Salman Khan: ১২০ কোটি থেকে ৭০ কোটি! কেন হঠাৎ পারিশ্রমিক কমালেন সলমন?
Salman Khan Fees : গত দেড় দশক ধরে নিজের কাজের ব্যবসায়িক মডেলে বিশেষ নজর দিয়ে আসছেন ভাইজান। ২০১০ সালের ‘দাবাং’ ছবির পর থেকে তাঁর প্রায় সমস্ত সফল ছবিই তৈরি হয়েছে নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা ‘সলমন খান ফিল্মস’ (SKF) বা পরিবারের সদস্যদের ব্যানারে।

কাজের বিনিময়ে পারিশ্রমিক হিসেবে এক একটি ছবির জন্য ১২০ থেকে ১৪০ কোটি টাকা হাঁকান তিনি। বলিউডের সর্বোচ্চ উপার্জনকারী তারকাদের তালিকায় চিরকালই শীর্ষে তাঁর নাম। সেই সলমন খানই এবার নিজের চেনা ছক ভাঙলেন। প্রযোজকদের বিপুল স্বস্তি দিয়ে নিজের পারিশ্রমিক থেকে সোজা ৫০ কোটি টাকা কমিয়ে ফেললেন ভাইজান! কিন্তু কোটি কোটি টাকার এই আত্মত্যাগের নেপথ্যে কারণ কী? জানা যাচ্ছে, এক বিশেষ বন্ধুর খাতিরেই এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারকা।
পরিচালক বংশী পাইডিপল্লীর আগামী মেগা প্রজেক্ট ‘SVC 63’-তে মুখ্য ভূমিকায় দেখা যাবে সলমনকে। ২০২৭ সালের ইদকে লক্ষ্য রেখে তৈরি হতে চলা এই ছবির জন্য সলমন সাধারণ হারের তুলনায় অনেক কম টাকা নিচ্ছেন। একাধিক সূত্রের খবর, এই ছবির জন্য ১২০ কোটি বা তার বেশি ফি নেওয়ার বদলে সলমন মাত্র ৭০ কোটি টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।
ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের খবর, সলমনের এই অপ্রত্যাশিত ছাড়ের পেছনে রয়েছে তাঁর দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু রফি কাজীর অবদান। সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, “বিগত দুই দশক ধরে ছবি পিছু সলমনের বাজারদর ১২০ কোটি টাকার উপরে। কিন্তু ‘SVC 63’ ছবির প্রযোজকদের তিনি যে বিরাট আর্থিক ছাড় দিয়েছেন, তার একমাত্র কারণ তাঁর পুরনো বন্ধু রফি কাজী। রফি এ়ই প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত এবং প্রযোজক হিসেবেও তাঁর নাম থাকবে। শুধুমাত্র বন্ধুর সম্মানেই সলমন নিজের পারিশ্রমিকে এত বড় কাটছাঁট করতে রাজি হয়েছেন।”
তবে সলমন কেবল স্থির পারিশ্রমিক বা ‘আপফ্রন্ট ফি’-তেই সন্তুষ্ট থাকছেন, নাকি ছবির লভ্যাংশের (Profit Sharing) কোনও অংশ নিচ্ছেন— তা এখনও স্পষ্ট নয়।
উল্লেখ্য, গত দেড় দশক ধরে নিজের কাজের ব্যবসায়িক মডেলে বিশেষ নজর দিয়ে আসছেন ভাইজান। ২০১০ সালের ‘দাবাং’ ছবির পর থেকে তাঁর প্রায় সমস্ত সফল ছবিই তৈরি হয়েছে নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা ‘সলমন খান ফিল্মস’ (SKF) বা পরিবারের সদস্যদের ব্যানারে। ‘দাবাং’-এর প্রযোজক ছিলেন ভাই আরবাজ খান, আবার ‘বডিগার্ড’ ছবিটির নেপথ্যে ছিলেন বোন আলভিরা খান অগ্নিহোত্রী।
এমনকী, বাইরের কোনও প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে কাজ করলেও সলমন ছবির ডিজিটাল (OTT) ও স্যাটেলাইট স্বত্ব নিজের কাছে রাখতেন, যার বাজারমূল্য একাই প্রায় ১২০ থেকে ১৪০ কোটি টাকা স্পর্শ করত। যশ রাজ ফিল্মসের ‘টাইগার’ ফ্র্যাঞ্চাইজির ক্ষেত্রেও বিশেষ লভ্যাংশ চুক্তি পেতেন তিনি, যা ইন্ডাস্ট্রিতে কেবল শাহরুখ খানের ক্ষেত্রেই দেখা যায়। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে বন্ধুর জন্য সলমনের এই মোটা অঙ্কের ছাড়ের সিদ্ধান্ত এক বিরল দৃষ্টান্ত তৈরি করল।
