সিনেমার শুটিংয়ে রোজ কেন গায়ত্রী মন্ত্র শুনতেন আমির খান? কারণটা চমকে দেওয়ার মতো
ছবির সঙ্গে যুক্ত যে সমস্ত কলাকুশলী আজ আর বেঁচে নেই, তাঁদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন আমির। তিনি জানান, আজ এই সাফল্য যতটা তাঁদের, ততটাই সেই মানুষগুলোরও, যাঁরা পর্দার সামনে বা পেছনে থেকে এই ছবিটিকে কালজয়ী করে তুলেছিলেন।

ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে ‘লগান’ কেবল একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং একটি মাইলফলক। সেই ঐতিহাসিক সফরের ২৫ বছর উদযাপনে সম্প্রতি একজোট হয়েছিলেন পরিচালক আশুতোষ গোয়ারিকর এবং অভিনেতা-প্রযোজক আমির খান। তাঁদের সঙ্গে রেড লরি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে উপস্থিত ছিলেন রঘুবীর যাদব, অখিলেন্দ্র মিশ্র, আমিন হাজি এবং প্রদীপ রাম সিং রাওয়াতের মতো ছবির সেই জনপ্রিয় মুখেরা। দীর্ঘ সময় পর ভুবন আর তাঁর দলকে একসঙ্গে দেখে মঞ্চে যেন ফিরে এসেছিল সেই পুরনো চম্পানের গ্রাম।
ছবির প্রদর্শনী শেষে পরিচালক আশুতোষের সঙ্গে দীর্ঘ আড্ডায় মাতেন আমির খান। দীর্ঘ কয়েক দশকের এই যাত্রাপথের কথা বলতে গিয়ে বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’। ছবির সঙ্গে যুক্ত যে সমস্ত কলাকুশলী আজ আর বেঁচে নেই, তাঁদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন আমির। তিনি জানান, আজ এই সাফল্য যতটা তাঁদের, ততটাই সেই মানুষগুলোরও, যাঁরা পর্দার সামনে বা পেছনে থেকে এই ছবিটিকে কালজয়ী করে তুলেছিলেন।
এদিন আমির খান শুটিং চলাকালীন এক অদ্ভুত ও অনুপ্রেরণামূলক অভ্যাসের কথা ফাঁস করেন। তিনি জানান, শুটিং চলাকালীন প্রতিদিন ভোরে ইউনিটের সবাই মিলে যখন সেটের দিকে রওনা হতেন, তখন বাসে করে যাওয়ার সময় সবাই মিলে ‘গায়েত্রী মন্ত্র’ শুনতেন। আমির বলেন, “শুরুতে এটি একটি সাধারণ অভ্যাসের মতো মনে হলেও, ধীরে ধীরে তা আমাদের নিত্যদিনের রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল।” এই বিশেষ রীতিটি গোটা টিমের মধ্যে এক ইতিবাচক মানসিকতা তৈরি করত এবং একে অপরের প্রতি টান ও বন্ধন আরও মজবুত করেছিল।
আজ থেকে আড়াই দশক আগে মুক্তি পাওয়া এই ছবি অস্কারের দৌড়েও শামিল হয়েছিল। ব্রিটিশদের কর বা ‘লগান’ মকুবের দাবিতে এক কাল্পনিক গ্রামের ক্রিকেট ম্যাচের সেই রোমহর্ষক লড়াই আজও দর্শকদের রক্তে দোলা দেয়। ২৫ বছর পরেও আমির এবং আশুতোষের জুটির সেই ম্যাজিক যে বিন্দুমাত্র ফিকে হয়নি, উৎসবের মেজাজই তা প্রমাণ করে দিল।
