
পর্দায় তাঁদের রসায়ন ছিল অনেকটা ধীরস্থির অথচ গভীর। ‘নেমসেক’-এর অশোক-অসীমা হোক কিংবা ‘মকবুল’-এর সেই বিধ্বংসী প্রেম— ইরফান খান এবং তাবু মানেই ছিল অভিনয়ের এক অন্য রসায়ন। আজ ইরফান নেই, কিন্তু তাঁদের সেই অটুট বন্ধুত্বের রেশ আজও বয়ে চলেছে তাঁর পরিবারের সঙ্গে। বিশেষ করে ইরফান-পুত্র বাবিলের সঙ্গে তাবুর সম্পর্কটা যে একেবারেই আত্মিক, তার প্রমাণ মিলল এই ইদেও।
সুত্রের খবর, এবারের ইদে বাবিল খানের জন্য একটি বিশেষ উপহার পাঠিয়েছেন তাবু। রাজস্থানের জয়পুরে বাবার জন্মভিটেতে ভাইয়ের সঙ্গে ইদ কাটিয়েছেন বাবিল। আর সেখানেই তাবুর তরফ থেকে পৌঁছে গিয়েছে একটি ধবধবে সাদা পাঞ্জাবি। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে সাদা পাঞ্জাবি পরা একটি ছবি শেয়ার করেছেন বাবিল। যদিও সেই পোস্টে তিনি স্পষ্ট করে কিছু লেখেননি, তবে বলিপাড়ার অন্দরমহলের খবর— এই উপহার প্রিয় ‘তাবু আন্টি’র দেওয়া। ইরফানের সঙ্গে তাবুর যে গভীর বন্ধুত্ব ছিল, সেই উষ্ণতা আর স্নেহের ছোঁয়াই যেন এই উপহারের মাধ্যমে বাবিলের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন অভিনেত্রী।
ইরফানের চলে যাওয়াটা তাবুর কাছে কেবল একজন সহকর্মীকে হারানো ছিল না, ছিল এক পরম বন্ধুকে হারানো। ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ২০২০ সালের সেই বিষণ্ণ এপ্রিলে বিদায় নিয়েছিলেন অভিনেতা। তার বছর দুয়েক পরে এক সাক্ষাৎকারে তাবু স্বীকার করেছিলেন, ইরফানের সঙ্গে কাজ করার পরেই তাঁর অভিনয় জীবনের সংজ্ঞা বদলে গিয়েছিল। অভিনেত্রী বলেছিলেন, “ওঁর সঙ্গে কাজ করার পর আমি আমার চরিত্র এবং নিজের প্রতি অনেক বেশি সৎ হতে শিখেছি। জানি না পর্দায় ওর সঙ্গে যে ম্যাজিক তৈরি হতো, তা অন্য কারও সঙ্গে আর কখনও সম্ভব কি না।”
পর্দার ‘মকবুল’ আর ‘নিম্মি’র সেই সম্পর্কের টানাপোড়েন আজও দর্শক মনে রেখেছে। দু’জনে খুব বেশি ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেননি ঠিকই, কিন্তু যে ক’টি করেছেন, তা ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে সম্পদ হয়ে রয়েছে। ইরফান চলে গিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া শূন্যস্থানে তাবুর মতো বন্ধুরা আজও ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন তাঁর সন্তানদের পাশে। ইদের এই উপহার কেবল একটি পাঞ্জাবি নয়, বরং এক পুরনো বন্ধুত্বের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য।