AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Debolina nandy: ৬ তলার বারান্দা থেকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা দেবলীনাকে, মারধর! প্রবাহর বিরুদ্ধে ভয়ানক অভিযোগ করে বড় পদক্ষেপ গায়িকার

Debolina nandy on Probaho Nandy: চলতি বছরের শুরুতে ঘুমের ওষুধ খেয়ে দেবলীনার নিজের জীবনকে শেষ করার চেষ্টার ঘটনার পর থেকেই এই তারকা দম্পতির বিবাদ প্রকাশ্যে আসে। এতদিন প্রবাহ সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ না খুললেও, সম্প্রতি টিভি নাইন বাংলায় নিজের পক্ষের যুক্তি তুলে ধরেছেন প্রবাহ নন্দী। তার ঠিক ছয় দিনের মাথায় দেবলীনা এবং তাঁর আইনি পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করলেন।

Debolina nandy: ৬ তলার বারান্দা থেকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা দেবলীনাকে, মারধর! প্রবাহর বিরুদ্ধে ভয়ানক অভিযোগ করে বড় পদক্ষেপ গায়িকার
| Updated on: Jun 19, 2026 | 5:57 PM
Share

গায়িকা দেবলীনা নন্দী এবং তাঁর পাইলট স্বামী প্রবাহ নন্দীর দাম্পত্য কলহ এবার পুরোদস্তুর আইনি লড়াইয়ের রূপ নিল। স্বামীর সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারের পাল্টা জবাব দিতে এবার দুই আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে বারুইপুর আদালতের দ্বারস্থ হলেন দেবলীনা। একই সঙ্গে দুই আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে এক বিশেষ সাংবাদিক বৈঠক ডেকে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন দেবলীনা।

চলতি বছরের শুরুতে ঘুমের ওষুধ খেয়ে দেবলীনার নিজের জীবনকে শেষ করার চেষ্টার ঘটনার পর থেকেই এই তারকা দম্পতির বিবাদ প্রকাশ্যে আসে। এতদিন প্রবাহ সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ না খুললেও, সম্প্রতি টিভি নাইন বাংলায় নিজের পক্ষের যুক্তি তুলে ধরেছেন প্রবাহ নন্দী। তার ঠিক ছয় দিনের মাথায় দেবলীনা এবং তাঁর আইনি পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করলেন।

সাংবাদিক বৈঠকে দেবলীনার আইনজীবীরা জানান, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে বিয়ে হয় দেবলীনা নন্দী ও প্রবাহ নন্দীর। বিয়ের পর থেকেই গায়িকার ওপর তীব্র মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার শুরু হয়। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে থাইল্যান্ডে হানিমুনে গিয়ে মদ্যপ অবস্থায় দেবলীনাকে মারাত্মক মারধর করেন প্রবাহ। আইনজীবীদের দাবি, প্রবাহ নিয়মিত মদ্যপান ও মাদক সেবন করতেন। সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো অভিযোগটি করা হয়েছে একটি ভিডিয়ো ক্লিপকে কেন্দ্র করে, যা সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায়  ছড়িয়ে পড়েছে। দেবলীনার আইনজীবী জানান, “প্রবাহ পেশায় পাইলট হওয়ায় মদ্যপানের নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকত। পরের দিন সকালে ফ্লাইট থাকলে সে আগের দিন সকাল থেকেই মদ্যপান শুরু করে দিত। মদ্যপ অবস্থায় হাত মোচড়ানো বা কনুই দিয়ে ঠেলে দেওয়ার মতো ঘটনা হামেশাই ঘটত। শুধু তাই নয়, নিউটাউনের ভাড়া বাড়ির ৬ তলার বারান্দা থেকে দেবলীনাকে বহুবার নীচে ঠেলে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা পর্যন্ত করেছে সে।” আইনজীবীদের দাবি, এই ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী রয়েছেন যিনি আদালতে সাক্ষ্য দেবেন। এছাড়া দেবলীনার ওপর চলা অত্যাচারের প্রমাণ হিসেবে বেশ কিছু অডিও ও ভিডিও ক্লিপ এবং ছবিতে মেকআপ দিয়ে ঢাকা কালশিটে দাগের প্রমাণও আদালতে পেশ করা হবে।

আইনজীবীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে দেবলীনাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে নিউটাউনের বাড়ি থেকে বার করে দেওয়া হয়েছিল। তখন চন্দননগর, সোনারপুর ও নিউটাউন— তিন থানাতেই GD করা হয়। পরে প্রবাহ দেবলীনাকে ফিরিয়ে নিয়ে গেলেও অত্যাচারের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। প্রবাহর পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত মানসিক নির্যাতন করে বলা হতো— “তুমি কেন মরে যাও না? তুমি মরলে আমাদের সবার জীবন সহজ হবে।” দিনের পর দিন এই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে নিজের জীবনকে শেষ করার চেষ্টা করেন গায়িকা। এই ঘটনায় সোনারপুর থানায় একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। দেবলীনার আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, বিয়ের আগে প্রবাহ ও তাঁর পরিবার নিজেদের যেভাবে জাহির করেছিল, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। নিউটাউনের যে ফ্ল্যাটটি নিজেদের বলে দাবি করা হয়েছিল, তা আসলে একটি ভাড়া বাড়ি ছিল। এছাড়া বিয়ের আগে ও পরে প্রবাহ এবং তাঁর ভাই বিভিন্ন সময়ে অনলাইন ট্রানজাকশনের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেছেন, যা পণের সমান। এমনকী, দেবলীনার প্রায় ১৫ গ্রাম ওজনের একটি সোনার হারসহ প্রায় ৬৯ গ্রাম গয়না ফেরত দিতে অস্বীকার করেছে তাঁর শ্বশুরবাড়ি।

