Dilip Kumar, Raj Kapoor: ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে রাজ কাপুর ও দিলীপ কুমারের পাকিস্তানের বাড়ি!
Dilip Kumar and Raj Kapoor's ancestral home: পাকিস্তানের পেশোয়ারে অবস্থিত বলিউড কিংবদন্তি রাজ কাপুর এবং দিলীপ কুমারের পৈতৃক বাড়ি দুটি তীব্র ভূমিকম্প ও বৃষ্টির কারণে ভেঙে পড়ার মুখে। হেরিটেজ তকমা পেলেও সরকারি উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা।

বলিউডের ‘শোম্যান’ রাজ কাপুর (Raj Kapoor) এবং অভিনয় সম্রাট দিলীপ কুমারের (Dilip Kumar) নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে রুপোলি পর্দার এক সোনালী ইতিহাস। কিন্তু রুপোলি পর্দার সেই ম্যাজিক আজ পাকিস্তানের পেশোয়ারের অলিতে-গলিতে যেন কান্নার সুর হয়ে বাজছে। দুই কিংবদন্তি অভিনেতার পাকিস্তানের পৈতৃক বাড়ি দুটি যে কোনও মুহূর্তে মাটির সঙ্গে মিশে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে হেরিটেজ বিশেষজ্ঞরা। পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ারের কিসা খওয়ানি বাজার এলাকার এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য দুটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছে।
সম্প্রতি পাকিস্তানে ঘটে যাওয়া একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প এবং লাগাতার বৃষ্টির কারণে শতবর্ষ প্রাচীন এই দুটি বাড়ির কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত ৩ এপ্রিলের ভূমিকম্পের ঝটকায় এমনিতেই জরাজীর্ণ কাপুর হাভেলি এবং দিলীপ কুমারের বাড়ির দেওয়ালে ও ভিতের গভীরে চওড়া ফাটল দেখা দিয়েছে। তার ওপর আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরেই শুরু হতে চলেছে প্রাক-বর্ষার মরশুম। হেরিটেজ বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই বর্ষার জল যদি ওই ফাটলগুলোতে ঢোকে, তবে দুটো বাড়িই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে।
পেশোয়ারের ঢাকি নালবন্দি এলাকায় অবস্থিত কাপুর হাভেলিটি ১৯১৮ থেকে ১৯২২ সালের মধ্যে তৈরি করেছিলেন রাজ কাপুরের ঠাকুরদা দেওয়ান বশেশ্বরনাথ কাপুর। এখানেই জন্ম হয়েছিল পৃথ্বীরাজ কাপুরের ছেলে রাজ কাপুর এবং তাঁর কাকা ত্রিলোক কাপুরের। অন্যদিকে, মহাল্লা খুদাদাদ এলাকায় দিলীপ কুমারের পৈতৃক বাড়িটি একসময় উৎসবের আলোয় ঝলমল করত। আজ সেখানে কেবলই শ্মশানের নীরবতা। বৃষ্টির চোটে ইতিমধ্যেই সেই বাড়ির বেশ কয়েকটি ঘরের ছাদ ভেঙে পড়েছে, দেওয়াল খসে পড়ছে নিত্যদিন।
২০১৬ সালে পাকিস্তান সরকার ধুমধাম করে এই দুটি বাড়িকে জাতীয় ঐতিহ্যের (National Heritage) তকমা দিয়েছিল। ২০২১-২২ সালে খাইবার পাখতুনখোয়া সরকার বাড়ি দুটি কিনে নিয়ে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের মাধ্যমে মিউজিয়াম বানানোর জন্য ২.৩৫ কোটি পাকিস্তানি টাকা বরাদ্দ করে। এমনকি ২০১৫ সালের জুলাই মাসেও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আরও ৩৩.৮ মিলিয়ন টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আর ফান্ড বা তহবিলের অভাবের অজুহাতে গত পাঁচ বছরে একটি ইঁটও গাঁথা হয়নি সেখানে। প্রশাসনের এই উদাসীনতায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয়রা। কাপুর হাভেলির পাশেই প্রিন্টিং প্রেস চালানো আবিদ হুসেন জানান, বাড়ি দুটির অবস্থা এতটাই বিপজ্জনক যে যে কোনও মুহূর্তে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। মুখের কথায় আর বিজ্ঞপ্তিতে যে হেরিটেজ বাঁচে না, পেশোয়ারের এই দুই ভগ্নপ্রায় বাড়ি আজ তারই প্রমাণ দিচ্ছে। প্রশাসন যদি এখনই কোনও যুদ্ধকালীন পদক্ষেপ না করে, তবে খসে পড়বে ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসের একটা মস্ত বড় অংশ।
