
বলিউডের সোনালি যুগ মানেই শুধু ঝলমলে রুপালি পর্দা নয় এর আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে কিছু না বলা, না পাওয়া প্রেমের গল্প। যা শুনলে আজও গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে অনেকের।
সময়টা ১৯৪০-এর শেষের দিক। ঠিক সেই সময় বলিউড পায় এক নতুন হিরোকে- দেব আনন্দ। তখনকার দারুণ জনপ্রিয় অভিনেত্রী ছিলেন সুরাইয়া। শুধু অভিনয়ের মাধ্যমেই নয়, সুরাইয়ার গানের গলাতেও মুগ্ধ ছিলেন সকলে। এক সঙ্গে বিদ্যা ছবিতে জুটি বাঁধেন তাঁরা। পর্দায় এই জুটিকে দেখার জন্য দিনের পর দিন অধীর আগ্রহে থাকতেন ভক্তরা। তবে সম্পর্ক শুধু সিনেমার পর্দাতেই আটকে থাকেনি। তরুণ অভিনেতা প্রেমে পড়েন সুন্দরী সুরাইয়ার। তবে তাঁদের ভালোবাসার করুণ কাহিনী শুনলে চোখে জল আসবে আপনার।
একদিন ছবির একটি গানের দৃশ্যের শুটিং চলছিল। সুরাইয়া নৌকা থেকে পড়ে যাচ্ছিলেন। সহকর্মী সবাই হকচকিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। আর ঠিক সেই মুহূর্তে দেব আনন্দ ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঁচান তাঁর নায়িকাকে। ঠিক সেই মুহুর্তই হয় তাঁদের প্রেমের সূচনা। সেই সময়ের প্রেমের গল্প আজকের মত ছিল না। দুই তারকার সম্পর্ক তখনই গোপন, কিন্তু তাঁদের চোখের ভাষা, হাসি‑আনন্দ সবই জানান দিচ্ছিল প্রেমে পড়েছেন তাঁরা। একসঙ্গে পরপর সাতটি ছবিতে কাজ করেন—বিদ্যা, জিৎ, শায়ার, অফসার, নিলি, দো সিতারে , সনম প্রতিটি ছবিতে তাঁদের অনবদ্য কেমিস্ট্রি দর্শকদের মুগ্ধ করে। অনস্ক্রিনে যেমন ছিল রোমান্স, অফস্ক্রিনেও তেমনই ছিল গোপন ভালোবাসা। চিঠি, ফোন কল, চুপিচুপি কথা- তবে সবই চলত গোপনে। এমনকী শোনা যায় টাকা ধার করে প্রেমিকের জন্য হিরের আংটিও কেনেন সুরাইয়া।
কিন্তু প্রেম সব সময় সুখের হয় না। সমাজ, ধর্ম, পরিবার সবকিছুই হয়ে দাঁড়ায় বড় বাধা। সুরাইয়ার দিদা, সুরাইয়া মুসলিম এবং দেব আনন্দ হিন্দু হওয়ায় এই সম্পর্ক কোনওদিন মেনে নেননি। দেব আনন্দের জন্য কেনা আংটি জলে ফেলে দেন অভিনেত্রীর দিদা। এমনকী, ছবির রোম্যান্টিক দৃশ্য বাদ দিতে বলেন। দেব আনন্দ বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, এমনকী, সুরাইয়ার জন্য নিজের কেরিয়ার ও ছাড়তে চেয়েছিলেন অভিনেতা। একদিকে প্রেম, অন্যদিকে নিজের স্বপ্ন এই দ্বন্দ্বেই ভেঙে যায় তাঁদের সম্পর্ক।
শেষ পর্যন্ত পথ আলাদা হয়ে যায়। দেব আনন্দ পরে বিয়ে করেন কিন্তু নিজের প্রথম প্রেমের কথা কোনওদিন অস্বীকার করেননি তিনি। হৃদয়ে জমে থাকা স্মৃতি আর অপূর্ণ ভালোবাসা নিয়েই সুরাইয়া রয়ে যান অবিবাহিত। পূর্ণতা না পেলেও তাঁদের সম্পর্ক মানুষের মনে থেকে যাবে আজীবন।