Irrfan Khan: কেন নামের পাশে খান পদবি লিখতেন না ইরফান?
Irfaan Khan About his Surname: সেখানে এক ব্যতিক্রমী লড়াই লড়েছিলেন অভিনেতা ইরফান খান। তাঁর কাছে ‘খান’ পদবিটি ঐতিহ্যের চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছিল তাঁর অভিনয়। আর সেই কারণেই জীবনের এক পর্যায়ে নিজের নাম থেকে পদবি সরিয়ে দেওয়ার এক সাহসী ও সচেতন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।

বলিউড এবং স্বজনপোষণ এই দুই শব্দ যেন একে অপরের পরিপূরক। যেখানে বংশপরিচয় আর বড় বড় নামই সাফল্যের চাবিকাঠি বলে মনে করা হয়, সেখানে এক ব্যতিক্রমী লড়াই লড়েছিলেন অভিনেতা ইরফান খান (Irfaan Khan)। তাঁর কাছে ‘খান’ পদবিটি ঐতিহ্যের চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছিল তাঁর অভিনয়। আর সেই কারণেই জীবনের এক পর্যায়ে নিজের নাম থেকে পদবি সরিয়ে দেওয়ার এক সাহসী ও সচেতন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।
বলিউডে সলমন বা আমিরের মতো তারকারা যখন তাঁদের পারিবারিক ঐতিহ্যের ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে সাফল্য পেয়েছেন, ইরফান তখন ছিলেন তার ঠিক বিপরীত মেরুতে। তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষের পরিচয় হওয়া উচিত তাঁর নিজের কাজের মাধ্যমে, তাঁর পূর্বপুরুষদের পরিচয়ে নয়। বড় নামের মোহ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
কেন তিনি পদবি ত্যাগ করেছিলেন?
এক সাক্ষাৎকারে এই প্রশ্নের উত্তরে ইরফান বলেছিলেন, “আমি যখনই নিজের জন্মস্থানে যাই, দেখি মানুষ আজও আমাদের পূর্বপুরুষদের কীর্তি নিয়ে আলোচনা করতে ব্যস্ত। তাঁরা আমাদের পূর্বপুরুষদের জন্য গর্ববোধ করেন, কিন্তু নিজেদের পছন্দ বা সিদ্ধান্তের জন্য কোনও দায়বদ্ধতা তাঁদের নেই। এটা দেখে আমার খুব খারাপ লাগে। অতীতের ওপর দাঁড়িয়ে বেঁচে থাকার কোনও অর্থ নেই। আপনি বেঁচে আছেন, আপনার বর্তমান কাজই সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আপনার সিদ্ধান্তই আপনার জীবন গড়ে তুলবে।”
নিজের পদবি সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি কি কোনও আকস্মিক ভাবনা ছিল?
ইরফান জানিয়েছিলেন, এটি ছিল একটি সম্পূর্ণ সচেতন সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, “একটা সময় আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে আমরাই আমাদের জীবনের গল্পের লেখক। আমাদের পছন্দগুলোই সেই গল্প লেখে। আমার প্রেক্ষাপট বা আমার বংশপরিচয় নয়, বরং আমার কাজ এবং আমার নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোই আমাকে নিজের জীবনের গল্প লিখতে সাহায্য করবে।”
বলিউডের সেই পরিচিত ছক থেকে বেরিয়ে ইরফান প্রমাণ করে দিয়েছিলেন যে, অভিনেতা হতে গেলে ‘খান’ পদবিধারী পরিবারে জন্মানোর চেয়েও ‘খান’ হিসেবে নিজের কাজ দিয়ে মানুষের মনে জায়গা করে নেওয়া অনেক বেশি জরুরি। আজ তিনি নেই, কিন্তু তাঁর সেই আদর্শ ও কাজ আজও নতুন প্রজন্মের অভিনেতাদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে রয়েছে।
