Taslima Nasrin: হাসিনার বাংলাদেশ ছাড়তে হয়েছিল, তারেকের বাংলাদেশে কি ফিরবেন তসলিমা?
Taslima Nasrin in Kolkata: কলকাতা ছাড়তে হয়েছিল তসলিমা নাসরিনকে। রাজ্য থেকে নির্বাসিত হওয়ার প্রসঙ্গে বলেন, "আমায় জয়পুরে চলে যেতে বলা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, জয়পুরে যাও কিছুদিনের জন্য, তারপর ফিরে আসবে। কিন্তু আমাকে তো একেবারেই তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।"

কলকাতা: শহরে তসলিমা নাসরিন। দীর্ঘ ২০ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে কলকাতার বুকে পা রাখলেন বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)। ২০০৭ সালে তাঁর লেখা বই ‘দ্বিখণ্ডিত‘-কে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, সেই উত্তাল পরিস্থিতি সামাল দিতে তসলিমাকে শহর ছাড়তে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তারপরে একাধিকবার খোলা চিঠি লিখলেও, বাংলায় ফিরতে পারেননি তসলিমা। অবশেষে বাংলায় পালাবদলের পর ফিরতে পারলেন তসলিমাও। হোক না সে কোনও বই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য। কলকাতায় পা রেখে কী বললেন তসলিমা?
কলকাতায় ফিরে কেমন লাগছে?
প্রায় ২০ বছর পর কলকাতায় ফিরে টিভি৯ বাংলার মুখোমুখি হয়ে তসলিমা বলেন, “কলকাতাকে ভালোবেসে থাকতে এসেছিলাম। ইউরোপের সব কিছু ছেড়ে আমি এখানে এসেছিলাম প্রাণের টানে। বাংলা ভাষার টানে। আমি বাংলা ভাষার লেখক, বাংলা ভাষায় কথা বলি।”
বাংলাদেশে কখনও ফিরবেন না তসলিমা?
বাংলাদেশে না ফিরতে পারার কষ্ট বর্ণনা করে তসলিমা বলেন, “এই বাংলা পরিবেশেই থাকতে চেয়েছিলাম। যখন ফিরছিলাম, তখন মনে হচ্ছিল, আমি তো এক বাংলায় ফিরতে পারি না, ওখানে ফেরা আমার এ জীবনে সম্ভব হবে না। আমার নিজের দেশে না ফেরার কষ্টটা অনেকটাই লাঘব হয় যখন পশ্চিমবঙ্গে থাকি। মনে হয়, বাংলার এক পাশে তো ফিরেছি। ওই কষ্টটা অনেকটা দূর হয়। আজকেও ওই রকম মনে হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল যে দেশে ফিরছি। নিজের দেশে তো ফিরতে পারব না। এটাকেই নিজের দেশ ভেবেছিলাম। এখানেও তো ১৯ বছর ফিরতে পারিনি। এখন ফিরে মনে হচ্ছে যে দেশে ফিরেছি।”
২০০৭ সালে সরকারের চাপের মুখে পড়ে কলকাতা ছাড়তে হয়েছিল তসলিমা নাসরিনকে। রাজ্য থেকে নির্বাসিত হওয়ার প্রসঙ্গে বলেন, “আমায় জয়পুরে চলে যেতে বলা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, জয়পুরে যাও কিছুদিনের জন্য, তারপর ফিরে আসবে। কিন্তু আমাকে তো একেবারেই তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। আমাকে তাড়ানো কিন্তু শুধু সেই দিন হয়নি। ২০০৭ সালের ২২ নভেম্বর নয়, তার অনেক আগে থেকেই আমাকে চলে যেতে বলা হচ্ছিল, এমনকী আমাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল। আমি সেই দুঃখ-কষ্টের কথা মনে করতে চাই না।”
