AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Uttam Kumar: চুরি যায় উত্তমের গোপন একটি জিনিস, যা অন্য কারও হাতে পড়লেই বিপাকে পড়তেন মহানায়ক! কী ঘটেছিল জানেন?

Mahanayak Uttam Kumar Bengali Cinema History: শুটিং ফ্লোরে পা রাখলেই এক অদ্ভুত জাদুতে সব বদলে যেত; অভিনয়ের গভীরে তলিয়ে গিয়ে ব্যক্তি উত্তমকে সরিয়ে পুরোপুরি চরিত্র হয়ে উঠতেন তিনি। মহানায়কের ভেতরের এই ক্ষত কিংবা ঝড়কে ফ্লোরের কেউ বিন্দুমাত্র টের পেতেন না। কেবল তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মানুষজন এবং সুপ্রিয়া দেবীই ছিলেন সেই যন্ত্রণার নীরব সাক্ষী।

Uttam Kumar: চুরি যায় উত্তমের গোপন একটি জিনিস, যা অন্য কারও হাতে পড়লেই বিপাকে পড়তেন মহানায়ক! কী ঘটেছিল জানেন?
| Updated on: Sep 14, 2026 | 7:00 PM
Share

সে এক ঝোড়ো সময়। একের পর এক হিট ছবির শুটিং নিয়ে দিনরাত ব্যস্ত মহানায়ক উত্তমকুমার। অথচ ক্যামেরার পেছনের আলো-আঁধারিতে ছিল এক চরম ব্যক্তিগত যন্ত্রণা। স্ত্রী গৌরীদেবীর সঙ্গে নিত্যদিনের কলহ ও অশান্তি তাঁকে ভেতর থেকে কুরে কুরে খাচ্ছিল। কিন্তু শুটিং ফ্লোরে পা রাখলেই এক অদ্ভুত জাদুতে সব বদলে যেত; অভিনয়ের গভীরে তলিয়ে গিয়ে ব্যক্তি উত্তমকে সরিয়ে পুরোপুরি চরিত্র হয়ে উঠতেন তিনি। মহানায়কের ভেতরের এই ক্ষত কিংবা ঝড়কে ফ্লোরের কেউ বিন্দুমাত্র টের পেতেন না। কেবল তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মানুষজন এবং সুপ্রিয়া দেবীই ছিলেন সেই যন্ত্রণার নীরব সাক্ষী।

ইতিহাস সাক্ষী, গৌরীদেবীর সঙ্গে সম্পর্কের চরম অবনতির পর ভবানীপুরের পৈতৃক বাড়ি ছেড়ে সুপ্রিয়া দেবীর ময়রা স্ট্রিটের আস্তানাতেই আশ্রয় নিয়েছিলেন উত্তম। মহানায়কের মনের সেই কঠিন সময়ের প্রতিটা মুহূর্তকে পরম মমতায় আগলে রেখেছিলেন সুপ্রিয়া। বিভিন্ন স্মৃতিকথা ও জীবনী ঘেঁটে জানা যায়, জীবনের শেষ অধ্যায়ে সুপ্রিয়ার এই বাড়ি থেকেই নিয়মিত শুটিংয়ে যাতায়াত করতেন তিনি, গৌরীদেবীর সঙ্গে যোগাযোগ ততদিনে প্রায় ছিন্ন বললেই চলে। ব্যক্তিগত জীবনের এই ডামাডোলের মাঝেই একদিন ঘটে যায় এক অভাবনীয় অঘটন, যা মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্তও মহানায়কের মন থেকে মুছে যায়নি।

সময়টা সত্তরের দশকের শেষের দিক। প্রতিদিনের অভ্যাসমতো সুপ্রিয়ার বাড়ি থেকে বেরিয়ে শুটিংয়ে যাওয়ার জন্য গাড়িতে উঠলেন উত্তম। গাড়িতে বসেই অভ্যাসবশত সামনের ড্যাশবোর্ডের দিকে হাত বাড়াতেই এক লহমায় তিনি চমকে উঠলেন। সেখানে রাখা তাঁর পরম প্রিয় ছোট্ট টেপ রেকর্ডারটি গায়েব! উধাও সাধের যন্ত্র দেখে মুহূর্তের মধ্যে অস্থির হয়ে ওঠেন তিনি। ড্রাইভারকে নিয়ে গাড়ি তোলপাড় করে খোঁজাখুঁজি শুরু করলেন। সঙ্গে ছিলেন প্রযোজক অসীম সরকার।

অসীমবাবু সেদিন উত্তমকুমারের চোখে-মুখে যে আতঙ্ক ও অস্থিরতা দেখেছিলেন, তা আগে কখনও দেখেননি। সামান্য একটা যন্ত্রের জন্য মহানায়কের এমন টেনশন দেখে অবাক হয়েছিলেন সবাই। যেন টেপ রেকর্ডার নয়, তাঁর জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদটি হারিয়ে গিয়েছে! পরে জানা যায়, ওটি চুরি হয়ে গিয়েছে।

কিন্তু কী এমন মহামূল্যবান জিনিস ছিল সেই সামান্য ক্যাসেটটিতে?

উত্তমকুমারের বায়োগ্রাফি ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, মহানায়কের এক অনন্য ব্যক্তিগত শখ ছিল। সারাদিনে তিনি কী কী করলেন, কার সঙ্গে কী কথা হল, সিনেমার গল্প থেকে শুরু করে জীবনের সুখ-দুঃখের প্রতিটা গোপন অনুভূতি—সবই তিনি স্বকণ্ঠে রেকর্ড করে রাখতেন সেই টেপ রেকর্ডারে। মানুষ যেমন ব্যক্তিগত ডায়েরিতে মনের কথা লিখে রাখে, উত্তমকুমার তেমনই ক্যাসেটে বন্দি করে রাখতেন তাঁর দিনলিপি।

ঘনিষ্ঠরা জানাতেন, এই ‘অডিও ডায়েরি’টি কখনো চোখের আড়াল হতে দিতেন না উত্তম। ফলে টেপ রেকর্ডারটি চুরি হওয়ার পর মানসিকভাবে একেবারে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। কারণ, তাঁর কাছে সেটা শুধু একটি সাধারণ যন্ত্র চুরি হওয়া ছিল না; চুরি হয়ে গিয়েছিল তাঁর গোপন জীবনের কতগুলো না-বলা অধ্যায়!

Follow Us