কাঞ্চনের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতার প্রশ্ন, ‘কেন এমন অপমানজনক কথা লেখা হয়েছে?’
Kanchan Mullick: কাঞ্চন মল্লিকের বিয়ের রিসেপশনের প্ল্যাকার্ডে লেখা, "Please! Press And Personal Securities And Drivers Are Not Allowed. Inconvenience Is Regretted”। তা নিয়ে সরব হয়েছে নেটমহলের একটা বড় অংশ। ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে বহু গাড়ির চালক এবং নিরাপত্তারক্ষীর। TV9 বাংলার কাছে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন খোদ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের নিরাপত্তরক্ষী রাম সিং এবং গাড়ির চালক বাণীব্রত বন্দ্যোপাধ্য়ায়। এসব দেখে কী বললেন কাঞ্চনের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা দাস।

স্নেহা সেনগুপ্ত
অনিন্দিতা দাস। কাঞ্চন মল্লিকের প্রথম স্ত্রী। সাড়ে সাত বছর সংসার করেছিলেন তাঁরা। তিনিও অভিনেত্রী। বর্তমানে ‘তুমি আশেপাশে থাকলে’ ধারাবাহিকে অভিনয় করছেন তিনি। ২০১০ সালে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে তাঁদের। তার অল্প সময় পরই অভিনেত্রী পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিয়ে করেন কাঞ্চন এবং সেই বিয়েও ভেঙে যায় ১০ বছরের মধ্যে। ১০ জানুয়ারি, ২০২৪ সালে পিঙ্কিকে ডিভোর্স দিয়েছেন কাঞ্চন। ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪-এই চর্চিত প্রেমিকা অভিনেত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজকে বিয়ে করেছেন ৫৩ বছরের কাঞ্চন (শ্রীময়ীর বর্তমান বয়স ২৬)। সেই বিয়ের রিসেপশন ছিল ৬ মার্চ, ২০২৪ সালে। সেখানে প্ল্যাকার্ডে লেখা, “Please! Press And Personal Securities And Drivers Are Not Allowed. Inconvenience Is Regretted” (এই নিষেধবার্তার বাংলা অনুবাদ করলে হয়, “প্লিজ়! সংবাদমাধ্যম, ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী এবং গাড়ির চালকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ…”) তা নিয়ে সরব হয়েছে নেটমহলের একটা বড় অংশ। ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে বহু গাড়ির চালক এবং নিরাপত্তারক্ষীর। TV9 বাংলার কাছে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন খোদ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের নিরাপত্তরক্ষী রাম সিং এবং গাড়ির চালক বাণীব্রত বন্দ্যোপাধ্য়ায়। দুঃখ পেয়ে তাঁরা বলেছেন, “আমরাও মানুষ এবং আমরা অপমানিত।”
এ সমস্তটাই নজরে এসেছে কাঞ্চনের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা দাসের। তিনি বলেছেন, “আমি সমস্ত পেশাকেই অসম্ভব শ্রদ্ধা করি। যতক্ষণ মানুষ খেটে খাচ্ছেন, আমার কাছে সোজা হিসেব, ততক্ষণ সেই মানুষটা অত্যন্ত সম্মানীয় ব্যক্তি। তিনি একটি কোম্পানির সিইও হতে পারেন। আবার আমার পাশের বাড়ির হাউজ় মেইড (house maid)-ও হতে পারেন। সৎ পথে থেকে রোজগার করে নিজেদের সংসার করছে তাঁরা, যা আমার কাছে অত্যন্ত সম্মানের।”
কাঞ্চন মল্লিক সম্পর্কে কোনও কথাই বলতে চাননি অনিন্দিতা। কেবল একটাই কথা বলেছেন, “আমাকে যদি এমন কোনও বিয়েবাড়িতে আমন্ত্রণ জানানো হয়, আমি প্রথমে জানতে চাইব, কেন এমন অপমানজনক কথা লেখা হয়েছে? তারপরও যদি কোনও লজিক খুঁজে পাই, তা হলে বিষয়টিকে মান্যতা দেব। আর যদি যুক্তি না পাই, সেখান থেকে সোজা বাড়ি চলে যাব।”
প্রসঙ্গত, কাঞ্চন-শ্রীময়ীর রিসেপসনের ভেন্যুর বিতর্কিত নিষেধবার্তাকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে ফুঁসে উঠেছেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। তিনি লিখেছেন, “শুনেছি ব্রিটিশ শাসন চলাকালীন বিভিন্ন ক্লাবে লেখা থাকত INDIAN AND DOGS ARE NOT ALLOWED। অর্থাৎ, ভারতীয় এবং কুকুরদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। আমার এটা দেখা সেই কথাই মনে হল… একটাই কথা আমি বলব CLASS MATTERS, ক্লাস ম্যাটার্স।” অন্য দিকে, যাবতীয় দায় ভেন্যু কর্তৃপক্ষের ঘাড়ে দিয়ে কাঞ্চন মল্লিক TV9 বাংলাকে বলেছেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে কাউকে অপমান করিনি অনুষ্ঠানে। আমার কাছে কেয়ার গিভার মানুষ, ড্রাইভার মানুষ, পাইলট মানুষ, নিরাপত্তারক্ষীরা মানুষ। আমি তাঁদের নিজে থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একেবারেই অপমান করতে চাইনি। তা-ও বলছি, যদি কারও খারাপ লেগে থাকে, আমি তাঁদের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।”





