
ভালবাসার আলাদা করে কোনও দিন হয় না। তবে স্পেশাল মানুষকে আরও একটু ‘স্পেশাল’ ফিল করানোর জন্য ভ্যালেন্টাইনস ডে-র থেকে কি আর অন্য কোনও দিন হতে পারে? এই দিন প্রত্যেকেই নিজের ভালোবাসার মানুষকে মনের কথা জানান, কেউ উপহার দেন। দিনটি উদযাপন যেমন সাধারণ মানুষ করেন, তেমনই বাদ যান না তারকারাও। তবে জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজের উপহারের কথা শুনলে চোখ কপালে উঠবে। জেলবন্দি কথিত প্রতারক সুকেশ চন্দ্রশেখর অভিনেত্রীকে এমনই এক উপহার দিয়েছেন যার দাম ৩০ কোটি টাকা। শুধু উপহারই না তার সঙ্গে ভালোবাসায় ভরা চিঠিও পাঠিয়েছেন সুকেশ।
দিল্লির মণ্ডোলি জেলে বন্দি সুকেশ চন্দ্রশেখর ২০০ কোটির আর্থিক তছরূপ মামলায় অভিযুক্ত। ভ্যালেন্টাইনস ডে তে দিল্লির মণ্ডোলি জেলে বসেই চিঠি পাঠিয়েছেন সুকেশ। সেখানে অভিনেত্রীকে আগের মতোই “বেবি বম্মা” ও “বোত্তা বোম্মা” সম্বোধন করে তিনি লিখেছেন, জেলের ঠান্ডা দেওয়ালের মধ্যে বসে নিজেকে তাঁর মরুভূমিতে হারিয়ে যাওয়া মানুষের মতো মনে হচ্ছে তাঁর। হাতে লেখা এই চিঠিতে দাবি করেছেন—তিনি জ্যাকলিনকে প্রায় ৩০ কোটি টাকার একটি কাস্টমাইজড ‘এয়ারবাস এইচ-সিরিজ’ হেলিকপ্টার উপহার দিয়েছেন। চিঠিতে অভিনেত্রীকে তিনি “বোত্তা বোম্মা” বলে সম্বোধন করেছেন, যার অর্থ সুন্দর পুতুল। তাঁর কথায়, ‘এয়ারবাস এইচ-সিরিজ’-এর একটি কাস্টমাইজড হেলিকপ্টার তিনি জ্যাকলিনের জন্য পাঠিয়েছেন। ভিতরে নাকি রয়েছে বিশেষ অন্দরসজ্জা, এমনকি খোদাই করা রয়েছে অভিনেত্রীর নামের আদ্যক্ষর। মুম্বইয়ের যানজট এড়িয়ে সহজে যাতায়াতের জন্যই এমন উপহার কিনেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি দাবি করেছেন, এটি তাঁর কষ্টার্জিত অর্থেই কেনা।
এর আগেও বড়দিনে জ্যাকলিনকে আঙুর বাগান উপহার দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন সুকেশ। কখনও নববর্ষ, কখনও উৎসব প্রায় প্রতি বিশেষ দিনেই জেল থেকে চিঠি পাঠিয়ে নিজের প্রেমের কথা জানাতে দেখা গিয়েছে তাঁকে।
সুকেশের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, জ্যাকলিন বারবার জানিয়েছেন, চলমান তদন্তে তাঁর কোনও ভূমিকা নেই, সুকেশকে পাত্তা দেননা তিনি। সুকেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয় থেকেও তিনি দূরত্ব বজায় রাখতে চেয়েছেন। তাই হেলিকপ্টার উপহারের এই দাবি নিয়ে এখনও পর্যন্ত জ্যাকলিনের তরফ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।