বলিউডের প্রথম সারির অভিনেতাদের জন্যই নতুনদের হাল খারাপ! কাকে ঠুকলেন রিচা?
রিচা চাড্ডা বরাবরই ঠোঁটকাটা হিসেবে পরিচিত। তবে এবার তিনি যে প্রশ্নটি তুলেছেন, তা অনেকের মনেই চিন্তার ছাপ ফেলেছে। তাঁর মতে, স্বাধীন ধারার সিনেমা চিরকালই ঝুঁকি নিতে পছন্দ করত। সেখানে প্রাধান্য পেত গল্পের সত্যতা এবং নতুনত্ব। রিচার বক্তব্য হল, "আমি কোনও নির্দিষ্ট অভিনেতার ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছি না। কিন্তু একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অভিনেতা অন্তত এটুকু গ্যারান্টি দিতে পারেন যে অভিনয়ের মান বজায় থাকবে।"

ইনডিপেন্ডেন্ট বা স্বাধীন ধারার সিনেমা মানেই এককালে ছিল নতুন প্রতিভা খোঁজার মঞ্চ। কিন্তু বর্তমানে কী সেই ছবিটা কিছুটা পাল্টাচ্ছে? কেন যে ছবিতে তথাকথিত ‘তারকা’র দরকার নেই, সেখানেও কমার্শিয়াল অভিনেতাদের ভিড় করানো হচ্ছে? সম্প্রতি এই নিয়েই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন অভিনেত্রী তথা প্রযোজক রিচা চাড্ডা। তাঁর সাফ কথা, যেসব অভিনেতাদের বক্স অফিসে ছবি নিয়ে বাজিমাত করার ক্ষমতা নেই, আবার আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালেও যাঁদের নামের ওজন বিশেষ কাজ করে না— তাঁদের কেন মিছিমিছি ইন্ডিপেনডেন্ট ছবিতে নেওয়া হচ্ছে? রিচার এই মন্তব্য ঘিরে এখন বি-টাউনে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
“পারফরম্যান্সের গ্যারান্টি কে দেবে”?
রিচা চাড্ডা বরাবরই ঠোঁটকাটা হিসেবে পরিচিত। তবে এবার তিনি যে প্রশ্নটি তুলেছেন, তা অনেকের মনেই চিন্তার ছাপ ফেলেছে। তাঁর মতে, স্বাধীন ধারার সিনেমা চিরকালই ঝুঁকি নিতে পছন্দ করত। সেখানে প্রাধান্য পেত গল্পের সত্যতা এবং নতুনত্ব। রিচার বক্তব্য হল, “আমি কোনও নির্দিষ্ট অভিনেতার ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছি না। কিন্তু একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অভিনেতা অন্তত এটুকু গ্যারান্টি দিতে পারেন যে অভিনয়ের মান বজায় থাকবে।” তিনি মনে করেন, যেসব গল্পের জন্য বড় স্টারের প্রয়োজন নেই, সেখানে মিছিমিছি বাজেট বাড়িয়ে কমার্শিয়াল মুখ নেওয়ার কোনও মানেই হয় না।
২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে ইন্ডিপেনডেন্ট সিনেমাকে টিকিয়ে রাখতে হলে অর্থনৈতিক দিকটা মাথায় রাখা জরুরি বলে মনে করেন রিচা। তিনি বাস্তব চিত্রটা তুলে ধরে বলেন, বড় অভিনেতাদের সঙ্গে তাঁদের বিশাল টিম বা ‘এন্টুরেজ’-এর খরচও বহন করতে হয় প্রযোজকদের। এতে অকারণেই ছবির বাজেটে একটা বড় ফাঁক তৈরি হয়। রিচার পরামর্শ হল, “এমন অভিনেতাদের সুযোগ দিন যাঁরা ছবির বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াবেন, কিন্তু বাজেটে টান দেবেন না। দর্শকরা এখন ভালো গল্প এবং বিশ্বাসযোগ্য অভিনয় দেখতে চান।”
আশির দশকের উদাহরণ টেনে রিচা মনে করিয়ে দিয়েছেন ফারুক শেখ, অমল পালেকর কিংবা শাবানা আজমিদের কথা। তাঁরা সেই সময়ে বিকল্প ধারার সিনেমার মহাতারকা ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে ইন্ডাস্ট্রি যেন পাঁচজন ব্যস্ত এবং ক্লান্ত প্রথম সারির পুরুষ অভিনেতার সম্মতির জন্য চাতক পাখির মতো বসে থাকে। রিচার মতে, যদি সবাই শুধু তাঁদের ওপর ভরসা করে বসে থাকে, তবে নতুন কাজের সংখ্যা যেমন কমবে, তেমনই কমবে মৌলিকত্ব।
ইন্ডিপেনডেন্ট সিনেমা মানেই ছিল নতুন মুখের অভিনেতা অভিনেত্রীদের সুযোগ, নতুন লেখক এবং নতুন কারিগররা নিজেদের নতুন করে চিনতে পারতেন এই ছবিগুলোর হাত ধরে। কিন্তু ‘কমার্শিয়াল ভ্যালু’র মোহে পড়ে যখন কাস্টিংয়ে আপস করা হয়, তখনই ছবির প্রাণ হারিয়ে যায় বলে মনে করেন এই অভিনেত্রী।
