বদলে যাচ্ছেন সলমন! বক্স অফিসে কপাল ফেরাতে নতুন কী চ্যালেঞ্জ নিচ্ছেন ‘ভাইজান’?
শরীরের ওজনকে ব্যবহার করে এক বিশেষ ধরণের ব্যায়াম। এই পদ্ধতিতে কোনও মেশিন ছাড়াই কেবল পুশ-আপ, স্কোয়াট, প্ল্যাঙ্ক আর পুল-আপের মাধ্যমে পেশিবহুল শরীর ধরে রেখেছেন তিনি। হাড়কাঁপানো ঠান্ডার মধ্যে এই উচ্চতায় কার্ডিও এবং ওয়েট ট্রেনিং করা ছিল সলমনের জীবনের অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জ।

বয়স যে কেবল একটা সংখ্যা মাত্র, তা আবারও প্রমাণ করলেন সলমন খান। আসন্ন ছবি ‘মাতৃভূমি’-র জন্য লাদাখের চরম প্রতিকূল পরিবেশে এক অবিশ্বাস্য শারীরিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কয়েক হাজার ফুট উঁচুতে, যেখানে অক্সিজেনের অভাবে সাধারণ মানুষের নিঃশ্বাস নিতেই কষ্ট হয়, সেখানে টানা ৪৫ দিন ধরে কঠোর পরিশ্রম করেছেন এই মেগাস্টার।
ছবির ইউনিটের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গিয়েছে, লাদাখের মতো দুর্গম এলাকায় পূর্ণাঙ্গ জিম সেটআপ নিয়ে যাওয়া ছিল প্রায় অসম্ভব। তাই সলমন বেছে নিয়েছিলেন ‘ক্যালিসথেনিক্স’—অর্থাৎ শরীরের ওজনকে ব্যবহার করে এক বিশেষ ধরণের ব্যায়াম। এই পদ্ধতিতে কোনও মেশিন ছাড়াই কেবল পুশ-আপ, স্কোয়াট, প্ল্যাঙ্ক আর পুল-আপের মাধ্যমে পেশিবহুল শরীর ধরে রেখেছেন তিনি। হাড়কাঁপানো ঠান্ডার মধ্যে এই উচ্চতায় কার্ডিও এবং ওয়েট ট্রেনিং করা ছিল সলমনের জীবনের অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জ।
সবথেকে অবাক করার বিষয় হল, সলমন এই পরিশ্রম করেছেন বেশ কিছু শারীরিক চোট নিয়েই। সূত্রটি জানিয়েছে, “একাধিক ইনজুরি থাকা সত্ত্বেও সলমন যেভাবে নিজেকে নিংড়ে দিয়েছেন, তা অবিশ্বাস্য। এমন নিষ্ঠা আর প্যাশন কেবল সলমনের পক্ষেই দেখানো সম্ভব।” শুটিংয়ের প্রতিটি মুহূর্তেই তিনি তাঁর শৃঙ্খলার পরিচয় দিয়েছেন।
View this post on Instagram
উল্লেখ্য, এই ছবিটি নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে অনেক জলঘোলা হয়েছে। শুরুতে ছবিটির নাম রাখা হয়েছিল ‘ব্যাটল অফ গালওয়ান’। ২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চিনের সেনাদের সংঘর্ষের ওপর ভিত্তি করে এটি তৈরি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে নির্মাতারা গল্পে বড়সড় বদল আনেন। ছবির নাম বদলে রাখা হয় ‘মাতৃভূমি’। জানা গিয়েছে, নতুন চিত্রনাট্য অনুযায়ী চিন বা গালওয়ানের সরাসরি কোনও উল্লেখ আর এই ছবিতে থাকছে না। পরিবর্তিত এই গল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বর্তমানে ছবিটির বেশ কিছু অংশের ‘রিশুট’ বা পুনরায় চিত্রগ্রহণ চলছে।
সব মিলিয়ে, ‘মাতৃভূমি’-তে সলমনকে এক নতুন রূপে দেখার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন দর্শকরা। লাদাখের সেই রুক্ষ প্রান্তরে সলমনের এই ঘাম ঝরানো পরিশ্রম পর্দায় কতটা জাদু তৈরি করে, এখন সেটাই দেখার।