নির্যাতনের আঙুল উঠেছে দেবলীনার শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধেও। গার্হস্থ্য হিংসা মামলায় তাঁদেরও বিবাদী করা হয়েছে। আইনজীবীদের অভিযোগ, প্রবাহর অনুপস্থিতিতে তাঁর বাবা-মা দেবলীনাকে চরম হেনস্থা করতেন এবং তাঁকে ‘ব্যাড টাচ’ বা অসদাচরণের মতো ঘটনাও ঘটেছে। পাশাপাশি দেবলীনার মায়ের গায়ের রং তুলে প্রতিনিয়ত গালিগালাজ ও অপমান করা হতো এবং দেবলীনাকে তাঁর নিজের পরিবার থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা চলত।

দেবলীনার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, প্রবাহর করা জুডিশিয়াল সেপারেশনের (আইনিভাবে আলাদা থাকার) মামলায় ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দিয়েছে। বর্তমানে বারুইপুর মহকুমা আদালতে গার্হস্থ্য হিংসা প্রতিরোধ আইনের (Domestic Violence Act) অধীনে মামলা চলছে। সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় দেবলীনার একটি ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিয়ো বিকৃতভাবে পোস্ট করে তাঁকে মদ্যপ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করায় গত ১৩ তারিখে প্রবাহর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) অধীনে একটি জামিন অযোগ্য ধারায় মানহানির মামলা রুজু করা হয়েছে।

প্রবাহ যাতে আইনি প্রক্রিয়া এড়াতে বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারেন, সেজন্য আদালত যাতে তাঁর পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত (Seize) করে, সেই প্রক্রিয়া শুরু করেছেন আইনজীবীরা। একই সঙ্গে বিমান সংস্থার কাছেও আবেদন জানানো হচ্ছে যাতে উড়ানের সময় শত শত যাত্রীর সুরক্ষার স্বার্থে এমন একজন অভিযুক্তকে বিমান চালাতে না দেওয়া হয়। এই সাংবাদিক বৈঠকে দেবলীনা জানান, “আমি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সংসারটা টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার জামাকাপড় ঠিক নেই, আমি কাঁদছি— এমন একটা ব্যক্তিগত ভিডিয়ো ওরা সোশাল মিডিয়ায় ছেড়ে দিল। যে স্বামী বলে সে বউকে ভালোবাসে, সে কীভাবে এই কাজ করে? আমার সম্মান ওরা কোথায় রাখল জানি না। এতদিন সবাই জানতে চাইত আমি কেন আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছি না, আজ ওদের সামনে সব স্পষ্ট করলাম। আমার কাছে সব প্রমাণ আছে, ঠিক জায়গায় আমি তা জমা দেব।”

Tv9Bangla-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রবাহ নন্দী ঠিক কী বলেছিলেন?

Tv9Bangla-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রবাহর দাবি, তাঁদের দাম্পত্যে মূল সমস্যা ছিল দেবলীনার মায়ের অতিরিক্ত নাক গলানো এবং মানসিক ব্ল্যাকমেইল। মায়ের রূপ বা গায়ের রং নিয়ে কুৎসা করার অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। দেবলীনার আত্মহত্যার চেষ্টার রাতে ফোন না ধরার প্রসঙ্গে প্রবাহ জানান, সেদিন তিনি টানা তিনদিনের ডিউটি শেষে ঘুমাচ্ছিলেন এবং মাত্র দু’বার ফোন এসেছিল। পরদিন সকালে সোশাল মিডিয়া থেকেই তিনি গোটা ঘটনা জানতে পারেন। তাঁর প্রশ্ন, মা ও বাউন্সারের উপস্থিতিতে গাড়িতে থাকা অবস্থাতেই দেবলীনা কীভাবে ৭৮টি ঘুমের ওষুধ খেলেন, তার সঠিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

পাল্টা অভিযোগে প্রবাহ বলেন, “দেবলীনা অত্যন্ত চড়া মেজাজের। ও আমাকে চড়ও মেরেছে, আবার পরে পা ধরে ক্ষমা চেয়েছে। কথায় কথায় পলিটিক্যাল কানেকশন বা সোশাল মিডিয়ার ভয় দেখাত।” ভাইয়ের সামনে অন্তর্বাস গোনার মতো অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর পরিবারকে সমাজমাধ্যমে ট্রোল ও হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে জানিয়ে প্রবাহ বলেন, নিজের সম্মান রক্ষার্থেই এবার তাঁর সত্যিটা বলা প্রয়োজন ছিল।

Follow Us