
বলিউডের তিন খান শাহরুখ, সলমন আর আমির তিনজনের ব্যক্তিত্বই আলাদা, কাজের ধরনও ভিন্ন। আর এই তিন সুপারস্টারের সঙ্গেই কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে রানি মুখোপাধ্যায়ের। এঁদের বন্ধুত্বের গল্প কাজের অভিজ্ঞতার গল্প জানার জন্য উৎসাহী হয়ে থাকেন অনেকেই। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রানি মুখোপাধ্যায় খুলে বললেন শাহরুখের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বের অজানা দিকের গল্প। অনেকেরই মনে প্রশ্ন কেন কিং খান রানিকে বেবি বলে ডাকেন? এবার সেই রহস্যই ফাঁস করলেন অভিনেত্রী। পাশাপাশি সলমন খান, আমির খানকে নিয়েও বন্ধুত্বের, কাজের মজার গল্প ভাগ করে নিয়েছেন রানি।
রানির কথায়, শাহরুখ খান তাঁকে ‘বেবি’ বলে ডাকেন নিছকই আদরের জন্য। বহু বছর ধরে তাঁদের বন্ধুত্ব, কাজের অভিজ্ঞতা আর পারস্পরিক বিশ্বাস এতটাই গভীর যে, এই ডাকটা তাঁর বড্ড বেশি কাছের। রানি বলেন, শাহরুখ সবসময়ই সহ-অভিনেতাদের প্রতি যত্নশীল এবং মজার মানুষ। সেটে থাকলে তিনি এমন পরিবেশ তৈরি করেন, যাতে সবাই স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। ‘বেবি’ ডাকটা তাঁর কাছে কখনও অদ্ভুত লাগেনি, বরং সেটা এক ধরনের স্নেহের প্রতীক বলেই মনে করেন অভিনেত্রী। শাহরুখের সঙ্গে তাঁর কাজের স্মৃতি তুলে ধরে রানি জানান, দুজনের মধ্যে সবসময়ই একটা খোলামেলা সম্পর্ক ছিল। স্ক্রিনের বাইরে বন্ধুত্বের প্রতিফলনই তাঁদের জুটিকে দর্শকের কাছে এত জনপ্রিয় করেছে।
অন্যদিকে, সলমন খান সম্পর্কে বলতে গিয়ে রানি জানালেন একেবারে অন্য অভিজ্ঞতা। তাঁর মতে, সলমন সেটে ঢুকলেই যেন আলাদা একটা আকর্ষণ তৈরি হয়। শুধু ভক্তরা নন, টেকনিশিয়ান থেকে শুরু করে সহ-অভিনেতা সবাই অজান্তেই তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকেন। রানি বলেন, সলমনের ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস আর স্টার পাওয়ার এতটাই শক্তিশালী যে, তাঁকে উপেক্ষা করা প্রায় অসম্ভব। তাঁর উপস্থিতিতে সেটের এনার্জিই যেন বদলে যায়। রানি আরও বলেন, সলমন ভীষণ আত্মবিশ্বাসী এবং নিজের মতো করে কাজ করতে ভালোবাসেন। সেটে তাঁর উপস্থিতি অনেক সময়েই পুরো টিমের এনার্জি বদলে দেয়।
আর আমির খান সম্পর্কে বলতে গিয়ে রানি তুলে ধরেছেন একেবারে ভিন্ন চিত্র। তাঁর মতে, আমির ভীষণ পারফেকশনিস্ট। চরিত্র, একটি দৃশ্য কিংবা সংলাপ সবকিছুতেই তিনি নিখুঁত না হলে থামেন না। রানি বলেন, আমিরের সঙ্গে কাজ মানেই নিজের সেরাটা দেওয়ার চ্যালেঞ্জ নেওয়া। তিনি প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয়ে মনোযোগ দেন এবং চরিত্রে ঢোকার জন্য গভীর প্রস্তুতি নেন। এই কারণেই তাঁর কাজ দর্শকে মনে কাছাকাছি পৌঁছে যায়।
এই তিন তারকার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাই তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম সেরা অধ্যায় বলে মনে করেন রানি।