
বলিউডের জনপ্রিয় প্লেব্যাক শিল্পী উদিত নারায়ণকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। তাঁর প্রথম স্ত্রী রঞ্জনা নারায়ণ ঝা গুরুতর অভিযোগ এনে বিহারের সুপৌল জেলার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ, চিকিৎসার অজুহাতে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে তাঁর গর্ভাশয় কেটে ফেলা হয় অথচ সে বিষয়ে তাঁকে কিছুই জানানো হয়নি, নেওয়া হয়নি তাঁর সম্মতিও।
১০ ফেব্রুয়ারি দায়ের করা অভিযোগে রঞ্জনা দাবি করেছেন,তাঁর বিরুদ্ধে ‘অপরাধমূলক চক্রান্ত’ করা হয়। শুধু উদিত নারায়ণ নন, তাঁর দুই ভাই সঞ্জয় কুমার ঝা ও ললিত নারায়ণ ঝা এবং বর্তমান স্ত্রী দীপা নারায়ণের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
রঞ্জনার বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৮৪ সালের ৭ ডিসেম্বর হিন্দু রীতি মেনে তাঁদের বিয়ে হয়। পরের বছরই উদিত মুম্বইয়ে চলে যান সংগীতজীবন কেরিয়ার গড়ার জন্য। কিছুদিন পর সংবাদমাধ্যমে রঞ্জনা জানতে পারেন, উদিত দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছেন। যদিও এই বিষয়ে প্রশ্ন তুললে নাকি গায়ক তাঁকে আশ্বাস দিতেন, সব ঠিক হয়ে যাবে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ১৯৯৬ সালের একটি ঘটনার। রঞ্জনা দাবি করেন, অসুস্থতার কথা বলে তাঁকে দিল্লির একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর বহু বছর কেটে যায়। পরে অন্য চিকিৎসার সময় তিনি জানতে পারেন, তাঁর গর্ভাশয় বাদ দেওয়া হয়েছে। এই তথ্য তাঁর কাছে সম্পূর্ণ অজানা ছিল বলে দাবি করেছেন তিনি। সেই সময় হাসপাতালে দীপা নারায়ণও উপস্থিত ছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
রঞ্জনা আরও বলেন, ২০০৬ সালে তিনি মুম্বইয়ে গিয়ে উদিতের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে তাঁকে অপমান করা হয় এবং বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এরপর নেপালে শ্বশুরবাড়িতেও অপদস্থ হতে হয় তাঁকে।
তারপর থেকেই তিনি বাবার বাড়িতে রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আদালতেও মামলা চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি। রঞ্জনা এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, “উদিতজি বারবার প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু রাখেন না। তাই বাধ্য হয়েই থানায় এসেছি। আমি ন্যায় চাই।” বর্তমানে তিনি অসুস্থ এবং উদিতের সহায়তা প্রয়োজন বলেও দাবি করেছেন।
সুপৌল মহিলা থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক অঞ্জু তিওয়ারি জানিয়েছেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে যা তথ্য সামনে আসবে, তার ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও উদিত নারায়ণের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।