
২০ জানুয়ারি বিধায়ক-অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে মডেল-অভিনেত্রী হৃতিকা গিরির বিয়ের ছবি দেখা যায় সোশ্যাল মিডিয়াতে। এদিকে হিরণের প্রথম বউ অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, হিরণের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি। ২১ জানুয়ারি হৃতিকা আইনি পদক্ষেপ করার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। ২১ জানুয়ারি রাতেই আনন্দপুর থানায় মেয়েকে নিয়ে অনিন্দিতা পৌঁছে যান। তিনি হিরণের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছেন।
রাতে TV9 বাংলাকে অনিন্দিতা বললেন, ”আমি এটাই অভিযোগ করেছি, দীর্ঘ দিন ধরে হিরণ আমাকে এবং আমার মেয়েকে মানসিক নির্যাতন করত। ও এসে বলত, ওই মেয়েটা ওকে ব্ল্যাকমেল করছে। আমি প্রশ্ন করতাম, ‘তোমাকে কি সবাই ব্ল্যাকমেল করে? আর তুমি ইনোসেন্ট?’ ওই মেয়েটা বিভিন্ন ছবি দিত, যাতে আমার মেয়ে সেগুলো দেখে। মেয়ে দেখছে প্রায় তারই বয়সী একজন মেয়ের সঙ্গে বাবার সম্পর্ক! এই মানসিক নির্যাতনের বিষয়টা নিয়েই অভিযোগ জানিয়েছি।”
অনিন্দিতা বলেন, ”আমার মেয়ের কাছে এসে একবার হিরণ বলেছিল, ‘ও তো প্রায় তোমারই বয়সী, তুমি ওর সাইকোলজি বুঝতে পারবে, আমাকে বলো তো, কেন ও এরকম ব্ল্যাকমেল করছে?’ তাতে মেয়ে বলে, ‘তুমি একজন বাবা হয়ে এসে আমাকে এসব কেন বলছ?”’ এরপর তিনি বলেন, ”আমি মেয়েকে নিয়ে যেতে চাইনি। কিন্তু ও যেতে চেয়েছিল। তখন আমার মনে হল, যার বাবা এরকম কুলাঙ্গার, তাকে জীবনে আরও অনেক কিছুর মুখোমুখি হতে হবে। তাকে গার্ড করার জন্য বাবা থাকবে না। এখন থেকেই শক্ত হতে শিখুক মেয়ে। তাই মেয়েকে নিয়ে যেতে রাজি হতাম।”
এরপর এক অদ্ভুত ঘটনার কথা বলেন অনিন্দিতা। এরপর শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে যখন ‘ভালোবাসা ভালোবাসা’ ছবির শুটিং করছিলেন হিরণ, তখন মেয়ের বয়স এক বছর। সে ব্রেস্টফিড করে। অনিন্দিতার কথায়, ”আমরা তখন বেহালাতে থাকি। একজন আমাদের বাড়িতে এসেছিলেন। আমার তখন অনেকটা ওজন বেড়ে গিয়েছিল। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, ‘উনি কে’? হিরণ তখন বলে, ‘এটা আমার দিদি আর দিদির মেয়ে’! পরে বলছে, ‘মামাই তুমি বোঝো না, এখানে সবাই, হরনাথদা (চক্রবর্তী) আমাকে বলে দিয়েছে যে, ‘একদম মেয়ে আর বউয়ের পরিচয় দেবে না’। এতে হিরোদের দাম পড়ে যায়। আমি তখন ভাবছি, তাই হয়তো হবে। হিরণ ঠিক বলছে। তখন বয়স এত কম ছিল, ও যা বলত, তাই শুনতাম। অনেক পরে আমার জ্ঞান হয়েছে। ও যে এতটা ম্যানুপুলেট করতে পারে সেটা বুঝেছি।”