Mithu Mukherjee: ‘ও আমাকে বলেছিল…’, মিঠুর সঙ্গে শেষবার কী কথা হয়েছিল রত্না ঘোষালের?
Ratna Ghoshal on Mithu Mukherjee: ‘মৌচাক’, ‘স্বয়ংসিদ্ধা’-র চঞ্চল নীপার আচমকা প্রয়াণে স্তব্ধ টলিউড। বহু বছর ধরে গ্ল্যামার দুনিয়া থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ গুটিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। বন্ধু ও সহ-অভিনেত্রীর এই চিরবিদায়ের খবর পেয়ে কান্নাভেজা গলায় স্মৃতিচারণ করলেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী রত্না ঘোষাল।

মারণরোগ ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন সাতের দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিঠু মুখোপাধ্যায়। ‘মৌচাক’, ‘স্বয়ংসিদ্ধা’-র চঞ্চল নীপার আচমকা প্রয়াণে স্তব্ধ টলিউড। বহু বছর ধরে গ্ল্যামার দুনিয়া থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ গুটিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। বন্ধু ও সহ-অভিনেত্রীর এই চিরবিদায়ের খবর পেয়ে কান্নাভেজা গলায় স্মৃতিচারণ করলেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী রত্না ঘোষাল।
টিভি নাইন বাংলাকে মিঠুর স্মৃতি হাতড়ে রত্না ঘোষাল বলেন, “ওর সঙ্গে আমার বহু বছর দেখা নেই, কিন্তু সম্পর্কটা খুব মিষ্টি ছিল। আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। ভীষণ ভালো মনের মেয়ে ছিল মিঠু। আমায় খুব ভালোবাসত। যেমন হাসিখুশি, তেমনই বড় মনের মানুষ।”
পুরোনো স্মৃতি তুলে ধরে রত্না ঘোষাল জানান, বহু বছর আগে কালীপুজোর সময়েও মিঠুর বাড়িতে গিয়েছিলেন তিনি। একসঙ্গে ‘মৌচাক’, ‘স্বয়ংসিদ্ধা’ ও ‘আশ্রিতা’-র মতো স্মরণীয় চলচ্চিত্রে কাজ করার অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি বলেন, “খবরটা শুনে বুকটা কেঁপে উঠল। এখনও ভাবতে পারছি না। গলা ধরে আসছে। খুব বড় মাপের শিল্পী ছিল মিঠু। যে কাজটাই করত, মন থেকে ভালোবেসে করত। তাই এভাবে হঠাৎ সব কিছু ছেড়ে দিয়ে যে অন্তরালে চলে যাবে, তা কোনওদিন কল্পনাও করিনি।”
টলিউড থেকে মিঠুর আচমকা উধাও হয়ে যাওয়া নিয়ে এক অজানা তথ্য ফাঁস করেন রত্না ঘোষাল। তিনি বলেন, “মাঝেমধ্যেই কলকাতা-মুম্বই করত মিঠু। কলকাতা ছাড়ার আগে প্রায়ই বলত, ‘আমি ফিরে আবার একটা বড় ছবি শুরু করব, তোমাকেও নেব সেই ছবিতে।’ ওর প্রযোজিত এবং অভিনীত শেষ ছবি ‘আশ্রিতা’ বক্স অফিসে দারুণ হিট করেছিল। সেই ছবিতে আমিও ছিলাম। আশ্রিতার ডাবিং পর্ব শেষ করার পরও আমাকে একই কথা বলেছিল—মুম্বই ঘুরে এসে আবার কলকাতায় বড় কাজ করবে। কিন্তু তারপর যেই মুম্বই গেল, আর কোনওদিন ফিরে এল না।”
রত্না ঘোষাল আরও যোগ করেন, “এরপর আর ফোন করেও ওকে পেতাম না। টলিউডের অনেকেই বলত ও মুম্বইতেই আছে, কিন্তু কোথায় বা কী অবস্থায় আছে—কারও কাছেই স্পষ্ট খবর ছিল না। ধীরে ধীরে সময়ের নিয়মে যোগাযোগ একেবারেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আর আজ তো ও সবকিছুর পার করে অন্য জগতে চলে গেল।”
সাফল্যের চূড়ায় দাঁড়িয়েও হঠাৎ অন্তরালে চলে যাওয়া এবং নীরবে পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়ার এই বেদনা যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তাঁর এককালের সহকর্মীরা। রুপোলি পর্দায় তাঁর ফেলে যাওয়া উজ্জ্বল উপস্থিতি আর রঙিন স্মৃতিটুকুই এখন রয়ে গেল টলিপাড়ার কাছে।
