Tanishaa Mukerji: ডিম্বাণু কেন ফ্রিজ করেছেন তনিশা? অবশেষে মুখ খুললেন কাজলের বোন
Tanishaa Mukerji on Egg Freezing: ৪৭ বছর বয়সেও অবিবাহিত এই অভিনেত্রী নিজের শর্তেই জীবনযাপন করতে ভালোবাসেন। বিয়ে এবং মাতৃত্ব নিয়ে প্রচলিত সামাজিক ধারণার বিরুদ্ধে গিয়ে অতীতেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন তিনি। আর সম্প্রতি এক পডকাস্টে এসে ব্যক্তিগত জীবন ও ডিম্বাণু সংরক্ষণ সংক্রান্ত একাধিক অজানা ও সাহসী মতামত শেয়ার করেছেন তনিশা।

সমাজের নির্ধারিত বাঁধাধরা নিয়মে জীবন কাটাতে নারাজ বলিউড অভিনেত্রী কাজলের বোন তথা তনুজা-তনয়া তনিশা মুখোপাধ্যায় (Tanishaa Mukerji)। ৪৭ বছর বয়সেও অবিবাহিত এই অভিনেত্রী নিজের শর্তেই জীবনযাপন করতে ভালোবাসেন। বিয়ে এবং মাতৃত্ব নিয়ে প্রচলিত সামাজিক ধারণার বিরুদ্ধে গিয়ে অতীতেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন তিনি। আর সম্প্রতি এক পডকাস্টে এসে ব্যক্তিগত জীবন ও ডিম্বাণু সংরক্ষণ (Egg Freezing) সংক্রান্ত একাধিক অজানা ও সাহসী মতামত শেয়ার করেছেন তনিশা।
সমাজ কী বলবে বা বয়স পেরিয়ে যাচ্ছে— এই সমস্ত প্রচলিত চাপে পড়ে জীবন কাটাতে রাজি নন তনিশা। নিজের জীবনের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখতে আজ থেকে কয়েক বছর আগে, মাত্র ৩৯ বছর বয়সে নিজের ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। যদিও এই সিদ্ধান্তের কথা তিনি প্রথমে গোপন রেখেছিলেন এবং ঘটনার প্রায় চার বছর পর তা প্রকাশ্যে আনেন।
পডকাস্টে অভিনেত্রী জানান, সঠিক জীবনসঙ্গীর খোঁজে তাড়াহুড়ো করতে চাননি বলেই তিনি এই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সাহায্য নেন। তাঁর স্পষ্ট কথা, কেবল বয়স বাড়ছে বা সমাজের তাগিদ রয়েছে— এই কারণে হঠকারিতা করে মাতৃত্বের সিদ্ধান্ত নিতে তিনি নারাজ।
বিয়ে এবং সম্পর্ক নিয়ে তনিশার দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত আধুনিক ও পরিপক্ব। তাঁর মতে, বিবাহ হল মূলত দুটি মানুষের মধ্যে একটি গভীর আত্মিক বন্ধন। শুধুমাত্র সমাজের চাপে পড়ে সাতপাকে বাঁধা পড়া কিংবা সন্তান জন্ম দেওয়ার পক্ষে তিনি একেবারেই নন। অতীতে উদয় চোপড়া কিংবা আরমান কোহলীর মতো অভিনেতাদের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। ২০১৩ সালে ‘বিগ বস ৭’-এর ঘরে আরমানের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা এবং পরবর্তীকালে ২০১৪ সালে ব্রেকআপ— সব নিয়েই একসময় চর্চা তুঙ্গে ছিল। মতের অমিল ও চিন্তাভাবনার ফারাকের কারণেই সেই সম্পর্কগুলো টেকেনি। তবে অতীতের সেই ধাক্কা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজের শর্তেই জীবন গড়ার পথ বেছে নিয়েছেন তিনি।
মাতৃত্ব নিয়ে নিজের ভাবনা স্পষ্ট করে তনিশা জানান, একটি শিশুকে পৃথিবীতে এনে তাকে বড় করে তোলার ক্ষেত্রে মা এবং বাবা— উভয়ের সমান এবং সক্রিয় ভূমিকা থাকা অত্যন্ত জরুরি। তিনি এমন একজন জীবনসঙ্গী চান যিনি সন্তানের দায়িত্ব সমানভাবে ভাগ করে নিতে প্রস্তুত থাকবেন। উপযুক্ত মানুষ না পাওয়া পর্যন্ত তাড়াহুড়ো করে মাতৃত্বের পথে হাঁটতে নারাজ তিনি।
তবে জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি যে পরিবর্তনশীল, তাও স্বীকার করেছেন অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, ভবিষ্যতে হয়তো তাঁর চিন্তাভাবনা বদলাতেও পারে, তাই মাতৃত্ব নিয়ে এখনই চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিতে চান না তিনি। ছক ভাঙা চিন্তা ও সাহসী পদক্ষেপের সুবাদে তনিশার এই সাক্ষাৎকার এখন নেটদুনিয়ায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
