টাকার অভাব, শাহরুখের এক চিঠিতেই লোন পেলেন শ্রেয়স তলপড়ে
তবে এই ছবির হাত ধরেই কেরিয়ারের শুরুর দিকে মুম্বইয়ে নিজের মাথার ওপর প্রথম ছাদ পেয়েছিলেন অভিনেতা শ্রেয়স তলপাড়ে। আর সেই বাড়ি কেনার নেপথ্যে দেবদূতের মতো দাঁড়িয়েছিলেন খোদ বলিউড বাদশা শাহরুখ খান এবং পরিচালক ফারহা খান। সম্প্রতি ফারহা খানের ইউটিউব চ্যানেলে অতিথি হিসেবে এসে সেই পুরোনো আবেগঘন স্মৃতি হাতড়ালেন ৫০ বছর বয়সী অভিনেতা শ্রেয়স।

২০০৭ সালের ব্লকবাস্টার ছবি ‘ওম শান্তি ওম’। দীপিকা পাড়ুকোনের বলিউড অভিষেক থেকে শুরু করে অর্জুন রামপালের খলনায়কের চরিত্র— সব মিলিয়ে এই ছবি হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে এক মাইলফলক। তবে এই ছবির হাত ধরেই কেরিয়ারের শুরুর দিকে মুম্বইয়ে নিজের মাথার ওপর প্রথম ছাদ পেয়েছিলেন অভিনেতা শ্রেয়স তলপাড়ে। আর সেই বাড়ি কেনার নেপথ্যে দেবদূতের মতো দাঁড়িয়েছিলেন খোদ বলিউড বাদশা শাহরুখ খান এবং পরিচালক ফারহা খান। সম্প্রতি ফারহা খানের ইউটিউব চ্যানেলে অতিথি হিসেবে এসে সেই পুরোনো আবেগঘন স্মৃতি হাতড়ালেন ৫০ বছর বয়সী অভিনেতা শ্রেয়স।
মুম্বইয়ে নিজের প্রথম বাড়ি কেনার দিনগুলোর কথা মনে করে শ্রেয়স জানান, সেই সময় বাড়ি পছন্দ হলেও ব্যাংক থেকে লোন পাওয়ার মতো পর্যাপ্ত ‘এলিজিবিলিটি’ বা যোগ্যতা তাঁর ছিল না। শ্রেয়সের কথায়:
“আমি ব্যাংকে গিয়েছিলাম, কিন্তু লোন পাস হচ্ছিল না। তখন ব্যাংকের এক মহিলা আধিকারিক আমাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘এখন কোন ছবিতে কাজ করছ?’ আমি বললাম, ওম শান্তি ওম। তিনি জানতে চাইলেন ছবিতে আর কে কে আছেন? আমি শাহরুখ খানের নাম নিলাম। এরপর পরিচালক কে জানতে চাইলে আমি ফারহা খানের নাম বলি। সব শুনে ওই ভদ্রমহিলা আমাকে বলেন, ‘তুমি কি ওদের থেকে একটা চিঠি এনে দিতে পারবে?’”
ব্যাংক থেকে এই প্রস্তাব পাওয়ার পরেই তড়িঘড়ি পরিচালক ফারহা খানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন শ্রেয়স। ফারহা বিষয়টি শোনামাত্রই সক্রিয় হন এবং মাত্র দু’দিনের মধ্যে শাহরুখ খানের প্রযোজনা সংস্থা থেকে একটি অফিশিয়াল চিঠি জোগাড় করে শ্রেয়সের হাতে তুলে দেন। আর সেই চিঠির জোরেই রাতারাতি ভাগ্যবদল ঘটে অভিনেতার, মুহূর্তের মধ্যে পাস হয়ে যায় তাঁর হোম লোন।
শ্রেয়সের এই গল্প শুনে নিজের চেনা রসিকতার মেজাজে ধরা দেন ফারহা খান। হাসতে হাসতে তিনি বলেন, “আমি সত্যিই খুব আনন্দিত। কারণ ‘ওম শান্তি ওম’ ছবির জন্য আমরা তোকে আর এমন কতটুকুই বা টাকা দিয়েছিলাম!” অর্থাৎ, কেরিয়ারের সেই পর্যায়ে শ্রেয়সের পারিশ্রমিক যে খুব বেশি ছিল না, ফারহা রসিকতার ছলে সেটাই বুঝিয়ে দেন।
আহমেদ খান পরিচালিত ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ ছবিতে সম্প্রতি দেখা গেছে শ্রেয়সকে। এই তারকাবহুল ছবিতে তাঁর সঙ্গে ছিলেন অক্ষয় কুমার, সুনীল শেট্টি, দিশা পাটানি, রবিনা ট্যান্ডন, আরশাদ ওয়ারসি ও পরেশ রাওয়ালের মতো তারকারা। আগামী প্রজেক্ট: খুব শীঘ্রই শ্রেয়সকে দেখা যাবে ‘দ্য ইন্ডিয়া স্টোরি’, ‘দ্য গেম অফ গিরগিট’ এবং দর্শকদের বহু প্রতীক্ষিত ছবি ‘গোলমাল ৫’-এ।
