ত জনতা প্রেক্ষাগৃহের পর্দার ক্ষতি করতে শুরু করে। কেন এই হামলা? নেটিজেনদের একাংশের দাবি, ছবির প্রেক্ষাপট বা কোনও বিশেষ দৃশ্য সহ্য করতে না পেরেই হয়তো এই আক্রোশ। কেউ কেউ বলছেন, ছবির বিষয়বস্তুর বিরোধী হওয়ার জন্যই এই অন্তর্ঘাত। তবে কারণ যাই হোক না কেন, ব্যক্তিগত সম্পত্তির এই বিপুল ক্ষতি নিয়ে সরব হয়েছেন কানাডাবাসী। নেটিজেনদের বক্তব্য, “পছন্দ না হলে সরব হওয়া যায়, কিন্তু কয়েক হাজার ডলারের পর্দা নষ্ট করা কোনও সমাধান নয়।”
কানাডায় যখন অশান্তির আগুন, রণবীরের ছবির পকেটে তখন উপচে পড়া লক্ষ্মী। মুক্তির মাত্র তিন দিনেই বিশ্বজুড়ে ৩০০ কোটির গণ্ডি পার করে ফেলেছে এই স্পাই অ্যাকশন থ্রিলার। প্রথম দিনেই ১০০ কোটির ক্লাবে ঢুকে ইতিহাস গড়েছেন রণবীর।
ছবিতে রণবীরের চরিত্রের নাম জসকিরত সিং রাঙ্গি, যার আসল পরিচয় খুঁজে পাওয়ার লড়াই নিয়েই আবর্তিত হয়েছে দ্বিতীয় ভাগ। রণবীরের পাশাপাশি অর্জুন রামপাল, আর মাধবন এবং সঞ্জয় দত্তর মতো হেভিওয়েট তারকাদের উপস্থিতি ছবিটিকে দিয়েছে অন্য মাত্রা।
কেন বিতর্ক?
এই অশান্তির নেপথ্যে কোনও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর উসকানি রয়েছে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ। তবে অদ্ভুতভাবে এই নেতিবাচক প্রচারই যেন ছবির ব্যবসার পালে আরও হাওয়া দিচ্ছে। সিনেমার কোনও দৃশ্যে কাউকে ছোট করা হয়েছে কি না বা এই হিংসার কারণ রাজনৈতিক কি না, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। তবে আপাতত ‘ধুরন্ধর ২’ শুধু গল্প নিয়ে নয়, বাস্তবের গণ্ডগোলের জন্যও খবরের শিরোনামে।