
প্রেমের দিনে চমকে দিলেন সৌরভ দাস। ইপিআর-এর সঙ্গে তাঁর নতুন কোলাবরেশন উপহার দিলেন অনুরাগীদের। নতুন ব্যান্ডের নাম এআইএ (আর্টিভিজম ইন অ্যাকশন)। সৌরভের সঙ্গে কুন্তল দে-র এই প্রয়াস নির্ভীক। টিমের তরফে জানানো হলো, ”আমাদের একসঙ্গে প্রথম প্রকাশিত গানটির নাম ভালকারি (Valkyrie)। এই গানের গল্পকে পর্দায় জীবন্ত করে তুলেছেন অয়ন শীল।” ভাবনা বা ভাষার ক্ষেত্রে বিরাট পরিধি নিয়েই এসেছে এই ব্যান্ড। সেটা তাঁদের কাজে চোখ রাখলেই বোঝা যাচ্ছে।
সৌরভ দাস এই মুহূর্তে সাংঘাতিক ব্যস্ত। নিজের প্রযোজনা সংস্থার কাজ সামলাচ্ছেন। তাঁর অভিনীত ‘মন্টু পাইলট সিজন থ্রি’ আসছে মার্চ মাসে। এর মধ্যেই নতুন গান উপহার দিতে পেরে খুশি তিনি। TV9 বাংলাকে সৌরভ জানালেন, ”এই গানটা দিয়ে আমাদের দু’ জনের কোল্যাবরেশন শুরু হলো। আমি অনেক দিন ধরেই ভাবছিলাম গান গাইব। যেহেতু কেরিয়ার শুরু করেছিলাম সিঙ্গার হিসাবে। ক্লাস এইটে পড়ার সময়ে বেহালা চৌরাস্তার ওখানে ‘রাহে’ নামে একটা ব্যান্ডের জন্য অডিশন দিতে গিয়েছিলাম। ওটাই আমার অস্তিত্ব। ওটা কোনওদিন ভুলতে পারব না। শুরুটা কারও কখনও ভোলা উচিত নয়। সেখানে যাঁরা ছিলেন, ইন্দ্রদা, পাপ্পুদা, রাজদীপদা, গেদু, তাঁদের সঙ্গে পথচলা শুরু। ১৩টা গানের মধ্যে ২টো গান গেয়েছিলাম। আমার মাসি গিয়েছিল শুনতে। থিয়েটার করার আগে আমি স্টেজে কিন্তু গান গাইতে উঠেছি। মানুষের ভালোবাসা আজ যতটুকু পাচ্ছি, তার শুরু গান গাওয়া থেকেই। বেহালা কলেজে আতিফ আসলামের একটা গান গাওয়ার পর পিঙ্ক ড্রেস পরা একটু পড়ুয়া বলেছিল, ‘আই লাভ ইউ’। আমার জার্নির মতোই ইপিআর-এর জার্নি। ও ইন্ডিয়া’স গট ট্যালেন্টে পৌঁছেছিল। ওঁর মতো আমি অতটা দূর পৌঁছাতে পারিনি। আমরা বন্ধু হয়ে যাই। একসঙ্গে গানবাজনা করি। তবে বাদ পড়ে যাওয়ার পর আমি অভিনয়ের দুনিয়ায় প্রবেশ করি।”
সৌরভ জানালেন, অদিতি রায় পরিচালিত ‘অবশেষে’ ছবিতে একটা ব্যান্ডের উপস্থিতি ছিল। সেখানেই প্রথম অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। কেন গানের দুনিয়ায় ফিরতে চাইলেন? সৌরভ বলছেন, ”একটা সময়ে ক্রিকেট খেলার পর ছেড়ে দিয়েছিলাম। সিসিএল-এর জন্য আবার ক্রিকেটের দুনিয়ার ফিরলাম। ঠিক সেরকম, আমার স্বপ্ন ছিল ৩৫ বছর বয়সে আমার লম্বা চুল হবে। চুল ঝাঁকিয়ে গান করব। ৩৫-এ হয়নি। তবে ৪৫-এ হবে, সেই স্বপ্ন দেখছি। এবার ব্যান্ডের কথায় আসি। আমি কুন্তলের সঙ্গে কিছু কাজ করেছি। নিজেও কিছু গান তৈরি করেছি, যা এখনও কারও সামনে আসেনি। ইপিআর আমাকে বলল, ভারতে র্যাপ রক ব্যান্ড খুব কম। আমাদের একসঙ্গে কিছু করা দরকার। যার মধ্যে প্রতিবাদের ভাষাও থাকবে। আমাদের পছন্দ একরকম। আর্টিস্ট হিসাবে আমি ইপিআর-কে অনেক উপরে রাখি। ও একজন কবি। বাদশা, সেলিম-সুলেমান সকলেই ইপিআর-কে সম্মান করেন। এই গানটার সুর তিনজন মিলে করেছি। এই জার্নিটাই খুব ভালো লাগছে।”
এই ব্যান্ড নিয়মিত গান উপহার দেবে, জানালেন সৌরভ। তাঁরা মিউজিক ট্যুর শুরু করছেন। সৌরভ বললেন, প্রযোজনা, অভিনয় আর গান তিনটে নিয়েই তিনি একইরকম সিরিয়াস থাকবেন আগামী দিনে। এই গান তৈরির অনেক কিছুই ঘটেছে যীশু সেনগুপ্ত আর সৌরভ দাসের প্রযোজনা সংস্থার অফিস থেকে। এবার সৌরভকে সম্পূর্ণ নতুন রূপে দেখার পালা।