
মা হওয়ার আনন্দ নয়, বরং এক চরম মৃত্যুভয় গ্রাস করেছিল প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে। সম্প্রতি এক পডকাস্টে নিজের জীবনের অন্ধকারতম অধ্যায় নিয়ে মুখ খুললেন গ্লোবাল আইকন। সারোগেসির মাধ্যমে মা হলেও, কন্যা মালতী মেরি চোপড়া জোনাসের জন্মের সময় যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে তাঁদের যেতে হয়েছিল, তা শুনলে শিউরে উঠবেন।
সাধারণত একটি সুস্থ শিশুর জন্ম হয় ৪০ সপ্তাহের পর। কিন্তু প্রিয়াঙ্কা জানিয়েছেন, মাত্র ২৭ সপ্তাহে অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই জন্ম হয় মালতীর। জন্মের সময় তার ওজন ছিল মাত্র ৭৬৬ গ্রাম। চিকিৎসকরাও নিশ্চিত ছিলেন না যে সে আদৌ বেঁচে ফিরবে কি না। প্রিয়াঙ্কার কথায়, জন্মের সময় মালতীর গায়ের রঙ নীলচে-বেগনি হয়ে গিয়েছিল। হাসপাতালের ইনকিউবেটরে শুয়ে থাকা একরত্তি মেয়ের অবস্থা দেখে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন নিক ও প্রিয়াঙ্কা। অভিনেত্রী স্মৃতিচারণ করে বলেন, “হাসপাতালের নার্সদের আঙুলের চেয়েও ছোট ছিল আমার মেয়ের মুখ। আমরা ১০০ দিন ধরে প্রতিদিন নিয়ম করে হাসপাতালে যেতাম এবং কাঁচের ওপারে ওর বেঁচে থাকার লড়াই দেখতাম।”
নিক-প্রিয়াঙ্কা চেয়েছিলেন এই কঠিন সময়টি ব্যক্তিগত রাখতে। তবে খবর লিক হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়েই তিন ঘণ্টার নোটিশে প্রিয়াঙ্কা নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় মালতীর আগমনের কথা জানান। সেই সময় তাঁরা নিজেরাও জানতেন না মালতী শেষ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবে কি না।
লন্ডনের বাড়িতে একটি বড় শিবের মূর্তি আছে প্রিয়াঙ্কার। জীবনের কঠিনতম সময়ে সেই ঈশ্বরের কাছেই নিজেদের সঁপে দিয়েছিলেন এই তারকা দম্পতি। প্রিয়াঙ্কা জানান, “আমি এমনিতে খুব শক্ত মনের মানুষ, সব সমস্যার সমাধান খুঁজি। কিন্তু মালতী যেদিন প্রথম সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরল, সেদিন শিবমূর্তির সামনে বসে আমি অঝোরে কেঁদে উঠেছিলাম। তবে সেটা ভয়ের কান্না ছিল না, ছিল এক অসীম কৃতজ্ঞতার কান্না।”
বর্তমানে মালতী মেরি সম্পূর্ণ সুস্থ এবং বাবা-মায়ের চোখের মণি। তবে সেই ১০০ দিনের যন্ত্রণার স্মৃতি আজও তাড়া করে বেড়ায় ‘দেশি গার্ল’-কে।