Shahrukh Khan: সলমনের পর এবার শাহরুখ, পাইলট স্মিতকে কী বার্তা দিলেন ‘কিং’?
Shahrukh Khan on Captain Smit Machchhar: বেলা বাড়তেই এবার সেই তালিকায় যোগ দিলেন ‘কিং খান’ শাহরুখ খান। ক্যাপ্টেনের অবিশ্বাস্য অকুতোভয় মনোভাবের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি স্পষ্ট জানান, চরম সংকটকালেও কীভাবে অবিচল থেকে দায়িত্ব পালন করতে হয়, বিশ্ববাসীর সামনে তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন স্মিত।

এক ভয়াবহ উগ্রবাদী হামলার ছক নস্যাৎ করে ১৮০ জন বিমানযাত্রীর জীবন বাঁচানো ভারতীয় বৈমানিক, ‘ফ্লাইদুবাই’-এর ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের অসামান্য অদম্য সাহস ও অনন্য পেশাদারিত্বে মুগ্ধ পুরো বিশ্ব। শনিবার সকালেই এই বীর চালককে কুর্নিশ জানিয়ে পোস্ট করেছিলেন বলিউড সুপারস্টার সলমন খান। বেলা বাড়তেই এবার সেই তালিকায় যোগ দিলেন ‘কিং খান’ শাহরুখ খান। ক্যাপ্টেনের অবিশ্বাস্য অকুতোভয় মনোভাবের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি স্পষ্ট জানান, চরম সংকটকালেও কীভাবে অবিচল থেকে দায়িত্ব পালন করতে হয়, বিশ্ববাসীর সামনে তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন স্মিত।
আকাশপথে যাত্রীবাহী বিমান হাইজ্যাক করে আরও এক প্রাণঘাতী ট্র্যাজেডি ঘটানোর ষড়যন্ত্র যখন প্রায় পাকা, ঠিক তখনই নিজের জীবন বাজি রেখে সেই জঙ্গি হামলার ছক ভেস্তে দেন ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছর। সতীর্থের আকস্মিক ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম হওয়া সত্ত্বেও তিনি বিন্দুমাত্র বিচক্ষণতা হারাননি। তাঁর এই অসমসাহসিকতায় অলৌকিকভাবে বেঁচে গিয়েছেন ১৮০ জন যাত্রী। ফলে শুধু ওই ফ্লাইটের যাত্রীরাই নন, বিশ্বজুড়ে এখন স্মিত পরিণত হয়েছেন ‘জীবন্ত ঈশ্বর’-এ।
বলিউডের গণ্ডি পেরিয়ে নানা বিষয়ে বার্তা দিতে ভালোবাসেন শাহরুখ খান। ক্যাপ্টেন মচ্ছরের এই অতুলনীয় বীরত্বকে কুর্নিশ জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বাদশাহ লেখেন, “ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর, চরম বিপদের মুখে দাঁড়িয়েও আপনি যেভাবে একচুল না নড়ে অবিচল থেকেছেন, তা সত্যিই অভাবনীয়। নিজের জীবন ও নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলে বিমানের সমস্ত যাত্রীকে সুরক্ষা দেওয়া মোটেই সহজ কাজ নয়, কিন্তু আপনি সেটাই করে দেখিয়েছেন। একজন ক্যাপ্টেনের প্রকৃত দায়িত্ববোধ এবং কর্তব্যের অর্থ কী, তা আপনি নতুন করে শিখিয়ে দিলেন। সাহস ও নিষ্ঠার এক অতুলনীয় নজির গড়লেন আপনি।” এর পাশাপাশি দ্রুত সুস্থতার প্রার্থনা জানিয়ে বাদশাহ আরও যোগ করেন, “আপনার দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। আজ আপনার এই সাহসিকতায় গোটা ভারতবর্ষ গর্ববোধ করছে।”
ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার সকালে। ‘ফ্লাইদুবাই’-এর এফজেড ১০৭৩ (FZ 1073) বিমানটি দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল-আভিভের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। ককপিটে চালকের আসনে ছিলেন ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর। উড্ডয়ন চলাকালীন আচমকাই ককপিটের ভেতরে স্মিতের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ওমানি সহ-পাইলট। আকস্মিক এই হামলায় রক্তে ভেসে গেলেও অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় বিমানটির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখেন স্মিত এবং চতুরতার সঙ্গে সেটিকে সৌদির উত্তর-পশ্চিমের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করান।
ঘটনার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে, কে এই হামলাকারী এবং এর পেছনে কার হাত রয়েছে? ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইতোমধ্যেই নিশ্চিত করেছেন যে, ককপিটে হামলা চালানো ওই ওমানি সহ-পাইলট উগ্রপন্থী ও চরমপন্থী ভাবধারায় ভীষণভাবে প্রভাবিত ছিল। তবে ওই সহ-পাইলটের মগজধোলাইয়ের নেপথ্যে কোন আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল, সে বিষয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর (UAE) সঙ্গে যৌথভাবে এই ঘটনার শেষ দেখে ছাড়বে ইসরায়েল, যাতে খুব দ্রুতই এই ষড়যোজনের আসল সত্য প্রকাশ্যে আনা যায়।
