
বলিউডের অন্দরে কি সত্যিই ধর্মের ভিত্তিতে কাজ পাওয়া বা না পাওয়া নির্ধারিত হয়? অস্কারজয়ী সুরকার এআর রহমানের একটি সাম্প্রতিক মন্তব্য এই প্রশ্নটিকেই উসকে দিয়েছে দাবানলের মতো। রহমান সরাসরি আঙুল তুলেছিলেন ইন্ডাস্ট্রির এক অলিখিত ‘সাম্প্রদায়িক বৈষম্য’ বা ‘কমিউনাল বায়াস’-এর দিকে। তবে সুরের জগতের এই মহীরুহের সঙ্গে এবার সরাসরি দ্বিমত পোষণ করলেন আর এক জনপ্রিয় সুরকার-গায়ক সেলিম মার্চেন্ট। তাঁর পাল্টা যুক্তি— যদি বৈষম্যই থাকত, তবে এআর রহমান আজ ভারতের অন্যতম বড় হিন্দু মহাকাব্য ‘রামায়ণ’-এর সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্ব পেতেন না।
ঠিক কী ঘটেছিল?
ঘটনাটি শুরু হয় রহমানের একটি সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে। সেখানে তিনি আক্ষেপের সুরে জানান, বর্তমানে সৃজনশীল মানুষের চেয়েও অ-সৃজনশীল লোকেদের হাতে ক্ষমতা বেশি চলে গিয়েছে। রহমান বলেছিলেন, অনেক সময় তিনি খবর পান, কোনও একটি কাজ তাঁকে দেওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সাম্প্রদায়িক কারণে বা ধর্মীয় প্রভাবে সেটা হাতছাড়া গিয়েছে। তাঁর বদলে অন্য সুরকারকে নিয়োগ করেছে মিউজিক কোম্পানি। সরাসরি না হলেও পরোক্ষভাবে ধর্মের কারণে কাজ হারানোর তাঁরএই অভিযোগ ইন্ডাস্ট্রিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
সেলিম মার্চেন্ট রহমানের এই অভিজ্ঞতাকে সম্মান জানালেও তাঁর মতের সঙ্গে একেবারেই একমত হতে পারছেন না। এক সাক্ষাৎকারে সেলিম সাফ জানান, “আমার মনে হয় না এটা সত্যি। রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, ওঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হয়তো আলাদা হতে পারে, কিন্তু আমি এমনটা মনে করি না।”
নিজের যুক্তির সপক্ষে সেলিম টেনে এনেছেন নীতিশ তিওয়ারির আসন্ন মেগা প্রোজেক্ট ‘রামায়ণ’-এর প্রসঙ্গ। সেলিম বলেন, “ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ হিন্দু মহাকাব্য ‘রামায়ণ’ নিয়ে যে বিশাল কাজ হচ্ছে, তার সুর করার দায়িত্ব যদি রহমানের মতো একজন মানুষের কাঁধেই থাকে, তবে ইন্ডাস্ট্রিতে সাম্প্রদায়িক সমস্যার তত্ত্বটি ধোপে টেকে না।” সেলিম বোঝাতে চেয়েছেন মেধা ও শিল্প সব সময় ধর্মের ঊর্ধ্বে থাকে।
বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা হতেই আবারও মুখ খুলেছেন এআর রহমান। ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন পোস্টে তিনি বিষয়টি খোলসা করার চেষ্টা করেন। তিনি লেখেন, “সঙ্গীতই আমার কাছে সংস্কৃতিকে সম্মান জানানোর এবং মানুষের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার একমাত্র মাধ্যম। ভারত আমার অনুপ্রেরণা, আমার শিক্ষক এবং আমার ঘর।” তিনি আরও জানান যে কাউকে আঘাত করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না এবং ভুল বোঝাবুঝি দূর করে তিনি কেবল সুরের মাধ্যমে ঐক্যের বার্তা দিতে চান।
তবে বিতর্ক থামছে না। সেলিম মার্চেন্টের এই মন্তব্য এখন বি-টাউনের অন্দরে নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইন্ডাস্ট্রির একাংশ মনে করছে, বড় মাপের প্রজেক্টে এখনও যোগ্যতাই শেষ কথা বলে, কিন্তু ধর্মের নামে পর্দার আড়ালে চলা রাজনীতিও অস্বীকার করার উপায় নেই।