
বলিউডে বিনোদ খান্নার নাম মানেই একসময়ের স্টাইল আইকন, সুপারস্টারডম আর রহস্যে মোড়া এক জীবন। তবে এবার তাঁর জীবনের এমন এক অধ্যায় সামনে এসেছে, যা নতুন করে তৈরি করেছে কৌতূহল।
সম্প্রতি বিনোদ খান্নার দ্বিতীয় স্ত্রী কবিতা খান্না জানিয়েছেন, ওশোর আশ্রমে যোগ দেওয়ার আগেই অভিনেতা মুম্বইয়ের গিরগাঁও চৌপাট্টি সমুদ্রসৈকতে এক ধরনের নগ্ন ধ্যানের অনুশীলনে অংশ নিতেন। তাঁর দাবি, সেখানে একাধিক মানুষ একসঙ্গে পোশাক ছাড়াই ধ্যানে বসতেন। অভিনেতার এই অভিজ্ঞতার কথা শুনলে যা আজকের আধুনিক প্রজন্মের অনেকেই বেশ অবাক হন।
অনেকেরই ভাবতে অবাক লাগে যে মানুষটা একসময় বড় পর্দায় রোম্যান্টিক হিরো, স্টাইল আইকন আর বক্স অফিসে একাই রাজত্ব করতেন, সেই দাপুটে অভিনাতা হঠাৎ সবকিছু ছেড়ে আত্মিক মুক্তির খোঁজে বেরিয়ে পড়েন। জানেন কেন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অভিনেতা? পরিবারের একের পর এক মৃত্যুর ধাক্কা বিনোদ খান্নাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল বলে জানিয়েছেন কবিতা। সেই শোক, একাকিত্ব আর জীবনের অর্থ খোঁজার তাগিদেই তিনি ধীরে ধীরে গ্ল্যামারাস বলিউড জীবন থেকে সরে এসে আধ্যাত্মিকতার পথে হাঁটেন।
বলিউডের শীর্ষে থাকা একজন অভিনেতা যখন হঠাৎ সবকিছু ছেড়ে ওশোর আশ্রমে চলে যান, তখন স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছিল চাঞ্চল্য। শোনা যায় ওশোর আশ্রমে গিয়ে বিনোদ খান্না শুধু সাধক হননি তিনি নাকি মালী হিসেবে কাজ করেছেন, সাধারণ জীবনযাপন করেছেন এবং তারকা পরিচয়ের গ্ল্যামার প্রায় ভুলেই গিয়েছিলেন। বলিউডের ঝলমলে দুনিয়া থেকে সরে গিয়ে তাঁর এহেন জীবনযাপন অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য।
কবিতা খান্নার মতে, নগ্ন ধ্যান বা এই আধ্যাত্মিক অনুশীলনের পেছনে কোনও ভোগবাদী উদ্দেশ্য ছিল না। বরং এটি ছিল নিজেকে খোঁজার, মানসিক শান্তি পাওয়ার এবং জীবনের অর্থ বোঝার এক গভীর চেষ্টা।